ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

বাজেট বাস্তবায়নে বড় ঝুঁকি বাড়তি আয়, করফাঁকি রোধ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২১, ৩০ জুন ২০২০  

নতুন (২০২০-২১) অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তায়নে সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা এও বলছেন, এই বাজেটে অনেককেই খুশি রাখলেও বেশিরভাগ যৌক্তিক পরামর্শ-দাবি উপেক্ষা করেছে সরকার। এই বাজেটকে ঋণনির্ভর উল্লেখ করে অর্থনীতি-বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশির এই বাজেট বাস্তবায়নে ‘বাড়তি আয়’ ও  ‘করফাঁকি ঠেকানো’ই হবে বড় ঝুঁকি।

কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব এই বাজেট—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্লেষকরা  বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। যে কারণে অর্থনীতির মূল হাতিয়ার বেসরকারিখাতে গত কয়েক মাস ধরেই স্থবিরতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ধরে রাখার ঝুঁকি প্রবলভাবে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ফলে বাড়ছে বেকারত্ব। বাড়ছে দারিদ্র্য।

একদিকে যখন ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আয়ের চাপ থাকবে, তখন বাজেটের ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়—এ দুইয়ের সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় করা ছাড়া বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থবছরজুড়েই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা  করতে হবে।  যার চাপ জনগণকেই বয়ে বেড়াতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে যে রাজস্ব আয় হবে, তার চেয়ে প্রায় ৫০ ভাগ বেশি আয় করতে হবে নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে।’  তিনি বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে সফল হতে হলে সরকারের প্রণোদনার অর্থ উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্রুত ছাড় দিতে হবে। অর্থছাড় যত দ্রুত হবে, সুফলও তত দ্রুত ধরা দেবে।’

ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, ‘অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর জন্য সরকার যদি করের আওতা বাড়ায়, তাহলে সবার ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হবে। এরপরও আয় বাড়াতে হলে করের আওতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে কর ফাঁকি রোধে নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আমি মনে করি, বাজেট সংশোধন হবে। এখন না করলেও একটা সময়ে লক্ষ্যমাত্রাগুলোর সংশোধন ও পুনঃনির্ধারণ করতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনীতি থেকে সুফল পেতে হলে আর্থিকখাতে সংস্কারগুলোর ওপর এখন থেকেই সরকারের মনোযোগ আরও বাড়াতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন  নতুন (২০২০-২১) অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে  ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে  রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়ে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এতে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয়ের খাত হিসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি। বাকি ৪৮ হাজার কোটি অভ্যন্তরীণ অন্যান্য খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে বরাদ্দ রয়েছে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি।  এছাড়া, কৃষি খাদ্য ও মৎস্যখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। পল্লী উন্নয়নে রাখা হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

সর্বশেষ, অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট বড় ধরনের কোনো কাটছাঁট ছাড়াই ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে পাস করা হয়। এই  বাজেট কার্যকর শুরু হবে (১ জুলাই) বুধবার থেকেই।


শাহ আলম খান/এনই

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়