ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে টাইগার চ্যালেঞ্জ

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৮ ৮:২৬:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৮ ৮:৩২:০০ পিএম
২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে টাইগার চ্যালেঞ্জ
Walton E-plaza

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রতিবেদক : প্রায় দুই মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা টাইগার চ্যালেঞ্জ। বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেট ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-এর এমআইটি সলভ নামের প্রতিযোগিতার আদলে এমআইটির সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজক টাইগার আইটি ফাউন্ডেশন।

দেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলসমূহ প্রায় দুই মিলিয়ন ডলারের আর্থিক, কারিগরি, এবং বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত টাইগার চ্যালেঞ্জের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, টাইগার আইটি আমেরিকার বিজ্ঞানী ইলিয়া নিকিফোরোভ, টাইগার আইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের কল্যাণে অবদান রাখবে এমন যে কোনো টেকসই ও উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতেই ‘টাইগার চ্যালেঞ্জ’ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন। এই আয়োজনটি হবে দুটি পর্বে। বাংলাদেশ পর্বে ফাইনালিস্টদের মধ্যে থেকে একটি উদ্যোগকে সেরা ঘোষণা করা হবে। উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিজয়ীকে প্রায় ২ কোটি টাকার বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়া হবে। এ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চ্যালেঞ্জের ওয়েবসাইটে আবেদন করা যাবে। অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদন সমূহ এমআইটির বিচারকরা যাচাই করে মোট ১০টি উদ্যোগকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত করবেন। অক্টোবর মাসে, আন্তর্জাতিক জুরিবোর্ডের সামনে ফাইনালিস্টরা তাদের উদ্যোগ তুলে ধরবেন এবং নির্বাচিত হবেন। ছাত্র, শিক্ষাক, স্টার্টআপ কোম্পানি কিংবা হবু উদ্যোক্তা- যে কেউ এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে পারবে।

একই সঙ্গে একটি বৈশ্বিক পর্বও থাকবে। এ পর্বের বিজয়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশ পর্বের বিজয়ীদের একটি যৌথ পর্ব অুনষ্ঠিত হবে ডিসেম্বর মাসে। বৈশ্বিক পর্বে চূড়ান্ত বিজয়ীদের জন্য থাকছে ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। তবে, শর্ত থাকবে এই বিনিয়োগের ৫০ শতাংশ বাংলাদেশেই কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। আর এ জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বাজেটে ১০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন- এ তহবিল আগামীতে আরো বাড়বে। আইসিটি বিভাগের আইডিয়া প্রকল্প এবং প্রকল্পের পক্ষ থেকে ভেঞ্চার বিনিয়োগের জন্য স্টার্টআপ বাংলাদেশ নামে কোম্পানি তৈরি করা হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জের বিজয়ীদেরও সরকারের পক্ষ থেকেও নানামুখী সুবিধা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত সম্পদ হলো এর তরুণ মেধাবীগোষ্ঠী। আমাদের সীমিত সম্পদ তাদের কল্যাণে এমনভাবে খরচ করা উচিত যাতে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। তিনি আশা প্রকাশ করেন এই আয়োজন মেধাবীদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

টাইগার আইটি আমেরিকার বিজ্ঞানী ইলিয়া নিকিফোরভ তার উপস্থাপনায় তুলে ধরেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, বিগডেটার মতো প্রযুক্তি বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাগত বক্তব্যে টাইগার আইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান এই চ্যালেঞ্জ আয়োজনের নেপথ্যের কারণ উল্লেখ করে বলেন এর মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে উদ্ভাবনী প্রজন্ম পেতে আমরা এগিয়ে যাবো।

জুলাই মাসের ২ তারিখ থেকে আগ্রহীরা এই সাইটে http://tigeritfoundation.org/challenge আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া টাইগার চ্যালেঞ্জের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে এর ফেসবুক পেজে www.facebook.com/TigerChallenge



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ জুন ২০১৯/ফিরোজ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge