ঢাকা, রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৩ ৫:৫৬:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৩ ৭:৫৫:৩১ পিএম

নতুন নতুন পোশাক কেনার শখ ছিল। এজন্য ঢাকা থেকে প্রায়ই যশোরে শ্বশুর বাড়িতে যাতায়াত করতেন তাজমুন নাহার সুইটি। নিজের জন্য পছন্দের কাপড় কেনার পাশাপাশি কিনতেন আত্মীয়-স্বজন, বান্ধবীদের জন্য। এক সময় এরাই নিয়মিতভাবে তার কাছ থেকে কাপড় নেওয়া শুরু করলেন। তাজমুন নাহার দেখলেন, দিন দিন তার কাছ থেকে কাপড় কেনার জন্য অনেকে আসা শুরু করেন।  তখনই ভাবলেন শুধু ঘর সামলাব না, ব্যবসায় নামব।

এ ভাবনা থেকে ১৯৯৯ সালে মিরপুরে নিজ বাসায় শুরু করেন বুটিকস ব্র্যান্ড ‘সাজবাতি’। এরপর যত দিন গড়িয়েছে ব্যবসার পরিধি বেড়েছে, ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। তবে সংসার সামলে ব্যবসা করাটা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়লেও পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর অনুপ্রেরণায় গতিপথ হারাতে হয়নি কখনো।

সম্প্রতি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসএমই মেলায় সাজবাতি স্টলে কথা হয় উদ্যোক্তা তাজমুন নাহার সুইটির সঙ্গে। আলাপে আলাপে উঠে আসে তার ব্যবসা শুরুর গল্প এবং বর্তমান অবস্থা।

সুইটি বলেন, ‘আগে থেকেই ব্যবসার পরিকল্পনা ছিল। ইচ্ছা ছিল বুটিকস অথবা রেস্টুরেন্টের বিজনেস করব। তবে সে সুযোগ হয়ে উঠছিল না। আমি খুব সৌখিন। নতুন নতুন ডিজাইনের কাপড় কিনতে ভালো লাগত। কখনো কখনো আমি পোশাক কেনার পর আলাদা ডিজাইন করতাম। ৯০ এর দশকে আমি প্রায়ই যশোরে শ্বশুর বাড়িতে কাপড় কেনার জন্য যাতায়ত করতাম। সেখানে নিজের জন্য কেনার পাশাপাশি বন্ধুদের জন্যও কিনতাম। তারা আমার বাসা থেকে নিয়ে যেত।  দেখলাম অনেকেই আমার কাছ থেকে নিচ্ছে। তারপর ১৯৯৯ সালে সাজবাতি শুরু করি। ’

তিনি বলেন, ‘আমার কোনো শো-রুম নেই। সবাই আমার বাসা থেকে পোশাক নিয়ে যায়। আর গত ছয় বছর ধরে বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ করি। এখান থেকে আমার বিক্রি হয়। তবে নিয়মিত ক্রেতাই আমার বেশি। আমার পোশাকগুলো আমি নিজেই ডিজাইন করি। খুব বেশি বানাইও না। এতে ক্রেতারা ইউনিক ডিজাইন পায়।’

শুরুতে তাজমুন নাহার সুইটি যশোর থেকে কাপড় এনে সেগুলোতে আলাদা ডিজাইন করে বিক্রি করতেন। এখন সাজবাতিতে নিয়মিত ১৩ জন কর্মচারি কাজ করেন। ঈদসহ বিশেষ উৎসবে বাড়তি কর্মচারী দিয়ে কাজ করাতে হয় বলে জানান তিনি।

তবে দেশীয় পণ্যে কিছু ক্রেতাদের নাক সিঁটকানো অভ্যাস পীড়া দেয় তাকে। তার মতে, ক্রেতারা মূল্য দিতে চান না মানসম্পন্ন দেশীয় পণ‌্যকে বরং মানহীন বিদেশি পণ্য বেশি দামে তারা কিনতে কার্পণ‌্য করেন না।

তাজমুন নাহার বলেন, অনেকে কলকাতার ফুটপাত থেকে ৩০০ বা ৬০০ রুপি দিয়ে কাপড় কিনে এনে দেশে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করে। দেশি পোশাককে অনেকে বিদেশি বলে বিক্রি করে। ভারতীয় শুনে কোনো চিন্তা না করেই পোশাক কিনে। অথচ আমি বা আমার মতো যারা দেশীয় পোশাক তৈরি ও বিক্রি করি, তাদের পোশাকে যথাযথ মূল্য দিতে চায় না। দেখা গেলো যে খরচ হয়, তার অর্ধেকও দাম অনেকে করে না। এটা খুব খারাপ লাগে।


ঢাকা/নূর/সাজেদ