ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

risingbd-august-banner-970x90

হাতে এসেছে ধনুক, ঘরেই রোমানের অনুশীলন

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৫, ৩ জুলাই ২০২০  

‘আর কতো! তিন মাস তো পেরিয়ে গেল। কতকাল অপেক্ষা করা যায়! করোনা থামবে কবে কেউ কি বলতে পারে?- রাইজিংবিডির প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন তিরন্দাজ রোমান সানা।

প্রথমবারের মতো সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আর্চার রোমান সানা চারদেয়ালে থেকে রীতিমত বিরক্ত। তবে তার আক্ষেপ, যন্ত্রণা, অপেক্ষা কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। হাতে যখন এসেছে নিজের প্রিয় ধনুক তখন মুখে হাসি তো ফুটবেই।

আর্চারি ফেডারেশন থেকে প্রত‌্যেক তিরন্দাজের কাছে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো হয়েছে ধনুক। সেই ধনুক দিয়ে এখন চলছে তাদের অনুশীলন। তবে চারদেয়ালের ভেতরে পাল্টেছে অনুশীলনের ধরণ। শুধু ধনুক ব‌্যবহার করতে পারছেন তিরন্দাজরা। নিশানা ঠিক রাখার জন‌্য তীর ব‌্যবহারের সুযোগ নেই। মূলত এ অনুশীলন বেছে নেওয়া হয়েছে স্ট্রেন্থ ঠিক রাখার জন‌্য।

রোমান সানার কন্ঠে, ‘বাসায় এখন ধনুক নিয়ে চর্চা করছি। শক্তি এবং শারীরিক কার্যক্রম ধরে রাখার জন‌্য ধনুক নিয়ে যে কসরত গুলো আছে সেগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। তীর ছোড়া বাদে শুধুমাত্র ধনুক দিয়ে যা করা যায় সেগুলো করে যাচ্ছি।’

রোমান জানালেন, এভাবে অনুশীলনের মাধ‌্যমে অন্তত একমাসের ঘাটতি পূরণ হবে তাদের, ‘আমাদের খেলাটা হচ্ছে অন‌্যরকম। আপনি সারা বছর অনুশীলন করলেন কিন্তু যদি এক বা দুই মাস বন্ধ রাখলেন তাহলে অনেক ক্ষতি হয়। একটা প্রক্রিয়া আছে। ক্রিকেট বা ফুটবলে বেসিক জিনিসটা ধরে রাখলে হয়। কিন্তু আমাদের অনুশীলন না করলে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। ওই শক্তি ফিরিয়ে আনতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। আবার নিজেদের যে স্কোর আছে সেখানে ফিরে আসতে সময় লেগে যায়। এখন যেহেতু ধনুক পেয়েছি, শক্তি নিয়েই কাজ হচ্ছে। মাঠে ফিরে গেলে যেখানে ফর্মে ফিরতে দুই মাস সময় লাগতো, ধনুক হাতে পাওয়ায় এখন একমাস সময় লাগবে।’ – বলছিলেন রোমান সানা।

প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ধনুক হাতে নেওয়ার অনুভূতি আড়াল করতে পারলেন না রোমান সানা, ‘প্রথম যেদিন হাতে পেলাম সেদিন মনে হচ্ছিল আমি শিক্ষানবিস কেউ! প্রথম শুরুর যে অনুভূতি সেরকম অনুভব হচ্ছিল (হাসি)। এখন আবার ভালো লাগছে। শেষ কয়েকদিন তো রাত দিন ধনুক নিয়েই আছি।’

রুটিন করে সকালে দেড়ঘণ্টা, বিকেলে এক ঘণ্টা চলছে অনুশীলন। তবে মাঠে তীর ছোড়ার আনন্দ মিস করে যাচ্ছেন বিশ্ব আর্চারির ২০১৯ সালের বর্ষসেরা ব্রেক থ্রু অ্যাথলেট নির্বাচিত হওয়া রোমান সানা।

‘মাঠে যদি থাকতাম তাহলে সাত ঘণ্টা অনুশীলন করা হতো। বাসায় সেই সুযোগ নেই। কারণ তীর ছোড়া বাদে বিরক্ত লাগে। সবাই মিলে মাঠে তীর ছোড়ার আনন্দ আছে। এজন‌্য মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করলে কষ্ট কম হয়। একা একা বাসায় অনুশীলন যতই করেন আনন্দ পাওয়া যায় না। ওখানে মন বসানো আর ঘরে মন বসানোর পার্থক‌্য আছে।’

অনলাইনে চলছে রোমানদের প্রশিক্ষণ। কোচের সঙ্গে ভিডিও কলে প্রতিদিনই একটা সেশন করছেন আর্চাররা। প্রায় ২৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে গ্রুপ করে চলছে পাঠদান। রোমান সানার গ্রুপে আছেন রুবেল, সাকিব ও তামিম। শনিবার তাদের আরেকটি সেশন আছে কোচের সঙ্গে। ৩০-৪০ মিনিটের মতো চলে রোমানদের অনলাইন ক্লাস। এর আগেও বেশ কয়েকবার অনলাইনে বসেছে আর্চাররা।

রোমান সানার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার পড়ুন আগামীকাল শনিবার, রাইজিংবিডি.কমে।

 

ঢাকা/ইয়াসিন

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়