ঢাকা, রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সিশেলসে জনশক্তি রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-০৯ ১০:০৯:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১০ ১২:০৮:০৯ এএম

আফ্রিকার দেশ সিশেলসে জনশক্তি রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। দেশটিতে নতুন করে জনশক্তি রপ্তানি শুরুর পর কর্মী যাওয়ার হার কমেছিল। জনশক্তি রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখতে দেশটিতে চাহিদার বিপরীতে কর্মী পাঠানো জোরদার করতে চায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, সিশেলসে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের প্রথম সমন্বয় সভায় সিশেলসে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, বোয়েসেলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, সিশেলসের পক্ষ থেকে সীমিত সংখ্যক কর্মীর চাহিদা পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত ইমেইল যোগাযোগের মাধ্যমে সে দেশ থেকে কর্মীর চাহিদার কথা জানানো হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—যেহেতু বিএমইটি ও বোয়েসেল ছাড়া কোনো রিক্রুটিং এজেন্টের সিশেলসে কর্মী পাঠানোর সুযোগ নেই, তাই এ প্রতিষ্ঠান দুটির মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভিবাসী কল্যাণ অনুবিভাগ) ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এ বিষয়ে বলেন, মাঝে সিশেলসে কর্মী পাঠানো বন্ধ ছিল। ১১ মাস পর দেশটি আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চুক্তিও হয়েছে। এখন থেকে দেশটি বাংলাদেশি কর্মী নেবে। আমরাও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোতে গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, চলতি বছর সাড়ে ৭ লাখ জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দিচ্ছি আমরা। পাশাপাশি, অবৈধ পথে বিদেশ গমনকে আমরা অনুৎসাহিত করছি।

জানা গেছে, বর্তমানে সিশেলসে প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এদের বেশিরভাগই নির্মাণ খাতে কাজ করেন। হোটেল, পর্যটন খাত, স্বাস্থ্যসেবা, হাউজ কিপিং, ভিলা এটেন্ডডেন্ট, কৃষি খামার, পোল্ট্রি খামার প্রভৃতি খাতেও কাজ করছেন বাংলাদেশি কর্মীরা।

এর বাইরে ফিশিং ও ফিশ ইন্ডাস্টিজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং টুরিজম খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাই মন্ত্রণালয় দেশটিতে কর্মী হিসেবে এসব কাজ জানা লোক পাঠাতে চায়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরের পর ডিসেম্বরে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। এক্ষেত্রে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিশেলসে কর্মী পাঠাবে বাংলাদেশ।

সিশেলসে যেতে যা যা লাগবে

সিশেলসের সঙ্গে করা নতুন চুক্তি অনুযায়ী, শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় বোয়েসেল ও বিএমইটির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো যাবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে চাকরির মেয়াদ অনুসারে বৈধ পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, বিএমইটি কর্তৃক ইস্যুকৃত ছাড়পত্র বা স্মার্ট কার্ড, সিশেলস ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ইস্যুকৃত জিওপি। এছাড়া, প্রয়োজন হবে এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্রাক্টের। সিশেলস এমপ্লয়মেন্ট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক সত্যায়িত কন্ট্রাক্টটি বাংলাদেশে অবস্থিত সিশেলস কনস্যুলেট কর্তৃক এনডোর্স করা হবে। এছাড়া, অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্র লাগবে দেশটিতে যেতে।


ঢাকা/হাসান/রফিক