ঢাকা     সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দেড় বছরের প্রকল্পে ৩ বছর পার, অগ্রগতি মাত্র ৫৮ ভাগ

হাসিবুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ৮ জুলাই ২০২০  
দেড় বছরের প্রকল্পে ৩ বছর পার, অগ্রগতি মাত্র  ৫৮ ভাগ

গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ‘স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার’ বসানোর কাজ শুরু করে বিদ‌্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ‘ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’ (ওজোপাডিকো)।  ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল।  কিন্তু এই সময়ের মধ‌্যে শতভাগ কাজ শেষ করতে পারিনি ওজোপাডিকো। 

এ কারণে দ্বিতীয়বার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।  সময় বাড়ানোর পর গত ৩ বছরে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫৮ ভাগ।  বাকি ৪২ ভাগ কাজ শেষ করতে আরও ১ বছর ৬ মাস সময় বাড়াতে যাচ্ছে এই বিদ‌্যুৎ বিতরণ কোম্পানি। 

ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, মূল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।  তবে, নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও ব্যয়ের পরিমাণ কম ধরা হয়েছে।   সংশোধিত মেয়াদে মোট সাড়ে ৪ বছরের জন‌্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৪২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানি-সূত্রে জানা গেছে, ‘স্মার্ট প্রি পেমেন্ট মিটারিং’ সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি হওয়ায় শুরুতে বিদুৎ-গ্রাহকদের মাঝে নেতিবাচক ধারণার জন্ম হয়েছিল।  তারা মনে করেছিলেন—টাকা আগে পরিশোধ করলে বিদ্যুৎ মিলবে না।  এ কারণে প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর সময় গ্রাহকরাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে, নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্ধারিত ৪ লাখ ৬৮ হাজার প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার  বসানো সম্ভব হয়নি। 

সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া প্রসঙ্গে ওজোপাডিকো পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার সম্পর্কে গ্রাহকদের বোঝাতে পেরেছি।  তাই এখন কাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে। ’

ওজোপাডিকো পরিচালক আরও বলেন, ‘২০১৭ সালের জুলাই থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত  মিটার বসানো হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার।  এখনো ৩ লাখ ২১ হাজার মিটার বসানোর কাজ বাকি।  আশা করি, আগামী দেড় বছরের মধ‌্যে শতভাগ কাজ  শেষ করতে পারবো।’

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শহীদুল আলম বলেন, ‘শুরুতে বাধার মুখে পড়েছিলাম।  তবে, এখন সেই বাধা কেটে গেছে।  প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন‌্য পরিকল্পনা কমিশনে আবেদন করেছি।’

উল্লেখ‌্য,  ওজোপাডিকো’র আওতায় স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানো হচ্ছে ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ২১ জেলার ২১ উপজেলায়।  জেলাগুলো হলো—খুলনা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, মাগুরা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাদহ, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর। 

 

ঢাকা/ হাসিবুল/এনই

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়