ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিএনপিকে সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ

এসকে রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৫ ৯:৪৯:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৬ ৭:২৫:৫৭ পিএম

ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে সরকার।

নির্বাচন বিতর্কিত করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে আন্দোলন বা পরিস্থিতি গরম করার কোনো ইস্যু তুলে দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। এজন্য নির্বাচনী আচরণ বিধি থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণা সর্বত্র সতর্ক পা ফেলছে দলটি। নেতাকর্মীদেরও সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দলটির নেতারা বলছেন, সিটি নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ কেস স্টাডি হিসেবে নিয়েছে। এজন্য দুই সিটিতে দুজন ক্লিন ও জনপ্রিয় ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই মুহূর্তে দলের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে চান তারা। কারণ  হিসেবে দলটির নেতারা বলছেন, সিটি নির্বাচনে হারলে বা জিতলে সরকারের কিছু যায় আসে না। এই নির্বাচনের ফল সরকারের কোনো প্রভাব ফেলবে না। গত দুটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মাঝে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই ধারণা পাল্টাতে চায় সরকার। জয়-পরাজয় যাই আসুক সরকার অবাধ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।

দলের নেতাদের বিশ্বাস, গত কয়েক বছরের যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে জনগণ নৌকার পক্ষে রায় দেবে। ঢাকায় একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যা এর আগে কখনো হয়নি। এর মধ্যে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। আর কিছু প্রকল্প শিগগিরই শুরু হবে।

দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনী আচার-আচরণ মেনে চলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দল থেকে বলা হয়েছে ভোট ‘ভিক্ষা করতে’। সেই অনুযায়ী দুই সিটিতে ভোট চাইছে নেতাকর্মীরা। এজন্য সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আপত্তি মেনে নিয়ে চুপ রয়েছে দলটি। নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতে সায় আছে দল ও সরকারের। এখানে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এজন্য ইভিএম নিয়ে বিএনপির আপত্তির পর আওয়ামী লীগ বলেছে, ইসি যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতে আপত্তি নেই তাদের। ইসি চাইলে পুরনো পদ্ধতিতেও নির্বাচন হতে পারে।

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত হোক সরকার চায় না জানিয়ে সেতৃমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিস্কারভাবে বলে দিয়েছেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। ফেয়ার নির্বাচন হওয়ার জন্য যতো সহযোগিতা লাগবে তা দিয়ে যাবে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।

‘আমরা নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচন করবো। নির্বাচনে কোনো বাড়াবাড়ি হবে না। জনগণ যাতে খুশি তাকে ভোট দেবে। সরকারি দল হিসেবে আমরা জনগণের রায় মাথা পেতে নেব। আমরা চাই একটা ভালো নির্বাচন হোক। প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত নির্বাচন করতে চাই না। আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।’

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে সিটি নির্বাচন নিয়ে দলের ভাবনার কথা জানতে চাইলে তারা জানান, এই মুহূর্তে দল ও সরকারের সামগ্রিক চোখ উন্নয়নে। গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ যে উন্নয়ন  করেছে সরকারের এই মেয়াদে সেগুলো শেষ করাই চ্যালেঞ্জ। এই মুহুর্তে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে আন্দোলন বা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। বিএনপি যাতে কোনো অভিযোগ করতে না পারে সেভাবেই সিটি নির্বাচন  হবে। এজন্য নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ষষ্ঠ দিনে এসেও কোনো ধরনের বড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। উল্টো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যে ধরনের অভিযোগ করছে তা তাদের পুরনো অভ্যাস। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই তারা আগে থেকেই ভোট কারচুপি, আচরণ বিধি লঙ্ঘন, প্রচারণা চালাতে না দেয়া এসব অভিযোগ করে আসছে। সিটি নির্বাচনেও কারচুপির অভিযোগ আনা হলেও পরে দেখা গেছে সেখানে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। মূলত সরকারকে চাপে রাখতেই এসব বক্তব্য দেয় দলটির নেতারা। তবে মূল কথা, এবারের সিটি নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং দল ও সরকার সেই বিষয়ে আন্তরিক। সরকার চাইছে, নির্বাচনে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে নির্বিঘ্নে ভোটাররা তাদের রায় দিতে পারবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস এবং আতিকুল ইসলামও। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে একটি ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন শেখ তাপস।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কিন্তু নেমে গেছে। একটা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের আমেজ বজায় রেখেছে। আমরা আশা করি, অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনটা সম্পন্ন হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে।’

জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে কোথাও যাতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন না হয় সেটি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনিটরিং টিম। কোনো স্থান থেকে এই ধরনের অভিযোগ আসলে সতর্ক হতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। দলের মনোনীত প্রার্থীদেরও বিষয়ে সেই নির্দেশনা দেয়া আছে যে, প্রচার-প্রচারণা দায়িত্ব যারা থাকবেন কোনোভাবেই যাতে তা প্রশ্নের মুখে না পড়ে। বুধবার প্রচার  চালাতে গিয়ে এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন শেখ ফজলে নূর তাপস।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের কাজে যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয় সেজন্য আমাদের মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। সেদিকে আমরা খুব সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। যেখানে আমরা জানতে পারছি, সেখানে সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও সার্বিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক যে নির্বাচনী মনিটরিং টিম করেছি তারাও কাজ করছে। মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য কিছুটা হয়তো জনগণের অসুবিধা হতে পারে। তবে যা হোক আমরা এই বিষয়টি আরো সচেতভাবে দেখবো।’

নির্বাচন নিয়ে দল ও সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আবদুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার ও আওয়ামী লীগ বদ্ধপরিকর। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা, সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদেরও আমরা এই বার্তা দিয়ে দিয়েছি যে, নিময় মেনে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে।’

তিনি বলেন, বিএনপি যেসব অভিযোগ করছে সেসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সব নির্বাচনের আগে তাদের অভিযোগ করার অভ্যাস পুরোনো। এ নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।  

 

ঢাকা/পারভেজ/সাইফ

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও