ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সামাজিক দূরত্ব মানতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাইক্লোন শেল্টার

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৯ ৮:৪৬:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-১৯ ৯:৩৬:০৬ পিএম

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কবল থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার অনেক মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিচ্ছেন। এদিকে, অল্প জায়গায় অনেক মানুষের সমাগম হলে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই যাতে আশ্রয় পেতে পারেন, সেজন্য স্থায়ী সাইক্লোন শেল্টারের পাশাপাশি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। 

ইতোমধ্যে উপকূলবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছে উপকূলীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন অনেকে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বিদ্যমান সাইক্লোন শেল্টারের পাশাপাশি বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করছি। করোনার কারণে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আছে। সে কারণে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ মনে করেছি, সেগুলো প্রস্তুত করেছি। এতে মানুষ কম সময়ে কাছের সাইক্লোন শেল্টারে যেতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন করোনা রোগী যাতে সাইক্লোন শেল্টারে না যেতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখা হবে। এমন কেউ থাকলে তাকে আলাদাভাবে স্পেশাল কেয়ারে রাখা হবে। জেলা পর্যায়ে একাধিক কুইক রেসপন্স টিম আছে। এছাড়া, ১১ হাজার ৭০৮ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।’

নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘রমজান মাসে যে ধরনের ব্যবস্থা করা দরকার- পর্যাপ্ত পানি, খাবার, স্যানিটাইজারসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছি।’

সামাজিক দূরত্ব মানার ব্যাপারে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব সেটা মেইনটেইন করতে। যেহেতু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, আমরা আসলে মানুষের জান-মালকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা করোনা প্রটোকলও মেইনটেইন করার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্থায়ী সাইক্লোন সেল্টার ৫০৯টি। করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আরো কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছি। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে ৬১০ সাইক্লোন শেল্টারে ৩ লাখ লোককে আশ্রয় দিতে পারব। ৪২টি মেডিক্যাল টিম করেছি। বেশ কয়েকটি কুইক রেসপন্স টিম করেছি। ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুখাদ্য ও গবাদি পশুর খাদ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’  

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘করোনার এ সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে সে ব্যাপারে মনিটরিংয়ের জন্য সব উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার গতিবেগে বাংলাদেশের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে সুপার সাইক্লোন আম্ফান।’

মঙ্গলাবার রাতে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের দিঘা থেকে ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। সেই হিসেবে আম্ফান ভারতেই আগে আঘাত হানতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আম্ফান মঙ্গলবার বেলা ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।


ঢাকা/সাওন/রফিক