ঢাকা, বুধবার, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ত্রাণ আত্মসাতে জনপ্রতিনিধিরা, কঠোর অবস্থানে সরকার  

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ১২:০৯:১২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ৭:৩০:২৫ এএম

করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। তবে বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে অনেক দরিদ্র মানুষ ত্রাণ পাচ্ছেন না। বিশেষ করে, জনপ্রতিনিধিরা গরিবদের ত্রাণ আত্মসাৎ করছেন বলে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থানে আছে সরকার। ইতোমধ্যে অনেক জনপ্রতিনিধিকে অনিয়মের দায়ের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বেশকিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। এ কারণে বাড়ছে দুর্নীতি। অনেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনিয়ম করেও পার পাচ্ছেন। গত ১৮ মে পর্যন্ত ৫৯ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হলেও অনেকে ত্রাণ আত্মসাৎ করেও বহাল তবিয়তে আছেন। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে মোট জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ৬৫ হাজার ৭৭৫। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ৪ হাজার ৫৭১ জন, মেম্বার ৪১ হাজার ১৩৯ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বার ১৩ হাজার ৭১৩ জন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন ত্রাণ আত্মসাৎ করে বরখাস্ত হয়েছেন। ত্রাণ চুরির ঘটনা মার্চ মাসে শুরু হলেও এখন অনেকটাই কমে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকটি এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আড়াই হাজার টাকার পাওয়ার জন্য অনেকের নামের পাশে একই মোবাইল নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে আশার কথা হলো, একটি নম্বরে এক বারের বেশি টাকা যাবে না।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘ওএমএসের চাল ও ত্রাণ চুরি করছে কিছু জনপ্রতিনিধি। গরিব-অসহায়ের খাবারে ভাগ বসাচ্ছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিছাড়া এটি বন্ধ করা যাবে না। অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের শুধু বরখাস্ত (সাময়িক) করলেই হবে না, দুর্নীতির জন্য জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’

এ বিষয়ে সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) নির্বাহী সদস্য ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কর্মহীন মানুষদের  ত্রাণ চুরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অন্যায় করে আসছে, কিন্তু বিচারের আওতায় না আসায় তারা দিনের পর দিন এসব ঘৃণ‌্য কাজ করে যাচ্ছে।  এসব জনপ্রতিনিধি ও ওএমএস ডিলারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কঠোর সাজার বিকল্প নেই।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ত্রাণ দুর্নীতিতে সরকার কাউকে ছাড় দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খবর পাওয়ামাত্রই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ জন্যই চাল আত্মসাৎসহ অপরাধ কিছুটা কমে এসেছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ত্রাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৫৯ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। মন্ত্রী মহাদয়ের নির্দেশে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘যেসব জনপ্রতিনিধি গরিব মানুষর ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অনিয়ম বা আত্মসাৎ করবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ত্রাণ নিয়ে নয়ছয় সহ্য করা হবে না।’  

 

ঢাকা/আসাদ/রফিক