ঢাকা, বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সাদের জয়ের অপেক্ষায় জাপা

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৪ ৮:৩১:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৬ ৮:০১:৪৬ পিএম
রংপুর-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারে রাহগির আল মাহি এরশাদ (সাদ এরশাদ)

রাত পোহালেই রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন। পিতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শুন্য আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন রাহগির আল মাহি এরশাদ (সাদ এরশাদ) ।

এ আসনে সাদ এরশাদ নতুন প্রার্থী হলেও নির্বাচনী প্রচারণায়, অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন তিনি। লাঙলের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন। বিনয়ী ও সাদামাটা প্রার্থী হিসেবে নারী পুরুষসহ আসনের সব স্তরের ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছেন  তিনি। প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতির ইমেজের ওপর ভর করে উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন এমনটাই প্রত্যাশা জাতীয় পার্টি নেতা-কর্মীদের।

নির্বাচনে অংশ নেয়া দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতী রাইজিংবিডিকে জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় সাদ এরশাদকে মনে হয়নি নতুন প্রার্থী। সুন্দর প্রচারণ, বিনয়-নম্রতা দিয়ে এখানকার আবাল বৃদ্ধ বণিতার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। সাড়া জাগিয়েছেন তরুণ ভোটারদের মাঝে। পিতা এরশাদের মতো সাদকেও আপন করে নিয়েছে এলাকাবাসী। যখন যেখানে গেছে লাঙলের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, সাদ এরশাদের বিজয় উৎসবের অপেক্ষা করছে জাতীয় পার্টি। সুষ্ঠু নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ লাঙল বিপুল ভোটে জয়ী হবে।

জানা গেছে, দলের একাধিক শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী এই উপ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। তাদের সবাইকে ডিঙ্গিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন এরশাদের বড় ছেলে রাহগির আলমাহি এরশাদ । এ কারণে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ শুরু থেকেই তার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। খোদ রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনে সাদের পক্ষে কাজ করবেন না বলেও জানিয়ে দেন। এতে কিছুটা বিপাকে পড়লেও সাদ এরশাদ ভেঙ্গে পড়েননি। বরং আস্তে আস্তে সবাইকে তিনি আপন করে নেন। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সিটি মেয়র মোস্তফা, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীরসহ দলের বিবাদমান নেতা-কর্মী সবাই এখন সাদের পক্ষে একাট্টা।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি এমপি, সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউএম তাজ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুর রহমান নুরু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনসহ দলের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটের প্রখ্যাত অলি হজরত শাহ জালাল (রাদি) এর মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন সাদ। তারপর নেমে পড়েন নির্বাচনী এলাকায়। রাতদিন অলিগলি চষে বেড়ান। লাঙলের ভোট চাইতে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই এলাকায় হৈ চৈ ফেলে দেন তিনি। আস্তে আস্তে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সাদের সঙ্গে নির্বাচনী গণসংযোগে মিশে যান। এখানকার নারী পুরুষসহ তরুণ  ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেন সাদ।

দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আন্তরিক উপস্থিতিতে সাদের নির্বাচনী প্রচারে এলাকায় লাঙলের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জাপা প্রার্থী সাদ এরশাদ দেখা করে অভিমান ভাঙান রংপুরের মেয়র মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের। তখন থেকে সিটি মেয়রের নির্দেশে তার অনুসারীসহ দলের বিবাদমান সব গ্রুপই সাদের পক্ষে গণসংযোগে নেমে পড়েন।

এরশাদ পুত্রের জয়ের জন্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ সব নেতারা এখন একাট্টা। জিএম কাদের শুক্রবার ঢাকায় চলে আসলেও দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি এমপিসহ দলের নেতারা রংপুরে অবস্থান করছেন।

রংপুর থেকে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা জানান, এই আসন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আসন। এখানকার মানুষ উন্নয়নের জন্য এরশাদের মতো তার পুত্র সাদ এরশাদকে বেছে নেবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে লাঙল জয়ী হবে। তিনি নির্ভয়ে ভোট দিতে ভোটারদের আহ্বান জানান।

জানা গেছে, রংপুর উপনির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সাদ এরশাদকে সমর্থন দিয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এই সমর্থন লাঙলের বিজয়ে বাড়তি সহায়তা করবে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। তবে জাতীয় পার্টি থেকে বহিস্কৃত, স্বতন্ত্র প্রার্থী চাচাতভাই আসিফ শাহরিয়ার সাদ এরশাদের জন্য কিছুটা গলার কাটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমানকে খুব একটা ফ্যাক্টর মনে করছেন না তারা। কারণ এই আসন জাতীয় পার্টির। এরশাদের জনপ্রিয়তা এখানে আকাশ ছোঁয়া। তাই এখানকার ভোটাররা এরশাদের লাঙলকে বেছে নিতে ভুল করবেন না বলেও জানান স্থানীয় নেতারা।

রংপুর থেকে স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সেক্রেটারি বেলাল হোসেন জানান, লাঙলের পক্ষে এমন জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, আসিফ শাহরিয়ার বলেন আর রিটা রহমান বলেন সবই ভেসে যাবে। সাদ এরশাদের বিজয় সুনিশ্চিত। তার জয়ের জন্য জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা অপেক্ষা করছেন।

সাদ এরশাদ লাঙল প্রতীক নিয়ে শুধু এলাকায় চষে বেড়াননি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছিলেন বেশ সরব। তিনি সেখানে ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

কয়েকদিন আগে ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় রংপুরবাসী আসসালামুল আলাইকুম। আমি আপনাদের সন্তান, সাদ এরশাদ বলছি। ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনে লাঙল প্রতীকে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে রংপুরবাসীর স্বপ্নপূরণের সুযোগ করে দেবেন। বাবার মতোই আমি আপনাদের সেবা করে যেতে চাই।’

সাদ এরশাদ তার ফেসবুকে পেজে যখনি স্ট্যাটাস দেন, সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মী ভোটাররা লাঙলের পক্ষে সাড়া দিয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে শত শত ফলোয়ারের কমেন্টস এ ভরে যায় তার পেজ। শুধু সাদ এরশাদ নয়, তার লাঙলের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের অনলাইন এক্টিভিটিসদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। তারাও আশা করছেন এরশাদের আসনে তার ছেলে সাদ এরশাদই জয়ী হবেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন শনিবার সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ১৭৫টি ভোটকেন্দ্র ভোট গ্রহণ করা হবে। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)।

রংপুর সদর-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৮২৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৪০১ জন।

নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ, দলের মনোনয়ন না পেয়ে এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি (কার) প্রতীক নিয়ে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রিটা রহমান, আম প্রতীক নিয়ে এনপিপির শফিউল আলম, দেওয়াল ঘড়ি নিয়ে খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল, মাছ প্রতীক নিয়ে গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ বায়েজীদ লড়ছেন।


ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন