ঢাকা, শনিবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

গুগল আর্থে ধরা পড়া ১১ চমকপ্রদ বিষয়

স্বপ্নীল মাহফুজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৮ ৩:১২:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৫-১৮ ৩:২৬:০৪ পিএম
গুগল আর্থে ধরা পড়া ১১ চমকপ্রদ বিষয়

স্বপ্নীল মাহফুজ : গুগলের খুবই জনপ্রিয় একটি সেবা গুগল আর্থ। গুগল আর্থের মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনের মধ্য দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। গুগল আর্থে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি ছাড়াও বিশেষ বিশেষ স্থানের ত্রিমাত্রিক মডেল ও স্ট্রিট ভিউ সুবিধার আওতায় বিভিন্ন এলাকার ছবি দেখা যায়।

পৃথিবীর আনাচে কানাচে সুন্দরের ছড়াছড়ি। কোনো কোনো কোনো সৌন্দর্য আমাদেরকে এতটাই মুগ্ধ করে যে তার কথা আর ভুলতে পারি না। আপনার মুগ্ধতার মাত্রা বাড়াতে গুগল আর্থে ধরা পড়েছে এমন ১১টি আকর্ষণীয় বিষয় এ প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো।



* মনোমুগ্ধকর নীল
এসব মনোমুগ্ধকর নীল পুকুর উতাহের মোয়াবের নিকটবর্তী ইন্ট্রেপিড পটাশ মাইনরে দেখা গেছে। এগুলো হলো পটাশিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভবন পুকুর। পটাশের মানে হলো পটাশিয়াম আছে এমন লবণ। এটির রঙকে আরো শক্তিশালী করতে এ পানিতে নীল রঙ মেশানো হয়। লাল মরুভূমির বিপরীতে এ উজ্জ্বল নীল সর্বোচ্চ সূর্যালোক শোষণ ও বাষ্পীভবনে সাহায্য করে। পানি বাষ্পীভূত হয়ে গেলে লবণের স্ফটিক ও পটাশিয়াম থেকে যায়, তারপর কেমিক্যাল তৈরির জন্য এগুলো সংগ্রহ করা হয়।



* গ্র্যান্ড প্রিসম্যাটিক স্প্রিং
অতি আকর্ষণীয় এ জলাশয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ওয়াইয়োমিংয়ে অবস্থিত ইয়েলোস্টেইন ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত। এটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হট স্প্রিং বা উষ্ণ প্রস্রবণ এবং বিশ্বে এর অবস্থান তৃতীয়। এই হট স্প্রিংয়ে যে রঙ দেখা যায় তা উষ্ণ পানি, শেওলা ও ব্যাকটেরিয়ার মিশ্রণে সৃষ্ট।



* বিস্ময়কর হ্রদ
ফিলিপাইনের সবচেয়ে বৃহত্তম দ্বীপ হলো লুজন দ্বীপ। এ দ্বীপে টাল হ্রদ নামক একটি হ্রদ রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, টাল হ্রদে আরেকটি দ্বীপ রয়েছে, এ দ্বীপে আরেকটি হ্রদ রয়েছে এবং এ হ্রদে আরেকটি দ্বীপ রয়েছে!



* ডেজার্ট ব্রেথ
মিশরের মরুভূমিতে অবস্থিত এ পেঁচানো প্যাটার্নটি হলো মানুষের তৈরি একটি শিল্পকর্ম। এ শিল্পকর্মটিতে ১৭৮টি শঙ্কু ব্যবহার করা হয়েছে, যা পেঁচানো প্যাটার্ন গঠন করেছে। ২৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এ প্যাটার্নটির কাজ শেষ হয় ১৯৯৭ সালে।



* দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস
দ্বীপের এ পুঞ্জটির অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস হলো একটি কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ। এ দ্বীপপুঞ্জকে সাতটি মহাদেশের রাফ রিপ্রেজেন্টেশন মনে করা হয়। দুবাইয়ের তৎকালীন আমির শেখ মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মকতুম এ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ৩০০টি দ্বীপে গড়া দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডসের দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৬ কিলোমিটার।



* রঙিন হ্রদ
এসব রঙিন হ্রদ বলিভিয়ার এডুয়ার্ডো অ্যাভারোয়া ন্যাশনাল রিজার্ভ অব অ্যান্ডিয়ান ফাউনায় অবস্থিত। এ হৃদগুলো অ্যান্ডিয়ান অ্যাল্টিপ্লানো নামক উচ্চ মালভূমির ওপরে। এ মালভূমিতে আগ্নেয়গিরি, উষ্ণ প্রস্রবণ, রঙিন হ্রদ এবং অন্যান্য অনন্য পাথুরে গঠন রয়েছে। গুগল আর্থের ইমেজে ওপরের বামকোণে যে হলুদ হ্রদটি দেখা যাচ্ছে তাকে ল্যাগুনা কলোরাডো বলে। এ হ্রদে সাদা বোরাক্সের কিছু দ্বীপ রয়েছে, কিন্তু হ্রদটির পানির রঙ লাল। লাল পলি ও শেওলার রঙের মিশ্রণে এ হৃদের পানিকে লাল দেখায়। অনেক ফ্লেমিংগোর (এক ধরনের লাল বক) আবাসভূমি হিসেবে লেক কলোরাডো পরিচিত।



* বিমানের সমাধিস্থল
অ্যারিজোনায় অবস্থিত ডেভিস-মন্থান এয়ার ফোর্স বেস সামরিক ঘাটিটি অব্যবহৃত বিমানের রিটায়ারমেন্ট হোম হিসেবেও কাজ করে। যেহেতু সবসময় নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হচ্ছে, তাই বিমানের আয়ুও কমে যাচ্ছে এবং যেসব বিমান আর ব্যবহার করা হয় না সেগুলো কোথাও সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিমানের কিছু সমাধিস্থল তৈরি করা হয়েছে, কারণ সামরিক বাহিনীর প্রচুর আকাশযান ছিল, কিন্তু ডেভিস-মন্থান হলো সবচেয়ে বড় এয়ারপ্লেন সিমেট্রি বা সমাধিস্থল।



* সিগন্যাল টু স্পেস
নিউ মেক্সিকোর মেসা হুয়ারফানিটার নিকটবর্তী মরুভূমিতে এই অনন্য প্যাটার্নটি পাওয়া যায়। কারো কারো মতে, এ জায়গাটি হলো চার্চ অব সায়েন্টোলজির (সায়েন্টোলজি হলো কল্পবিজ্ঞান গল্পের বিখ্যাত লেখক এল রন হাবার্ড প্রবর্তিত একটি ধর্ম বিশ্বাস) একটি গোপন বাঙ্কার। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুসারে, মরুভূমিতে এই প্রতীকগুলো হলো সায়েন্টোলজিস্টদের জন্য পথনির্দেশক, যেন তারা আর্মাগেডনের (বিচার দিবসের পূর্বে সৎ ও অসতের মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধ) মতো ঘটনা থেকে রক্ষা পান।



* দীর্ঘ রেসট্র্যাক
এই বড় রিংটি হলো একটি রেসট্র্যাক। ১২ মাইলের এই বৃত্তটি ইতালিতে অবস্থিত যা নার্দো রিং নামে পরিচিত। এই ট্র্যাক্টটিতে চারটি ভিন্ন ভিন্ন লেন রয়েছে যা এমনভাবে বাঁক নিয়েছে যে কোনো ড্রাইভার একটা নির্দিষ্ট স্পিডে গাড়ি চালালে যানটি ঘোরাতে ব্যর্থ হবেন।



* আতাকামা জিওগ্লিফ
আতাকামা জায়ান্ট হলো একটি জিওগ্লিফ যা চিলির আতাকামা মরুভূমির একটি শৈলপ্রান্তে অবস্থিত। এটির সর্বমোট পরিমাপ হলো ৩৯০ ফুট এবং এটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান পঞ্জিকা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। যে স্পটে চাঁদ ও আতাকামা জায়ান্ট একই সারিতে অবস্থান করতো, তা শস্য চক্র কখন শুরু হবে ও কখন শেষ হবে তা নির্ণয় করত।



* সবচেয়ে বড় সুইমিং পুল
হালকা নীলের এ জলাশয়টি কোনো পুকুর বা হ্রদ নয়, এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুইমিং পুল যা চিলির আলগারোবোর সান আলফনসো ডেল মার রিসোর্টে অবস্থিত। বিস্ময়কর এ পুলের দৈর্ঘ্য ৩,৩২৪ ফুট এবং এতে ৬৬ মিলিয়ন গ্যালন পানি রয়েছে। পুলটি এতই বড় যে এখানে একটি ডক রয়েছে এবং লোকজন অবকাশে এ হ্রদে নৌকা বাইতে পারে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ মে ২০১৯/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন