ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনার ঝুঁকিতে ময়মনসিংহের বস্তিবাসী

মাহমুদুল হাসান মিলন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০২ ১০:৩০:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০২ ১১:১১:০১ পিএম
পাট গুদাম বিহারি ক্যাম্পের একটি দৃশ‌্য

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ সচেতনতার অভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে ময়মনসিংহের ৯৪টি বস্তির অন্তত দুই লাখ মানুষ। সারাদেশে অঘোষিত লকডাউনের কারণে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এখানকার নিম্ন আয়ের মানুষের। এতে খাদ‌্যসঙ্কটসহ নানামুখি বিপদে পড়েছেন তারা।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকরিভাবে স্থায়ী কলোনী তিনটি- আদর্শ, মালঞ্চ ও বিহারি ক্যাম্প। এছাড়া অস্থায়ী আরও তিনটিসহ মোট ছয়টি বস্তিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস।

এসব বস্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ কর্ম না থাকায় আড্ডায় মশগুল রয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। তাদের মধ্যে নেই কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম, নেই সচেতনতাও। ঘনবসতি হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগও নেই। তাই চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন তারা।

করোনা প্রতিরোধে সীমিত পরিসরে হলেও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হবি ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু বস্তিবাসীরা সেগুলো ঠিকঠাক ব‌্যবহার করছে কি না তা তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না।

পাট গুদাম বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. কালাম বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত কোনো সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়নি। আমরা কোনো মাস্ক বা হ্যান্ড স‌্যানিটাইজারও পাইনি।’

এখানকার আরেক বাসিন্দা নেছার আহমেদ বলেন, ‘সরকার ৩ ফুট দূরত্বে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আমরা সেই দূরত্ব বজায় রাখতে পারছি না। আমাদের এলাকায় কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তা সহজেই ছড়িয়ে পড়বে। সরকার যেন আমাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়।’

মালঞ্চ কলোনীর সুফিয়া আকতার জানান, করোনার ভয়ে ঘরে বসে থাকলে খাবার জুটবে না। তাই ঝুঁকি থাকলেও বাইরে বের হতে হচ্ছে। এক ঘরে তারা পাঁচজন থাকেন তাই সচেতন থাকলেও কিছু করার নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর প্রায় সবকয়টি বস্তিতে কমবেশি একই অবস্থা বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি। তাই কর্মহীন এসব মানুষকে সহযোগিতা করা যাচ্ছে না। তাছাড়া সমাজের বিত্তবানদের কেউ এগিয়েও আসছে না। তারা এগিয়ে এলে দরিদ্রদের উপকার হতো। আমি ব্যক্তি উদ্যোগে আমার ওয়ার্ডের প্রতিটি মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছি। এ কার্যক্রম অব‌্যাহত থাকবে।’

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৯৪টি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে যারা বাস করে, করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ, মসজিদ থেকে মাইকিং করা এছাড়াও জেলা তথ্য অফিসের সহযোগীতায় বিভিন্ন সংগঠনের মাধ‌্যমে মাইকিং করা হচ্ছে।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামূল হক টিটু বলেন, ‘ইতোমধ্যে কর্মহীন মানুষের তালিকা সম্পূর্ণ করা হয়েছে। সচেতনতার পাশাপাশি তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই সবাই ত্রাণ পাবে। এছাড়া প্রত্যেকটি বস্তির সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক অ‌্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের উচিৎ বস্তিগুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। বস্তিবাসীদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে সেগুলোকে সিল করে দেওয়া দরকার। বস্তি থেকে যেন কেউ বের হতে না পারে এবং ত্রাণ দেওয়ার নামে ফটো সেশন করতে গিয়ে সেখানকার কাউকে সংক্রমিত যেনো করতে না পারে। সেজন‌্য প্রয়োজনে পাহারা বসাতে হবে।’


মিলন/সনি