ঢাকা, বুধবার, ৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ঈগলের দ্বীপ লাংকাউই

মোস্তফা ইমরান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২২ ৮:০৭:২২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২২ ৮:০৭:২২ এএম

মালয়েশিয়ায় দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম ঈগলের দ্বীপখ্যাত ‘লাংকাউই’। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দ্বীপটি।  বছরজুড়ে পর্যটকদের ভিড় থাকে এখানে। কেডাহ্ প্রদেশের সম্পদ এই দ্বীপটি মূলত ঈগলের জন্য বিখ্যাত। দ্বীপজুড়ে চোখে পড়বে উড়ন্ত ঈগল। শহরের প্রবেশমুখে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল আকৃতির ঈগলের মূর্তি। স্থানটি ‘ঈগল স্কয়ার’ নামে পরিচিত।

লাংকাউই’র আনাচে-কানাচে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ফুলঝুরি। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে একটি কেবল কার ও স্কাই ব্রিজ বানানো হয়েছে। পৃথিবীর সেরা দশটি স্কাইব্রিজের একটি হলো এই লাংকাউই স্কাইব্রিজ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১৭০ ফুট উঁচুতে নির্মিত বাঁকানো এই ব্রিজটি ১২৫ মিটার। কেবল কারে চড়ে, লিফট কিংবা হেঁটে ব্রিজটিতে যেতে পারেন দর্শনার্থীরা। কেবল কার দিয়ে উপরে ওঠার সময় দুটি স্পটে নেমে মেঘের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারেন আকাশ, পাহাড় আর সমুদ্রের চমৎকার দৃশ্যাবলী। মেঘের মধ্যে দাঁড়িয়ে সবুজ পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে নীল জলরাশির মনোমুগ্ধকর এমন দৃশ্য পৃথিবীর আর কোথাও মিলবে কি না বলা ভার।

লাংকাউইতে প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। স্কাইব্রিজ ও কেবল কারের নিচে গড়ে তোলা হয়েছে ওরিয়েন্টাল ভিলেজ। যেখানে থ্রিডি আর্ট গ্যালারি থেকে শুরু করে দর্শনীয় অনেক কিছুই রয়েছে। আন্দামান সমুদ্রবর্তী দ্বীপটির সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর সৈকত হলো পান্তাই ছেনাং। পর্যটকরা সাধারণত এখানেই বেশি সময় কাটান। এই সৈকত ঘিরে গড়ে উঠেছে কয়েকশ হোটেল ও মোটেল। তবে ‘কাহো না পেয়ার হে’ গানের একটি অংশের শুটিং হয়েছিল তানজুং রুহ বিচ ও ব্লাক স্যান্ডি বিচ বা কালো বালির দ্বীপে। পর্যটকদের সেখানে গিয়ে বাড়তি সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

লাংকাউইতে কম খরচে বেশি উপভোগের সুযোগ রয়েছে হপিং আইল্যান্ড ট্যুর নামে বিশেষ ব্যবস্থার। যেখানে চার ঘণ্টায় চারটি ভিন্ন ভিন্ন দ্বীপ দেখা যাবে। এ ছাড়া দেখা যাবে সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ঈগলের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো হলো ঈগল স্কয়ার, কেবল কার ও স্কাই ব্রিজ, পান্তাই ছেনাং বিচ, তানজুং রুহ বিচ, ব্লাক স্যান্ডি বিচ, আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, ওরিয়েন্টাল ভিলেজ, ক্রোকোডাইল ফার্ম, বার্ড প্যারাডাইজ, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, বে রিসোর্ট, সেভেন ওয়েলস ওয়াটারফলসহ শতাধিক দর্শনীয় স্থান। এ ছাড়া লাংকাউইতে ছোট বড় জাহাজে করে সমুদ্রের গভীরে গিয়ে সূর্যাস্ত দেখা, অন্য কোনো দ্বীপে গিয়ে মাছ ধরা, গভীর সমুদ্রে কোরাল দেখাসহ নানা অভিজ্ঞতা অর্জনের দারুণ সুযোগ রয়েছে।

কীভাবে যাবেন : লাংকাউইতে বিমানে যাওয়াই ভালো। কুয়ালালামপুর কিংবা সুবাং বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৩৫ কিংবা ৪০ মিনিটে লাংকাউই পৌঁছানো যায়। তবে যারা সময় নিয়ে ঘুরতে যেতে চান তারা বাসেই যেতে পারেন। কুয়ালালামপুরের টিবিএস (বান্দার তাসিক সেলাতান) থেকে বাসে কলা পেরলিস, তারপর ফেরিতে লাংকাউই কুয়া ফেরিঘাট। এরপর নিজের পছন্দমতো হোটেল বা মোটেলে পৌঁছে যেতে পারেন।

সময় এবং অর্থ দুটোই যদি পর্যাপ্ত থাকে তাহলে লাংকাউই ভ্রমণ আপনার কাছে সেরা ভ্রমণগুলোর একটি হয়ে থাকবে। অবসর কাটাতে যারা সবকিছু ছেড়ে শুধু প্রকৃতির মাঝে কিছুটা ভালোলাগার সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য ঈগলের দ্বীপ খ্যাত লাংকাউই উপযুক্ত স্থান।

 

মালয়েশিয়া/সনি/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন