ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রকৌশলী হত্যা: নেপথ্য নায়কদের খুঁজছে দুদক

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩০ ১০:৩৩:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-৩১ ২:১৬:১২ এএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন হত্যার পেছনের দুর্নীতিবাজ কারিগরদের খুঁজছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা টিম।

সংস্থাটির গোয়েন্দা বিভাগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা ঠিকাদারদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে মাঠে নেমেছে। গোপনীয়ভাবে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কাজের সিডিউল ও প্রকল্প বাস্তবানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সাধারণ ছুটি শেষে অফিস খুললেই আনুষ্ঠানিকভাবে টিম গঠন করে অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে দুদক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ রাইজিংবিডিকে বলেন, অফিস খুললেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো। এখন আমরা নোট রাখছি। কোন ঠিকাদার কিংবা সহকর্মীরা এর সঙ্গে জড়িত, পুলিশ নিশ্চয়ই এটা খুঁজে বের করবে। আমরাও নজর রাখছি।

তিনি বলেন, প্রকৌশলীর সঙ্গে যারা এ রকম করলো, নিশ্চয়ই তারা ঘুষ দিতে চেয়েছিল। ঘুষ দেওয়াও একটি অন্যায়। দুদক আইনে ঘুষ দেওয়া একটি অপরাধ। পুলিশ তদন্ত করছে। নিশ্চয়ই প্রকৃত বিষয়টি বের হবে। আমরাও বিষয়টি দেখবো।

দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে জানা যায়, দুদকের গোয়েন্দা বিভাগ ইতোমধ্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে মাঠে নেমেছে।  দেলোয়ার হত্যায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।  ইতোমধ্যে অতি গোপনীয়ভাবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কাজের সিডিউল ও প্রকল্প বাস্তবানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।  বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে নিম্নমানের উন্নয়ন কাজ করার কারণে প্রকৌশলী দেলোয়ার বিভিন্ন ঠিকাদারের অন্তত শতকোটি টাকার বিল আটকে দিয়েছিলেন।  দুদকের গোয়েন্দা টিম ওইসব কাজের বিষয়ে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ চক্রের মুখোশ উন্মোচন করে দুদককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের সাহসী ও কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে দুর্নীতিবাজ সহকর্মী এবং  স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালী দোসরদের বিরাগভাজন হয়ে তাকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। ঠিকাদারি কাজের নিম্নমান, বাজারদরের চেয়ে বেশিমূল্য দেখিয়ে বিল তৈরিসহ বেশকিছু বিষয়ে নিহত দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে অসাধু ঠিকাদারদের একাংশের বিরোধের সূত্রপাত। যা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্তৃপক্ষও অবহিত ছিলেন বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশন কী পদক্ষেপ নিয়েছিল কিংবা আদৌ নিয়েছিল কী না? নিয়ে থাকলে সেটি কী? যেসব কাজ ও ঠিকাদারের দুর্নীতির বিষয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল সেসব বিষয়ে সিটি করপোরেশনের অবস্থান কী? যা জনসমক্ষে আসা উচিত।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিহত দেলোয়ার হোসেন সৎ কর্মকর্তা ছিলেন। সিটি করপোরেশনে নিম্নমানের উন্নয়নকাজ করায় তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারের অন্তত শতকোটি টাকার বিল আটকে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে কোনাবাড়ী এলাকায় এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ৩৩ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়। জাইকা, এডিবি ও আরও একটি দাতাসংস্থার নামে পৃথক বিল তৈরি করা হয়। অর্থাৎ মোট ৯৯ কোটি টাকার বিল করা হয়। একই কাজ পৃথক তিনটি সংস্থার নামে বিল উত্তোলনের বিষয়টি দেলোয়ার আটকে দেন। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় সুপেয় পানির লাইন স্থাপনে শত কোটি টাকার একটি বিল তিনি অনিয়মের অভিযোগে আটকে দেন। এ কারণেই শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তা বাস্তবায়ন করে।

গত ১১ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুরের বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হন প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন। এরপর থেকে তার খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর ব্রিজের পাশের জঙ্গল থেকে দেলোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খোদেজা আক্তার তুরাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

যাদের মধ্যে ২৭ মে দেলোয়ার হোসেনের সহকর্মী সহকারী প্রকৌশলী সেলিম হোসেন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে গত গত ২১ মে অপর আসামি সিটি করপোরেশনের গাড়ির চালক হাবিব ও কিলার শাহীন হাওলাদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।


রহমান/এসএম