ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা যুদ্ধে লড়ছেন বিশ্বকাপজয়ী সেই যোগিন্দর শর্মা

ক্রীড়া ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৮ ১০:২৮:৫৩ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৮ ৪:০১:৩৬ পিএম

ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন তিনি। এখন লড়ছেন আরেক লড়াই। মানবিক সেই লড়াইয়েও তিনি চ্যাম্পিয়ন। মন জয় করছেন সাধারণ মানুষের।

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ ওভার করেছিলেন যোগিন্দর শর্মা। পাকিস্তানের শিরোপা জিততে লাগত ১৩ রান। ধোনির ট্রামকার্ড ছিলেন যোগিন্দর। মিসবাহ উল হক এক ছক্কায় ব্যবধান কমান। এরপর আরেকটি ছক্কার নেশায় করেছিলেন স্কুপ। কিন্তু ব্যাট-বলের রসায়ন না জমায় বল যায় শর্ট ফাইন লেগে। ক্যাচ নেন শ্রীশান্ত। ভারতের বিশ্বকাপ জয়।

ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নায়ক হয়ে যান যোগিন্দর। কিন্তু ক্রিকেট ক্যারিয়ার লম্বা করতে পারেননি ডানহাতি মিডিয়াম পেসার। হরিয়ানা পুলিশের চাকরি পেয়ে সেখানেই যোগদান করেন। এখনও আছেন সেই পেশায়। 

পুলিশের ভূমিকায় দেশকে করোনার থাবা থেকে বাঁচানোর তাগিদে সকাল ছয়টা থেকে কাজ শুরু করছেন তিনি। রাস্তায় মানুষ দেখলে তাঁদের আবার বাড়িতে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। কোনও ধরনের সমস্যা দেখলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এমনকি মাস্ক ও স্যানিটাইজারও বিতরণ করছেন কখনও-সখনও। অতিরিক্ত জটলা দেখলে সেই ভিড় সরানোর চেষ্টা করছেন।

করোনা যুদ্ধে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে আনন্দবাজারকে যোগিন্দর বলেছেন, ‘ডিএসপি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অন্য রকম। করোনা-আতঙ্কের মধ্যে এই চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ হিসেবে প্রচুর দায়িত্ব সামলাতে হয়। সাধারণ মানুষকে লকডাউনের অর্থ বোঝাতেই বেশির ভাগ সময় চলে যাচ্ছে। অনেকেই বাজারে ভিড় করছেন পণ্যসামগ্রী কেনার জন্য। রাস্তায় যে কোনও ভাবেই ভিড় করা উচিত নয় এই সময়ে, সেটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না।’

তবে যোগিন্দর এ-ও জানালেন, লকডাউনের জন্য অপরাধের মাত্রা অনেক কমে গিয়েছে। বলছিলেন, ‘অপরাধের মাত্রা অনেক কম। সবাই আসলে এই পরিস্থিতিতে ভয় পেয়ে গিয়েছে। যারা এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম করেন, তারাও বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ এই জরুরি ব্যবস্থার গুরুত্ব এখনও বুঝতে পারছেন না।’

‘অনেক বাড়িতেই বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি। সেই বাড়িতে পণ্যসামগ্রী ও ওষুধ আমরাই পৌঁছে দিচ্ছি। এমনিতে ওষুধ অথবা খাদ্যদ্রব্য কিনতে বেরোলে আমরা ছাড় দিচ্ছি। কিন্তু যাঁরা ঘুরতে বেরোবে, তাঁদের কোনও ভাবেই ছাড়া যাবে না। আমরাও ক্ষতিপূরণ চাইছি তাঁদের থেকে।’ – যোগ করেন যোগিন্দর।

শেষমেশ বললেন বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই ওভারের থেকেও করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার চ্যালেঞ্জটাই সবথেকে বেশি। সেই চ্যালেঞ্জ জিতলে নিজেকে ভাগ্যবান ভাববেন পুলিশের এ ডিএসপি।যোগিন্দর বলেছেন, ‘যত বড়ই ম্যাচ হোক, সেখানে তো প্রাণ হারানোর কোনও আশঙ্কা ছিল না। কিন্তু এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের তীব্রতা নিয়ে তো তেমন স্পষ্ট ধারণা নেই। এই রোগের প্রতিষেধকও এখনও বেরোয়নি। তাই এই পরিস্থিতিটা দেশবাসীর কাছে কঠিনতম চ্যালেঞ্জ। তাই সকলের কাছে একটাই অনুরোধ বারবার করে চলেছি, বাড়িতে থাকুন। দয়া করে বেরোবেন না। এ ভাবেই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে।’


সূত্র: আনন্দবাজার

 

 

ঢাকা/ইয়াসিন