ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিতে হবে অত্যাধুনিক হাসপাতাল

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৬ ৮:৫৯:০৪ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৭ ৯:২৩:২২ এএম

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) চট্রগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে ‘চট্টগ্রাম সিআরবি রেলওয়ে হাসপাতাল’ সংলগ্ন অব্যবহৃত জমির উপর হবে অত্যাধুনিক হাসপাতাল।

জানা গেছে, ৫০০ বেডের বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ১০০ আসনের একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

পিপিপি’র আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

পিপিপি এর আওতায় ‘চট্টগ্রাম সিআরবি রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন অব্যবহৃত জমির ওপর ৫০ আসনের একটি মেডিক্যাল কলেজ এবং ৫০ আসনের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং বিদ্যমান রেলওয়ে হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গত ২০১৩ সালের ১৪ আগষ্ট সিসিইএ সভায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ হতে প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ১০০ সিট বিশিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনে অনুমোদনের জন্য ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই তারিখের সিসিইএ’র সভায় উপস্থাপন করা হয়।

পরে বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত বিষয়ে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করার জন্য সুপারিশ করা হয় এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং টিইসি’র সুপারিশমতে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বেসরকারি অংশীদার ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির সদয় বিবেচনা ও পুনঃঅনুমোদনের উপস্থাপন করা হবে।

কমিটির বৈঠকের জন্য তৈরি সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করেও বাংলাদেশ রেলওয়ে অলাভজনক অনেক পরিকল্পনা পরিচালনা করে আসছে। তাছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের বাজেট থেকে বৈদেশিক ঋণের সুদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য স্কুল ও হাসপাতাল পরিচালনা করা হয়। ফলে রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য বেড়েই চলেছে। এ পার্থক্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিবহনখাতে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্যখাতেও আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ প্রকল্পটি গ্রহণ  করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রস্তাবিত অবকাঠামোর ডিজাইন,নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচলন ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ৫০ বছর মেয়াদি চুক্তি সম্পাদন করবে। ৫০ বছর পর বেসরকারি অংশীদার পিপিপি চুক্তি অনুযায়ী উন্নয়নকৃত সাইট, ফিকচার্স, ফিটিংস ও যন্ত্রপাতিসহ অবকাঠামো বাংলাদেশ রেলওয়েকে হস্তান্তর করবে। ফলে চট্রগ্রাম অঞ্চলের জনগণের আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের লিজ নীতিমালা অনুযায়ী উদ্যোক্তা সংস্থাকে রেলওয়ের খালি ভূমি লিজ দেওয়া হবে।

সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়েছে, হাসপাতাল বাস্তবায়ন হলে রেলওয়ের  কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। এছাড়া, চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের চাকরির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। ফলে বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা পালন করবে।

অন্যদিকে, এ হাসপাতালের জন্য এলাকার বেশ কিছু ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি হবে। যেমন-ফার্মেসি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জেনারেল স্টোর, ফুড স্টোর ইত্যাদি। যা এলাকার জনগণের উন্নত জীবনযাপনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ও তৎপরবর্তী মেরামত সংরক্ষণ ও পরিচালনায় ব্যয় হবে প্রায় ৯৮৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে উক্ত অর্থ সংস্থান করতে হবে যা রেলওয়ের বাজেটের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রজেক্ট কোম্পানি বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষরের আগে আপফ্রন্ট প্রিমিয়াম বাবদ পাঁচ কোটি টাকা প্রদান করবে। এছাড়া প্রজেক্ট কোম্পানি ষষ্ঠ বৎসর থেকে প্রতি বৎসর এক কোটি ৫০ লাখ টাকা হারে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লিজ মূল্য প্রদান করবে। যা প্রতি তিন বৎসর অন্তর অন্তর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি হবে।

এছাড়া, প্রজেক্ট কোম্পানি চতুর্থ ও পঞ্চম বৎসর বাংলাদেশ রেলওয়েকে ৫ লাখ টাকা হারে লিজ মূল্য পরিশোধ করবে। প্রথম তিন বৎসর প্রজেক্ট কোম্পানি হাসপাতালের প্রথম ফেজ নির্মাণ করবে বিধায় প্রথম তিন বৎসরের মূল্য পরিশোধের বিধান রাখা হয়নি।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপে পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়ন ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পরিবেশের উপর ঝুঁকিপূর্ণ কোন প্রভাব পড়বেনা। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিবেশের উপর যে মৃদু প্রভাব পড়বে তা মূল্যায়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (ইএমপি) দাখিল করেছে।


ঢাকা/হাসনাত/জেনিস

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও