ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ০২ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

চাহিদা বেশি, তাই দামও

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৪ ১১:০০:০৩ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৪ ১:০২:৫৭ পিএম

ফুল- শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও পবিত্রতার প্রতীক। যে কোনো উৎসবে ফুলের ব‌্যবহার অপরিহার্য। তাই উৎসব এলেই ফুলের দোকানগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়।

আজ বসন্তের শুরু, একইসাথে ভালোবাসা দিবসও। দুটি উৎসব একই দিনে হওয়ায় তাই সরগরম হয়ে উঠেছে ফুলের বাজার। চাহিদাও কয়েকগুণ।

শুক্রবার রাজধানীর অন্যতম বড় ফুলের বাজার শাহবাগে গিয়ে দেখা যায় সেখানে নানা বয়সী যুগলদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতা-বিক্রতাদের জোরালো গুঞ্জণে জমে ওঠা বেচাকেনার ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিক্রেতারা বেজায় খুশি। ইচ্ছে মতো দাম হাঁকাচ্ছেন। বেচা-বিক্রি ভালো হওয়ায় খোশ মেজাজে আছেন। ক্রেতারাও জানেন আজ ফুলের দাম বাড়তি। তাই অবাক না হয়ে সাধ‌্যানুযায়ী সাধ মেটাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ‌্যে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় সব ধরনের ফুলের দাম কয়েকগুণ বেশি। দাম বেশি হলেও বসন্ত বরণের উৎসব এবং ভালোবাসার কাছে যে বাড়তি দাম কোনো বিষয়ই নয়, তারই প্রমাণ মেলে এ ভিড়ে।

শাহবাগের ফুলের দোকানীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, গতকাল থেকে নির্ঘুম রাত কেটেছে তাদের। কারণ, শুক্রবার সকাল থেকে শুরু বসন্তদিন আর ভালবাসা দিবস। সবমিলিয়ে খুব ব্যস্ততা তাদের। এরই ফাঁকে কথা হয় ফুল বিক্রেতা নোমানের সঙ্গে।

 

 

তিনি বলেন, ‘ভোর থেকে চারুকলায় বসন্ত উৎসব হয়। এরপর বইমেলা খোলে। সবমিলিয়ে এ দিনটির জন্য আমাদের আলাদা প্রস্তুতি থাকে। তবে এবার একসঙ্গে বসন্ত ও ভালবাসা যোগ হওয়ায় অন্যান্যবারের চেয়ে বিক্রি অনেক ভাল। সারাদিন পড়ে আছে, আরো বিক্রি হবে।’

ফুলের দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময়ে আমরা যে ফুল ১০ টাকায় বিক্রি করেছি সেটি আজ ৫০টাকা বিক্রি করছি। কারণ, সারাবছর সেভাবে ফুল বিক্রি হয় না। বিশেষ দিনটিকে উপলক্ষ‌্য করে আমরা অনেক লোকসানও দিয়ে থাকি। তবে আজকের দিনটা ভিন্ন। আজ ভোর থেকে ভালই সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি ভাল বিক্রি হবে।’

এই দুইদিনের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিক্রেতারা আগে থেকেই বেশি করে ফুল নিয়ে এসেছেন। অন‌্যান‌্য দিনে গ্লাডিওলাস প্রতি স্টিক পাঁচ টাকা, গাঁদা তিন/চার টাকা, গোলাপ পাঁচ/সাত টাকা, রজনী গন্ধ‌্যা দুই/তিন টাকা করে বিক্রি হলেও এদিন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাদের কিনতেও হয়েছে বেশি দামে বলে জানান পাইকারি বিক্রেতারা।

নিয়মিত বিক্রেতার পাশাপাশি এসেছেন নতুন বিক্রেতাও। যাদের অনেকেই মৌসুমী খুচরা ফুল বিক্রেতা। চেরি, গাঁদা, জিপসি, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধ‌্যা- এর মধ্যে বসন্তে চাহিদা বেশি হলুদ রঙের গ্লাডিওলাস, গাঁদা ও জিপসি ফুলের। জানান হেঁটে হেঁটে খুচরা ফুল বিক্রেতা হারুন।

 

 

তিনি বলেন, ‘আমি যখন যে মৌসুম আসে তখন সেটি নিয়ে কাজ করি। পাইকারি দোকান থেকে কিনে নিজে বিক্রি করি। আমি যে কয়টা কিনেছি আজকে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত সেগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। শাহবাগ থেকে আবার নতুন করে কিনতে হবে। ৪০, ৫০, ৮০ যার কাছে যেমন পারছি বিক্রি করছি। কেউ দামাদামি করে কেউ কেউ করে না।’

রাকিবুল ইসলাম ও শারমিন জাহান সোহানা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু ছিলেন। সেখান থেকে তাদের প্রেম, মন দেয়া নেয়া, সংসার। এখন দুজনই সরকারি কর্মকর্তা। বন্ধ পেয়ে ভালবাসার এ দিনে তারা সকালে এসেছেন চারুকলায়। রাকিবুল সোহানার মাথায় ফুলের চাকতি আটকিয়ে দিচ্ছিলেন। কথা হয় তাদের সঙ্গে।

সোহান বলেন, ‘ব্যস্ত থাকি। সুযোগ পেয়ে দুজনেই মাঝে মাঝে বের হই। আজকে আবার ভালবাসা প্লাস বসন্ত। এটা কি আর মিস করা যায়?’

ফুলের দাম কেমন জানতে চাইলে রাকিবুল হেসে বলেন, ‘৮০ টাকা দিয়ে এ চাকতিটি কিনেছি। একটি দিনইতো ওরা ব্যবসা করবে। তবে আরো কম রাখা উচিত।’

শাহীন ও রিমা। তারা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকেন। দুজনকে দুজনকে ফুল দিয়েছেন। তবে কিনে নয়, ফ্রি।

শাহীন বলেন, ‘ভাইরে বেকার জীবনে ৮০ টাকা-১০০টাকা দিয়ে ফুল কেনা দায়। আমরা দুজনেই হলের বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করে রেখেছি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করলাম। দুজনের ভালবাসা বিনিময় করলাম।’



ঢাকা/ইয়ামিন/সনি