ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বাণিজ্য মেলার নিপুণ শিল্পী তরুণ স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মান

এম মাহফুজুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-০৫ ১:৪৩:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-০৫ ৪:৩৪:০০ পিএম
২০২০ সালে ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সেরা প্যাভিলিয়নের দুটি পুরস্কার হাতে স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মান। ছবি: আরজু হোসাইন

স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মান। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়ন ডিজাইন এবং নির্মাণের নিপুণ শিল্পী তিনি।

ছয় বছর ধরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের প্যাভিলিয়ন ডিজাইন ও নির্মাণে যুক্ত আছেন তরুণ এই স্থপতি।

প্রতি বছরই স্বনামধন্য এই গ্রুপের দুই ব্র্যান্ড ওয়ালটন এবং মার্সেল প্যাভিলিয়ন সেরা পুরস্কার পেয়ে আসছে। সর্বশেষ এ বছর মার্সেল পেয়েছে সেরা সাধারণ প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরির প্রথম পুরস্কার। আর সেরা প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে ওয়ালটন।

সাদী মোহাম্মদ রুম্মানের জন্ম বরিশাল সদরে। শিক্ষক মা-বাবার ছোট সন্তান তিনি। ২০০৫ সালে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর বরিশাল হাতেম আলী কলেজ থেকে ২০০৭ সালে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন উচ্চ মাধ্যমিক। ২০১৩ সালে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় গ্রাজুয়েশন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে একটি আর্কিটেকচার কনসালটেন্সি ফার্মে কর্মজীবনের সূচনা করেন রুম্মান। কয়েক মাস পর অন্য আরেকটি কনসালটেন্সি ফার্ম হয়ে ২০১৪ সালের নভেম্বরে যোগ দেন বাংলাদেশি মাল্টিন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটনে। সেখানে কাজে লাগিয়েছেন তার মেধা-মনন-সৃজনশীলতা। যা শিখেছেন চর্চা করে যাচ্ছেন সুচারুভাবে।

তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ওয়ালটনের চাকুরি ছেড়ে উড়াল দেন জাপানে। ‘উডেন স্ট্রাকচার অ্যান্ড এসথেটিক’-এর একটি প্রোজেক্টে ৫ মাস কাজ করেন সেখানে।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে পুনরায় দেশে ফেরেন তিনি। ফিরে এসে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ‘ইনটেরিয়র ক্যাফে স্টুডিও’ নামে একটি কনসালটেন্সি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন রুম্মান। এই ফার্মের হয়ে বর্তমানে ওয়ালটন গ্রুপসহ দেশের সেরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আর্কিটেকচারাল স্ট্রাকচার এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের কাজ করছেন তিনি।

এবারের বাণিজ্য মেলায় স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মানের ডিজাইনে তৈরি ওয়ালটন প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন

 

২০১৫ সাল থেকেই বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন এবং মার্সেল প্যাভিলিয়নের ডিজাইন এবং নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আছেন স্থপতি সাদী রুম্মান। গত ৭ বছরে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে তিন বার সেরা প্যাভিলিয়ন এবং দুই বার দ্বিতীয় সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পায় ওয়ালটন।

২০১৯ সালে ওয়ালটন এবং মার্সেল প্যাভিলিয়নের ডিজাইন এবং নির্মাণকাজ করেন তিনি। সে বছর গ্রিন টেকনোলজি সমৃদ্ধ ইকো-ফ্রেন্ডলি দৃষ্টিনন্দন এই প্যাভিলিয়ন দুটির মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পায় ওয়ালটন। আর জেনারেল প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা হয় মার্সেল।

চলতি বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৫তম আসরেও দৃষ্টিনন্দন ও শৈল্পিক ডিজাইনের তিনটি প্যাভিলিয়ন তৈরি করেন তিনি। এর দুটি ওয়ালটনের। আর একটি মার্সেলের। বরাবরের মতো এবারো বাজিমাত।

ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময় ওয়ালটনে কাটিয়েছেন বলে তার ক্যারিয়ারের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এই কোম্পানিতেই হয়েছে। ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার (কারখানা) ডিজাইন টিমে কাজ করেছেন রুম্মান।

ফ্যাক্টরি বিল্ডিং ডিজাইন এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ছাড়াও ওয়ালটনের হয়ে অসংখ্য অফিস ও ফ্লোরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছেন তিনি। সারা দেশে প্রায় ৩০০টির বেশি ওয়ালটন প্লাজা, ৭৩টিরও বেশি সার্ভিস পয়েন্ট ডিজাইন এবং কনস্ট্রাকশন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

ঢাকার বাণিজ্য মেলার পাশাপাশি ওয়ালটনের পক্ষে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়ন ডিজাইনের কাজ করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে চীনের ক্যান্টন ফেয়ার (দুইবার), নাইজেরিয়ার লাওস ফেয়ার, ভারতের শিলিগুঁড়ি, ভুটান, নেপাল ইত্যাদি।

এছাড়া, বাংলাদেশ অ্যাগ্রোপ্রোসেসিং ফুড অ্যাসোসিয়েশনসহ (বাপা) বেশ কয়েকটি প্যাভিলিয়নের ডিজাইন এবং তৈরির কাজ করেছেন তিনি।

বাণিজ্য মেলায় স্থপতি সাদী মোহাম্মদ রুম্মানের ডিজাইনে তৈরি মার্সেল প্যাভিলিয়ন

 

ওয়ালটনের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রসঙ্গে তরুণ এই স্থপতি বলেন, দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করা অনেক সম্মানের। আমাকে কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সম্মানিত পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম স্যারকে। আমার পেশাগত জীবনের বড় অংশ আমি ওয়ালটনে কাটিয়েছি। এখানের বড় বড় প্রজেক্টগুলোতে কাজের সুযোগ পেয়েছি। যা আমার ক্যারিয়ারে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। আমার বড় বড় সাফল্যগুলোও তাই ওয়ালটনের মাধ্যমেই এসেছে। সেই সঙ্গে কাজের প্রতি আমার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রম আমাকে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে বলে আমি মনে করি।

সবসময় পরিবারের সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, স্থাপত্যশিল্পের ছাত্র হিসেবে আমি প্রতিনিয়ত শিখছি। ছোটবেলা থেকেই আমার মা-বাবা ছবি আঁকা কিংবা পেইন্টিংয়ে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। নিজের কাজ যখন পুরস্কৃত হয় তখন কাজের প্রতি আগ্রহ আরো কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। পুরস্কার পাওয়া সবসময়ই কাজের স্বীকৃতি। আর ওয়ালটন এবং মার্সেলের নির্মিত প্যাভিলিয়ন আমার সন্তানের মতোই। সন্তানকে যেমন যত্ন করা যায় ঠিক তেমনই যত্ন করে এই প্যাভিলিয়ন দুটি নির্মাণ করে আসছি।

মাত্র ২৯ বছর বয়সি এই গুণী স্থপতি বর্তমানে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘ইনটেরিয়র ক্যাফে স্টুডিও’র মাধ্যমে ব্যস্ত রয়েছেন বিভিন্ন সৃষ্টিশীল ডিজাইন এবং নির্মাণ কাজ নিয়ে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিজের প্রতিষ্ঠানটিকে আরো ভালো করে গড়ে তোলা।

দুইজন আর্কিটেক্ট, কয়েকজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং সাইট সুপারভাইজারদের নেতৃত্বে পুরোদমে চলছে এই ফার্ম। স্থাপত্যকলায় নিজের প্রতিষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান তিনি।


ঢাকা/অগাস্টিন সুজন/জেনিস