ঢাকা, বুধবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ০৮ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আমার জন্য ওই সময়টা খুব ভৌতিক ছিল’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ১:২৭:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ১:২৭:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে যে কয়েকটি ম্যাচ মানুষের মনে দাগ কেটে থাকবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙালুরুতে বাংলাদেশ-ভারতের ম্যাচটি। জিততে জিততেও নার্ভ ধরে রাখতে না পারার মাশুল গুনে বাংলাদেশ সেই ম্যাচ হেরেছিল ১ রানে, মাত্র ১ রানে। যদিও মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ যখন মাঠে ছিল তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩ বলে ২ রান।

এই ১ রানে হারের ক্ষত অনেকদিন পুড়িয়েছে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহকে। তামিমের সঙ্গে লাইভ আড্ডায় এসে সে কথা অকপটে স্বীকার করলেন এই দুই তারকা ক্রিকেটার। এর পাশাপাশি এও জানালেন, কীভাবে আর কবে এই কষ্ট কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। আর আড্ডায় মুশফিক জানালেন, নিজের পরিবার নিয়ে সেবার ভারতে গেছিলেন তিনি। আর তখন ওই ম্যাচ হারের কষ্টের পাশাপাশি ভারতীয় সমর্থক ও খেলোয়াড়দের আচরণে সময়টা তাঁর জন্য খুব ভৌতিক হয়ে উঠছিল।

তামিম ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা স্মরণ করে মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর কাছে জানতে চান, ‘আমি বিশ্বকাপে একটা ক্যাচ ছাড়ার পর সেটা ওভারকাম করতে অনেকদিন সময় লেগে গেছিল। আর সেখানে ইন্ডিয়ার বিপক্ষে বেঙালুরুতে ম্যাচে জেতার মতো অবস্থায় মাঠে থেকেও ১ রানে হেরে যাওয়া, এই বিষয়টি ওভারকাম করতে কতদিন সময় লেগেছে? আর কীভাবে ওভারকাম করা হয়েছে, বিষয়টা কতটা কঠিন ছিল?’

এর উত্তরে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। আমরা সবাই জানি ওই ম্যাচ শেষে আমরা ড্রেসিং রুম বা হোটেলে যখন ফিরি তখন কী অবস্থায় ছিলাম। আমরা সবাই অনেক রাত পর্যন্ত রুমের বাইরে বসে ছিলাম।’

‘আসলে ওই ঘা টা হয়ত কখনো শুকাবে না। তবে আমি যখন এরপরে লোয়ার মিডল অর্ডার বা কঠিন সময়ে ব্যাটিং করতাম ওই জিনিসটা আমাকে অনেক তাড়া করতো। তখন আমার মনে হতো ম্যাচ কী আমি জেতাতে পারবো কী পারব না!’

আর কীভাবে এই কঠিন সময় পার করেছেন সেটা জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ আরও বলেন, ‘আমার এই সমস্যা কেটেছে নিদাহাস ট্রফির সময়ে। এর আগে পর্যন্ত ওই দিনের স্মৃতি আমাকে তাড়া করতো। তবে নিদাহাসের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’

ঠিক একই সুর ছিল মুশফিকের কণ্ঠে, ‘ওই দিন আমাদের না জেতাটা আসলে অবাস্তব ছিল। ওই মুহূর্তে থেকে হেরে যাবো এটা আমি আশাই করি নাই।’

‘আসলে আমি যে বলে আউট হয়েছি ওইটা মারার মতো বল ছিল, বাট সত্যি বলতে আমি ব্যর্থ হয়েছি।’

এরপর নিজের সেই ভীতিকর সময় নিয়ে মুশফিক আরও যোগ করেন, ‘তখন আমার পরিবার (স্ত্রী) আমার সাথে সেখানে ছিল। আমার জন্য ওই সময়টা খুব ভৌতিক কাটছিল। আসলে তখন আমরা আসলে যেখানে যাই, সেখানে এটা নিয়ে কথা হইছে। আর মাঠে ওদের সাথে ড্রেসিং রুমে কী ঘটেছিলো এটা আমরা সবাই জানি।’

মুশফিকও মাহমুদউল্লাহর মতো নিদাহাস ট্রফি দিয়ে এই দুঃখ কাটিয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘আমারও অনেক সময় লাগছে এটা ভুলতে। আমি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফিতে ম্যাচ জিতাই যখন, তখন আমি আত্মবিশ্বাস পেয়েছি আবার।’

এরপর আরও যোগ করেন, ‘এরপরে আমি আর রিয়াদ ভাই যখন কঠিন মুহূর্তে একসাথে খেলেছি, তখন আমি উনাকে বা উনি আমাকে সে ম্যাচের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আমরা কিন্তু পরে সফলও হয়েছি।’

আর ওই ম্যাচ বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য শিক্ষা দাবি করে মুশফিক বলেন, ‘আর ওই ম্যাচটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় শিক্ষা। এটা আমাদের জন্যও।’ রিয়াদও এই কথার সঙ্গে যুক্ত করেন, ‘আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ক্রিকেটীয় শিক্ষা ছিল সেটি।’


ঢাকা/কামরুল