ঢাকা, বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নন টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি পেতে অনলাইন নিবন্ধন লাগবে

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০২ ৯:১৫:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৬ ৮:০৩:৫৩ পিএম

এখন থেকে নন টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা প্রাপ্তির জন্য রপ্তানিকারকদের অনুকূলে জিএসপি জারির কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

নন টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে এক সময় বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) পেত না। এখন এসব পণ্য জিএসপি, সার্ক অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তির (সাপটা) আওতায় সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু জিএসপি জারির কার্যক্রম এখন থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে এ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য রপ্তানিকারকদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানায়, অনলাইন সেবা প্রাপ্তির জন্য রপ্তানিকারকদের অবশ্যই রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে নিবন্ধন করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নম্বর থাকবে না, সেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইন সেবা গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন না এবং ওসব প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে কোন সেবা প্রদান করা হবে না মর্মে ব্যুরো থেকে অবহিত করা হয়েছে।

ব্যুরো সূত্র আরো জানায়, নন টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিকারকদের অনেকেরই অনলাইন নিবন্ধন নেই। আবার অনেকে এই নিবন্ধন করলেও হালনাগাদ করা নেই। দু’ ধরনের রপ্তানিকারকেরই এখন থেকে হালনাগাদ অনলাইন নিবন্ধন লাগবে। এ বিষয়ে ব্যুরো থেকে চলতি সপ্তাহে একটি নির্দেশনাও জারি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিবি’র পরিচালক (নীতি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ইপিবি’র নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগীয় ও শাখা অফিসে নন-টেক্সটাইল পণ্যের অনুকূলে জিএসপি, সাপটা, চায়না সিও এবং কোরিয়া সিও গ্রহণকারী রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন সনদ নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্ব ফি ব্যতিত রপ্তানিকারকরা সনদ নবায়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যারা এই সময়ে আবেদন করতে পারবেন না, তারা পরবর্তীতে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত বিলম্ব ফি হিসেবে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা জমা দিয়ে সনদ নবায়ন করতে হবে।

নবায়নকৃত সনদ ছাড়া কোনো রপ্তানিকারক রপ্তানির ক্ষেত্রে জিএসপিসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো পাবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশের বেশি এসেছে এ খাত থেকে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তায় বড়ো অগ্রগতি করেছে। এর ইতিবাচক বার্তা গিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এছাড়া সম্প্রতি চীন থেকে সরে আসা অর্ডারের একটি অংশ বাংলাদেশও পেয়েছে। ফলে তা তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

তবে সরকার তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি নন টেক্সটাইল পণ‌্য রপ্তানিতেও উৎসাহ দিচ্ছে। এ জন্য এ খাতের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় রপ্তানি ট্রফিও দেয়া হয়। কিন্তু রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, গত অর্থবছরে ইতিবাচক রপ্তানি আয় হয়েছে, পাশাপাশি এ খাতের রপ্তানিও বেড়েছে। সরকার চাইছে এ খাতের রপ্তানি আরো বাড়াতে।

তথ্য মতে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয় ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি ডলারের পণ্য। সেই হিসেবে, গত অর্থবছর রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। কিন্তু আলোচ্য সময়ে বিশেষায়িত টেক্সটাইল ৩১ শতাংশ রপ্তানি বাড়ে বলে ইপিবি’র বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


ঢাকা/হাসান/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন