ঢাকা, শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘স্বেচ্ছাচারিতায়’ বিপর্যস্ত সেচ্ছাসেবক লীগ

এসকে রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৪ ৬:৪৬:১২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৮ ৯:০৭:৩১ পিএম

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় সংগঠনের তকমা পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ দুই নেতার ‘স্বেচ্ছাচারিতার চর্চা’ আর ‘কর্তৃত্বপরায়নতা’ সংগঠনটির সাংগঠনিক তৎপরতায় স্থবিরতা এনে দিয়েছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এর ফলে ক্ষোভে-অভিমানে অনেকেই সংগঠনে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আগামী সম্মেলনে এমন নেতৃত্ব আনার দাবি জানিয়েছে তারা, যারা সংগঠনটির কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা কাটিয়ে গতি আনবে। পাশাপাশি তৃণমূলের দিকে নজর দেবে।

চার বছর আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সম্মেলনের দেখা নেই। কেন্দ্র থেকে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তাতে কর্নপাত না করার অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে। সংগঠনের এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন করার নির্দেশ আসায় নড়েচড়ে বসেছেন সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সম্মেলনের তারিখ নির্ধারনে দু’একদিনের মদ্যে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন বলে রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার।   

২০১২ সালে ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পান মোল্লা আবু কাওছার। আর সাধারণ সম্পাদক হন পঙ্কজ দেবনাথ। দায়িত্ব পাওয়ার পর কার্যত কারিশমাটিক কোনো কিছু দেখাতে পারেননি এই দুই নেতা। বরং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়েছে।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সংগঠটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের একচ্ছত্র আধিপত্যে চেইন ইন কমান্ড প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম। সাংগঠনিক তৎপরতা প্রায় নেই বললেই চলে। ক্ষোভ আর অভিমানে উচ্চ নেতাদের অনেকে এখন নিস্ক্রিয়। দায়িত্বের সাত বছরে এখনো মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দিতে পারেনি তারা। স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সারাদেশে যে কমিটিগুলো করে গিয়েছিলেন সেই কমিটিগুলো এখনো রয়েছে। এগুলোর অনেকগুলো ১০ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ন হয়েছে। তৃণমূল নেতা তো বটেই কেন্দ্রীয় অনেক নেতাও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দেখা পান না।

দলীয় একটি সূত্র বলছে, সংগঠন গতিশীল করার চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত থেকেছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতা। চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে যুবলীগের মতো স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতার নামও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এদের বিরুদ্ধে গণপূর্ত ভবন, শিক্ষা ভবন, বিদ্যুৎ ভবন, খাদ্য ভবনসহ বিভিন্ন জায়গায় টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সংগঠন ও দলীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে তারা টেন্ডার বাগিয়ে নেন। অর্থ-বৈভবে কয়েকজন নেতা অধিকাংশ সময় বিদেশ থাকেন এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির মত ঢাকা মহানগর কমিটিরও জীর্ন দশা। সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০০৬ সালের ৩১ মে। সেই সম্মেলনে উত্তরের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোবাশ্বের চৌধুরী আর সম্পাদক হয়েছিলেন ফরিদুর রহমান খান। আর স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন দেবাশীষ বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুর রহমান টিটু। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ১১ বছর।

মহানগরে ২০০৯ সালের পর থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি উঠলেও তা আর হয়ে ওঠেনি। উত্তরের সভাপতি-সাধারণ দু’জনই এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর। সংগঠনের কর্মকাণ্ডের চেয়ে সিটি করপোরেশনের কাজ নিয়েই তাদের ব্যস্ততা। জেলা কমিটির মতো মহানগরের বিভিন্ন থানা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত কমিটি নেই দীর্ঘদিন। কেউ কেউ পদ নিয়ে বসে আছেন ১০-১৫ বছর।

কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সম্মেলন করতে চিঠি পেয়েছি। দু’একদিনের মধ্যেই আমরা বসবো। হাতে সময় আছে, সেহেতু ভালো প্রস্তুতি নিয়ে সম্মেলনে হাত দিতে চাইছি।’ তবে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে বা শেষের দিকে সম্মেলন আয়োজনের চিন্তার কথা জানান তিনি।

১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অন‌্যতম সহযোগী সংগঠন এটি।


ঢাকা/পারভেজ/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন