ঢাকা, শুক্রবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আরো ২০ লাখের অপেক্ষায় ছিলেন ডিআইজি পার্থ!

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-৩০ ১০:৫০:৫০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৮-১৩ ৫:১৩:২০ পিএম

এম এ রহমান মাসুম: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক ও সিলেটের ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিকের বাসা থেকেই ঊদ্ধার হয় ৮০ লাখ টাকা। চলতি মাসেই তার কাছে আরো আসার কথা ছিল ২০ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে এক কোটি টাকা হলেই টাকার ঠিকানা হতো ভারত। যা কিনা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে তার এক আত্মীয়ের কাছে পাচারের পরিকল্পনা ছিল ডিআইজি প্রিজনস পার্থের। সে উদ্দেশ্যেই এতো টাকা বাসায় জমা করছিলেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে এমনই তথ্য ছিল বলে জানা গেছে।

যার বাড়িতে এত টাকা জমা থাকে তিনি কিনা চড়েন বন্ধুর দেয়া গাড়িতে ও থাকেন শাশুড়ির বাড়িতে। ব্যাংকে তার কোনো টাকা জমা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। যা জমিয়েছেন সবই বাড়িতে। এ ছাড়াও উত্তরায় আছে একটি ফ্ল্যাট। যার মালিকও নন তিনি। তাও মায়ের নামে। পার্থ গোপাল বণিকই এর প্রকৃত মালিক বলে মনে করছে দুদক।

কত মহৎ ব্যক্তিই তিনি। বন্ধু, মা ও শাশুড়ির জন্য কত কিছুই না করলেন! তারপরও শেষ রক্ষা হলো না। দুদক আশা করছে তদন্তে আরো সম্পদের তথ্য পাওয়া যাবে।

দুদকের মামলা ও বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা যায়, উদ্ধারকৃত টাকার মধ্যে তার ফ্ল্যাটের দেয়াল কেবিনেট হতে হলুদ গেঞ্জি মোড়ানো ছিল ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ টাকা স্কুল ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়। এসব টাকার মধ্যে ১০০০ টাকার ৫৯০০টি নোট এবং ৪২০০টি ৫০০ টাকার নোট ছিল। অভিযানকালে তার ফ্ল্যাটের নিচে একটি গাড়ি পাওয়া যায়। যার নম্বর হচ্ছে ঢাকা মেট্রো-গ ৩৯৫৬০০। তার ড্রাইভার পার্থ গোপালকে মালিক হিসাবে সনাক্ত করলেও তিনি দাবি করেন এটা তার বন্ধুর গাড়ি। তিনি ব্যবহার করেন মাত্র।

তিনি যে বাড়িতে থাকেন তার মালিকও তিনি না। অথচ ভবনের ফ্ল্যাটে শুরু থেকেই তিনি বাস করছেন। এ বিষয়ে দুদক টিমের কাছে বলেন, এটি তার শ্যালিকা তার শাশুড়ি মঞ্জু সাহার নামে ক্রয় করেছেন। নর্থ রোড, ধানমন্ডি, কলাবাগানে এই বাড়ি। তিনি এখানে বাস করেন মাত্র। অথচ এ বাড়িতে তার শাশুড়ি কখনোই বাস করেননি। দুদকের ধারণা এটার মূল মালিক তিনিই।

জানা যায়, সম্প্রতি তিনি দুই দফায় ৮০ লাখ টাকা বাসায় আনেন। প্রথম দফায় ৩০ লাখ টাকা বাসায় এনে তার স্ত্রীর কাছে রাখতে দেন। পরবর্তী সময়ে বাকি ৫০ লাখ টাকা নিজে আলমারিতে রাখেন। যার খবর তার স্ত্রী জানতেন না বলে জানেন পার্থ।

এদিকে পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। জব্দকৃত অর্থ নিজের দখলে নিয়ে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের অবস্থান গোপন ও পাচারের উদ্দেশ্যে নিজ বাসায় লুকিয়ে রেখে দণ্ডবিধির ১৬১, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বলেন, ‘চট্টগ্রাম কারাগারে দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধান পর্যায়ে তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার অভিযান চালানো হয়। ঊদ্ধারকৃত টাকার বিষয়টি তিনি (পার্থ) স্বীকার করেছেন। অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনুসন্ধানী কর্মকর্তা জব্দকৃত টাকার বৈধ উৎস খুঁজে পাননি।

এর আগে ২৯ জুলাই দুপুরে পার্থ গোপাল বণিককে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক কার্যালয়ে আনা হয়। মামলা দায়ের করার পর আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে পার্থের পক্ষে তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আটকের সময় ডিআইজি পার্থ দাবি করেছিলেন, ৮০ লাখ টাকা তার বৈধ আয় থেকে অর্জিত। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা শাশুড়ি দিয়েছেন, বাকি ৫০ লাখ টাকা সারাজীবনের জমানো টাকা। গাড়ির মালিকও তিনি নন, তার বন্ধুর গাড়ি তিনি ব্যবহার করেন। যে বাড়িতে থাকেন তা তার শাশুড়ির বাড়ি।

অন্যদিকে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফ বলেছেন, তার ঘোষিত আয়কর ফাইলে এ টাকার ঘোষণা নেই। তাই আমদের মনে হয়েছে এই টাকা অবৈধ আয় থেকে অর্জিত। আর আমরা মনে করি গাড়ি ও বাড়ি তার নিজেরই, সে অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে তাদের নামে ক্রয় করেছেন মাত্র।

২৮ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে অভিযানে যায় দুদক। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

ডিআইজি প্রিজন পার্থ কুমার বণিক ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামে ডিআইজি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নগদ ৪৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ও প্রায় পাঁচ কোটি টাকার নথিপত্রসহ ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রামের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেন, উদ্ধার করা টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা তার এবং বাকি ৩৯ লাখ টাকা পার্থ কুমার বণিক ও চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুলাই ২০১৯/এম এ রহমান/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন