ঢাকা, বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মন্ত্রিপরিষদ ভবন নির্মাণ কাজ কার্যত বন্ধ

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৫ ৮:৩৮:২১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৮ ৯:০৩:৩১ পিএম

নতুন মন্ত্রিপরিষদ ভবন (কেবিনেট ভবন) নির্মাণে  দুই'শ পঁচাত্তরটি পাইলিংয়ের মধ্যে দুই'শ পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিয়মিত শ্রমিকদের টাকা ঠিকাদার দিতে না পারায় অনেকেই চলে গেছেন। একারণে এখন নির্মাণ কাজ কার্যত বন্ধ।

গত বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে রাইজিংবিডিকে হতাশকন্ঠে কথাগুলো বললেন নির্মাণ শ্রমিক আব্দুর রহিম। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডে কাজ করেন। কেবিনেট ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছে এ প্রতিষ্ঠান।

এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এ কোম্পানিটির মালিক। ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হন তিনি। গ্রেপ্তার হওয়ার পর কয়েক দিন কাজ হলেও এখন কাজ বন্ধ রয়েছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, সচিবালয়ের ভেতরে ২০ তলা কেবিনেট ভবনের কাজ আড়াই মাস আগে শুরু হয় এবং পুরোদমে চলছিলো। টানা দিন-রাত চলে কর্মযজ্ঞ। শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর কাজের গতি কমতে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের আরিশ্রমিকের টাকা দিতে না পারায় কাজ এখন বন্ধ রয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেখভাল করছেন। তারা বসে নেই, একটু একটু কাজ করছেন।

সূত্র জানায়, শামীমের জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড কেবিনেট ভবন নির্মাণের কাজ পায়। ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৫০ কোটি টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারি শুরু ধরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এর কাজ শেষ করার কথা। ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করতে চলতি অর্থবছরে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অত্যাধুনিক এ ভবনে কেবিনেটের (মন্ত্রিপরিষদ) সব কাজ হওয়ার কথা। ভবনের কাজ দ্রুত শুরু করার জন‌্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আগাম ২৫ কোটি টাকা দেওয়া হয় এ কোম্পানিকে। কিন্তু কাজ শুরু  হতে না হতেই থেমে গেল নির্মাণ কাজ।

 

 

এ বিষয়ে কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক আবুল কাশেম রাইজিংবিডিকে বলেন,  ‘শামীম স্যার, তার স্ত্রীসহ কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করায় শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের টাকা দেয়া যাচ্ছে না। একারণে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অনেকই চলে যাওয়ায় নির্মাণ কাজ বলতে গেলে বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ২০ সেপ্টেম্বর স্যার (জি কে শাসিস) গ্রেপ্তার হওয়ার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে না। টাকার অভাবে কাজ বন্ধ।’

এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিকে কাজ দেয়া হয়নি, একটি ঠিকাদার কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। কাজেই জিকেবি কোম্পানি কাজ বন্ধ করলে বিকল্প পথ দেখা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে দেখা হবে কাজ কত শতাংশ শেষ হয়েছে। কাজ পাওয়া কোম্পানি কাজ করতে না পারলে যে পরিমান কাজ করেছে তার বিল দিয়ে অন্য কোম্পানিকে কাজ দেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, জিকে শামীম সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনের কাজও করছেন।

রাজধানীর প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. আফসার উদ্দিন মাস্টার। নিকেতনে শামীম জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামে ঠিকাদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর সাথে হাত মিলিয়ে ক্ষমতার পালাবদলে ২০০৮ সালের পরে তিনি ভোল পাল্টে যুবলীগ নেতা বনে যান।

এরপর শুধু কাজ আর কাজ পেতে থাকে জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি। গণপূর্তে কোন ঠিকাদার কাজ না পেলেও তার কাজের অভাব হয়নি।




ঢাকা/আসাদ/শাহনেওয়াজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন