ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পাপিয়ার ৫ কোটি টাকার সম্পদের উৎস পায়নি দুদক

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-০১ ১১:৪১:৪৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-০১ ৩:১৫:৩৩ পিএম

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার নামে প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  সাধারণ ছুটি শেষে দুদকের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে যেকোনো সময় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন সূত্র রাইজিংবিডিকে জানিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল হোটেল ওয়েস্টিনে বিল হিসাবে জমা করা সাড়ে তিন কোটি টাকা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৬০ লাখ টাকা ও নরসিংদীর একটি বাড়ি।  যার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না শর্তে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, করোনাভাইরাসের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদিও দুদকের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালানো কষ্টকর, তবু এর মধ্যে আমাদের কর্মকাণ্ড থেকে নেই।  পাপিয়ার বিরুদ্ধে দুদক যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।  যা দিয়ে মামলা করা সম্ভব।  এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।  যদিও অনুসন্ধানে আরও সম্পদের খোঁজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর নামে নরসিংদীতে বেসরকারি তিনটি ব‌্যাংকে অর্ধ ডজন হিসাবের খোঁজ পাওয়া গেছে।  এসব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬ লাখ টাকা জমা আছে।  যদিও দুদক মনে করছে এসব ব্যাংক হিসাব ছাড়াও বেনামে তাদের আরও ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে।  সেজন্য আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাপিয়া হোটেল ওয়েস্টিনে চারটি কক্ষ চার মাস ৯ দিন ভাড়া, খাবার, আনুষঙ্গিক খরচসহ মোট বিল হিসাবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেন।  ওয়েস্টিনে ১১ জন নিয়ে নিয়মিত থাকতেন তিনি।  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পাপিয়ার ৮৮ জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক মূলত কেবল পাপিয়ার অবৈধ সম্পদ রয়েছে কিনা সেই বিষয়টি দেখবে।  আমরা দেখবো পাপিয়া তিন কোটি টাকার বিল কোথা থেকে দিয়েছে, কী তার আয়, তার কোনো জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ আছে কিনা। অনুসন্ধান চলছে, আইন-কানুন দেখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে না পারলে পাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

বিদেশে অর্থ পাচারসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা ও বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ পাচার এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

 * পাপিয়ার বার্ষিক আয় মাত্র ৩ লাখ টাকা!

 

ঢাকা/এম এ রহমান/জেডআর