ঢাকা, বুধবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দীর্ঘ লকডাউনে পাল্টাচ্ছে জীবনধারা, বাড়তে পারে অপরাধ

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৪ ৭:১৫:০৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৪ ২:৪০:১৯ পিএম

করোনায় দীর্ঘ লকডাউনে মানুষের জীবনধারা পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে অনেকের কর্মপন্থা। পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা চলে এ অবস্থা সহসাই কাটছেও না।

দীর্ঘ লকডাউনে অনেকেই ইতোমধ‌্যে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। যদি এটি আরও দীর্ঘ হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা, ভীতি, সামাজিক অবক্ষয়, অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় মানুষ বেকার বা অলস সময় কাটালে বাড়তে পারে সামাজিক কলহ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানী। অনেকের মনস্তাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এখন মনোবল শক্ত রাখতে হবে। কর্ম নিশ্চিতে সরকারের প্রস্তুতি ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে বলে পরামর্শ দেন তারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মানুষ যখন দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন থাকে, তখন তাদের লাইফস্টাইলে ইনডিসিপ্লিন এসে যায়। দেখা গেছে একটি মানুষ যার যখন প্রয়োজন ঘুমাচ্ছে, যখন প্রয়োজন নেই তখনও ঘুমাচ্ছে। অলস সময় পার করছে। আর এতে মানুষের ভেতরে ভীতি, দুশ্চিন্তা এগুলো ডেভেলপড করে। মানসিক বিষন্নতা তৈরি হয়। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় আমাদের মনোবল শক্ত রাখতে হবে। ভেঙ্গে পড়া যাবে না। আর স্বাভাবিক যে কোনো কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম বলেন, ‘দীর্ঘদিন অনেকের কর্মক্ষেত্র বন্ধ রয়েছে। অনেকই আছেন ভ্রাম্যমাণ কর্মজীবী। অনেকে আবার কন্টাকচুয়াল। তাদের অনেকেই চাকরি হারাতে পারেন। অনেকেই কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে যেতে পারেন। এ কারণে তারা নানা রকমের চিন্তাভাবনা করবে। তাই তাদের ভেতর যেন হতাশা কাজ না করে সেজন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতে হবে। যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে যাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কাজে লাগানো যেতে পারে। সেভাবে কর্মক্ষেত্র তৈরি করে রাখতে হবে। সরকারকে এক্ষেত্রে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মনোবিদ অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাস এর পরিস্থিতিতে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। স্বজনদের নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যেই এসমস্যা সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিন যত যাচ্ছে সমস্যা ততোই বাড়ছে। এটা একপর্যায়ে মানসিক সমস্যার কারণও হতে পারে।’

ঢাবি’র সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, ‘মানুষ যখন কর্মহীন হয়, তখন সে দিশেহারা থাকে। দেখা গেছে একজন মানুষের ওপর পুরো পরিবারটি নির্ভরশীল থাকে। তাই অভাবের তাড়নায় সামাজিক অবক্ষয়ও দেখা দিতে পারে। এজন‌্য এখন থেকে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ‌্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশব্যাপী লকডাউন থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ ইতোমধ্যেই অনেক সমস্যায় পড়েছেন। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও অনেকে অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। আরও দীর্ঘসময় এটি স্থায়ী হলে অনেকে খারাপ অবস্থা তৈরি হবে। তাই সারাদেশ লকডাউন না করে ক্লাস্টারভিত্তিক হট স্পট ধরে ধরে করতে হবে।’

ঈদের পরে দেশব্যাপী লকডাউনকে আর স্থায়ী করা ঠিক হবে না বলে মত দেন তিনি।

 

ঢাকা/সনি