ঢাকা     শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭ ||  ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

লোডশেডিংয়ে নাকাল রাজধানীবাসী, আছে ভুতুড়ে বিলের ‘ঘা’

হাসান মাহামুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১১ জুলাই ২০২০  

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানীতে দফায়-দফায় চলছে লোডশেডিং। পিক-অফপিক আওয়ার সমানতালে লোডশেডিংয়ে নাগরিক জীবন নাকাল।  আর এই দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের ওপর ভুতুড়ে বিলের ‘ঘা’ যোগ হয়ে নাগরিক জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ।

গ্রাহকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎচালিত বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই এখন বন্ধ।  এর ফলে বিদ্যুৎঘাটতি থাকার কথা নয়।  আর বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, বিদ্যুতের ঘাটতি নেই।  লোডশেডিং হলে তা ট্রান্সমিশন বা অন্য কোনো কারণে হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি—দেশে বর্তমানে চাহিদার তুনলায় বিদ‌্যুৎ-উৎপাদনের পরিমাণ বেশি। উদাহরণ হিসেবে শনিবারের (১১  জুলাই) চাহিদা ও উৎপাদন প্রসঙ্গে টেনে বিদ‌্যুৎ বিভাগ দাবি করে, এদিন দিনের বেলায় উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ২২২ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬৫৫ মেগাওয়াট।  আর চাহিদা ছিল  শনিবার দিনের বেলায় ১১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট।  সন্ধ্যায় চাহিদা কিছুটা কমে হয় ৯০০০ মেগাওয়াট। 

তবে, বিদ‌্যুৎ বিভাগ চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি দাবি করলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজধানীবাসী। তারা বলছেন, গত কয়েকদিনে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দু'দফা লোডশেডিং হয়েছে।  এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— মান্ডা, হাজীপাড়া, রামপুরার কিছু এলাকা, উত্তরখান, মীরপুর ১১, নাখালপাড়া প্রভৃতি।  সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪দিন সকালে এবং সন্ধ্যার সময় লোডশেডিং হয় বলে এসব এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘রাজধানীতে লোডশেডিং নেই বললেই চলে। তবে, ট্রান্সমিশনের কারণে সাময়িক সমস্যা হতে পারে।  এর  বাইরে অন্য কোনো সমস্যা আপাতত পাচ্ছি না।’

এদিকে, ভুতুড়ে বিলের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীসহ সারাদেশ থেকেই।  খোদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামেও এমন ভুতুড়ে বিল এসেছে।  ভুতুড়ে বিল থেকে বাদ যাননি বিদ্যুৎ বিভাগের পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মইন উদ্দিন, বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারাও।  এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের শনাক্ত করে  ব‌্যবস্থা নিতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

ইতোমধ‌্যেই ২৯০ জনকে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।  এছাড়া, বিদ্যুৎ বিভাগের টাস্কফোর্স প্রায় তিন শ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।  কমিটির সুপারিশের আলোকে ৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।  

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাওসার আমির আলী বলেন, ‘এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। বিলসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন‌্য ডিসেম্বরের মধ্যে আরও দুই লাখ প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ডেসকোর সব গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের আওতায় চলে আসবে।’

কাওসার আমির আলী আরও বলেন, ‘অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর চেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কম। তবু, আমরা সব অভিযোগ পর্যালোচনা করেছি। এ কারণে চার জন মিটার রিডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাতজন মিটার রিডার ও একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

সামগ্রিক বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে আমাদের সবসময়ই নির্দেশনা রয়েছে। আর অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে এরই মধ্যে কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ’  আগামীতে এ ধরনের সমস্যা আর হবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ  করেন।


হাসান/এনই

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়