ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ০২ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা মোকাবিলায় আ. লীগের গুচ্ছ উদ‌্যোগ

এসকে রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৪ ৭:৪৪:৩৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৪ ৯:৩১:২৯ পিএম

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো করোনাভাইরাস বাংলাদেশে বিস্তার ঘটাতে না পারে সেজন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি দলীয়ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ।  এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রচারপত্র বিলি, বিনামূল্যে মাস্ক দেওয়া, লিফলেট বিতরণ ইত্যাদি।

এছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতাকে একপাশে রেখে মূল দলের নির্দেশে সহযোগী সংগঠনগুলোও করোনাভাইরাস বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে জনসচেতনতা তৈরিতে নেমেছে।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।   এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।  সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চীনে মারা গেছে ৩ হাজার ১৭৭ জন।  ইতালিতে ১ হাজার ২৬৬ এবং ইরানে ৫১৪ জন।  এখন পর্যন্ত চীনের বাইরে ১২২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত ৩ জন শনাক্ত হওয়ার পর এর মধ্যে সু্স্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন একজন।  অপর দুজনের মধ্যে একজন সুস্থ তবে বাড়ির অন্য সদস্যরা যেহেতু কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন, এজন্য তাকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।  তবে তিনি সুস্থ এবং হাসপাতালে রয়েছেন।  তৃতীয় ব্যক্তির পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছে।  রোববার আরেকটি পরীক্ষা হবে।  এতে যদি ফল নেগেটিভ আসে তবে তিনিও সুস্থ বলে বাড়ি ফেরার উপযোগী হবেন। এর বাইরে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়তে পারে—সেজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।  বিমানবন্দর, স্থলবন্দরসহ সব জায়গায় কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে।  যেমনটি বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় হাসপাতাল ও ডাক্তার রেডি রাখা হয়েছে।  জেলা উপজেলার কমিটিগুলোও খুব তৎপর। বিদেশ থেকে যারা আসছে তাদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।  কেউ গোপন করলে তথ্য গোপনের যে আইন তা প্রয়োগ হবে।  সেখানে জেল জরিমানার কথা বলা হয়েছে।’

এদিকে বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদেরকে ব্যধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার সকালে ইতালি থেকে ১৪২ জন দেশে এসেছেন। তাদের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আশকোনা হজ ক্যাম্প কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবেও বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগও।  এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী জনগণকে সতর্ক করতে প্রচারপত্র বিলি করছে দলটি।  শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা মহানগর নেতাদের হাতে হ্যান্ডবিল তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  পরে ওই এলাকায় সাধারণ জনগণের হাতে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।  শনিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায়ও একই কর্মসূচিতে অংশ নেন ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশে  যেন এই রোগটি বিস্তৃত হতে না পারে, বাংলাদেশ যাতে সংক্রমিত হতে না পারে, সেজন্য সচেতনতা দরকার।  সচেতনতামূলক বিষয়গুলো স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই একজন ক্যাম্পেইনার হয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত করণীয় নিয়ে, তার প্রতিদিনের বক্তৃতায় বলে যাচ্ছেন।  এতে সতর্কতামূলক একটা আবহ তৈরি হয়েছে।’

করোনাভাইরাস সম্পর্কে ঢাকা ছাড়াও গ্রাম-ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা পর্যায়ে একই ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ।  এরই মধ্যে তৃণমূলের  নেতাদের প্রতি নির্দেশনা পাঠিয়েছে দলটি।  করোনা নিয়ে গুজব তৈরি করে কেউ যাতে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে না পারে—সেই বিষয়ে নজরদারিও রাখছে দলটি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ৯ জুনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সরকারির বাসভবন গণভবনে জরুরি বৈঠকে বসে দলটির কার্যনির্বাহী পরিষদ। এতে দলীয় বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।  মুজিববর্ষ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ যে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলো তাও সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে আলোচনা সভা বাতিল করে দলটি।  তবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি আছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তৃণমূলে সচেতনতা তৈরি করা সবেচেয়ে বেশি জরুরি।  একই সঙ্গে এই মুহূর্তে জনসমাগমের কর্মসূচি না থাকাই উচিত। 

এদিকে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।  এর মধ্যে রয়েছে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।  অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য নেওয়া।  গুজবে কান না দেওয়া প্রভৃতি।

কর্মসূচি নিয়ে জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘দেশব্যাপী যুবলীগের নেতা-কর্মীরা এরই মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে মাঠে নেমে গেছে।  আমরা জনগণকে সচেতন করতে কাজ করছি। একই সঙ্গে বিনামূল্যে মাস্ক দিচ্ছি।  এই কর্মকাণ্ড করোনা নির্মূল হওয়া পর্যন্ত চলবে।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু রাইজিংবিডিকে বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক লিফলেট তৈরি করছি। দু—একদিনের মধ্যেই হাতে আসবে।  তখন দেশব্যাপী আমরা মাঠে নেমে যাবো। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেগুলোতে স্বেচ্চাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিচ্ছে।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন বলেন, করোনাভাইরাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিষয়টিতে খুবই গুরুত্ব সহকারে নিতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  আমরা জনগণকে সচেতন করতে এবং ভাইরাস সম্পর্কে সঠিকভাবে জানাতে কাজ করছি। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য রাইজিংবিডিকে বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ছাত্রলীগ জনসচেতনতা তৈরি করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে মানবিক এই সংকটের সুযোগ নিয়ে গুজব তৈরি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। দ্রুতই আমরা আরো ব্যাপক কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতা তৈরি করতে মাঠে নামবো।


ঢাকা/পারভেজ/সাইফ