ঢাকা, শনিবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৬ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় রিকশাচালক-দিনমজুর

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-৩১ ৬:২৪:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-৩১ ৭:২০:০৩ পিএম
ছবি : শাহীন ভূঁইয়া

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার সবাইকে যথাসম্ভব ঘরে থাকার জন্য বললেও রিকশা চালক, দিনমজুরদের সংসার চালাতে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন। অরক্ষিত অবস্থায় বের হয়ে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তারা নিজের এবং অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছেন প্রতিনিয়ত।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে, সরকারের দেওয়া সাধারণ ছুটি ও গনপরিবহন বন্ধ থাকায় সড়কে রিকশা চলছে সবখানে। সাধারণ ছুটির প্রথম দিকে রাস্তায় কেউ বের না হলেও এখন তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিছু কিছু মানুষ এখন প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। গনপরিবহন না থাকায় তারা রিকশায় চলাচল করছেন।

তবে অনেক রিকশা চালকদের হাতে নেই গ্লাভস, আর মুখেও নেই মাস্ক। তারা সারাদিনে একবার, তাও দুপুরে খাবার সময় সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে থাকেন। এছাড়া সাবান ব্যবহার করেন না।

কথা হয় রিকশা চালক মোহাম্মদ মতি মিয়ার সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন বাসায় থাকার পরে গতকাল ও আজ রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। রিকশা না চালালে খাবো কী?’

করোনা ভাইরাসে ভয় লাগে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো গরীবদের এই সব ভাইরাসে ধরবে না। পারিনা তিন বেলা ভাত খেতে, আবার করোনা ভাইরাস নিয়ে ভাবার সময় আছে নাকি? তার পরে আবার বলছেন, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার জন্য। এত টাকা আছে নাকি যে মাস্ক কিনব, গ্লাভস কিনবো? এতো কিছু কেনার সামর্থ আমার নেই।’

রাজধানীর অধিকাংশ পেট্রোলপাম্প খোলা রাখা হয়েছে। আর এই সকল পেট্রোল পাম্পে অবাধে সিএনজি, মোটরসাইকেল তেল নিয়ে যাচ্ছেন মানুষজন। তবে পেট্রোল পাম্পের শ্রমিকদের যথাযথ প্রোটেকশন ব্যবহার করতে দেখা গেছে। হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক পড়তে দেখা গেছে।

কথা হয় নীলক্ষেতের এক পেট্রোলপাম্প কর্মী সোহেল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে সব কিছু বন্ধ আছে। তাই কাস্টমারও অনেক কম। বন্ধ দেওয়ার প্রথম দুইদিনতো পাম্প বন্ধই ছিলো। এখন কয় দিন ধরে খোলা রাখতে বলেছে মালিক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মালিক প্রথমদিন থেকেই বলে দিয়েছে নিজেদের নিরাপদে রাখতে। যদি কারো শরীর খারাপ হয়, তাহলে কাজে না আসতে। আর আমরা এখানে যারা কাজ করছি, সবাইকে হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, স্যানিটাইজার দিয়েছে। আবার পাম্পের কাছেই সাবান রেখেছে, যা দিয়ে কিছুক্ষন পর পর আমরা হাত ধুয়ে আসি।’

কিন্তু এই নিরাপত্তার বিষয়টি খুব কমই মানছেন রিকশা চালক এবং দিনমজুররা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত রাইজিংবিডিকে বলেন, করোনাভাইরাস এমন একটি ভাইরাস, যেটা নির্মূল করতে হলে আমাদের দেশের সকল শ্রেণির মানুষকেই সচেতন থাকতে হবে। শুধু মাত্র একটি শ্রেণির মানুষ সচেতন থাকবে আর নিম্ন শ্রেণির মানুষ অবাধে ঘুরে বেড়াবে, এমন হতে থাকলে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। যা হবে আমাদের জন্য খুব ভয়াবহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে করোনা ব্যাপক আকারে সংক্রমিত হতে অন্যতম মাধ্যম হতে পারে লোকাল বাস, বাজার ও জনসমাগম। সরকার খুব ভালো করেছে, গনপরিবহন, জনসমাগম বন্ধ করে দিয়েছে। এখন দরকার এটা নিশ্চিত করা যেন কোন শ্রেণির মানুষ রাস্তায় বের না হতে পারে। আর সেজন্য সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের মাঝে ত্রান সামগ্রী পৌছে দেওয়া দরকার। তাহলে তারা আর বের হবেন না আশা করছি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার সঠিক জানা নেই, ধারণা থেকেই বলছি, ঢাকার রিকশার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত কয়েক লাখের মতো মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। আর দিনমজুরের সংখ্যাও নেহাত কম হবে না। আর এই শ্রেণির মানুষ যারা রয়েছেন, তারা তাদের শরীরের প্রতি যত্নবান না। দেখা গেছে তারা জ্বর, কাশি, জন্ডিস বা অন্যান্য রোগ শরীরে বহন করেই দিনের পর দিন রিকশা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, দিনমজুর, রিকশা চালক, এমনকি হোটেল শ্রমিকদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। বের হলেও মাস্ক ব্যবহার করা, ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলা, পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকতে হবে। হাঁচি-কাশি যাদের আছে, সরকার হতে প্রচারিত সকল নিয়ম মেনে চলতে হবে।’


ঢাকা/হাসিবুল/সাজেদ