ঢাকা, সোমবার, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

এবার বদলা নেওয়ার পালা

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-০৫ ৯:০৯:৫৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৯ ৮:৩৯:৩৫ পিএম

লন্ডন থেকে ইয়াসিন হাসান: বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড।

৯৭’র চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে ৯৯’র ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুই দশক পর আবার ইংল্যান্ডে ফিরেছে বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক ক্রিকেটের মঞ্চে আবার মুখোখি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ২০ বছর আগে-পরের মধ্যে পার্থক্য একটাই। সেদিনের পুচকে বাংলাদেশ আর ওই বাংলাদেশ নেই। নিউজিল্যান্ড রয়েছে আগের মতোই। হতে পারে ওই সময়ের থেকে আরও বেশি পরাক্রমশালী।

সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড এখন অনেকটাই সেইম-সেইম। দুই দলই নিজেদের মাটিতে দেখায় দাপট। কিন্তু নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশ এগিয়ে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কার্ডিফে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।  এ পরিসংখ্যান অবশ্য এটা স্পষ্ট করছে না বাংলাদেশ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয়।  বাংলাদেশ যে সহজেই হার না মানার দল তা বুঝাতেই স্রেফ বলা।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাট-বলের দাপট দেখিয়ে চলছে বাংলাদেশ।  অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের পর যে তিনটি দলের সঙ্গে শেষ চার বছরে সবথেকে বেশি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, তার মধ্যে নিউজিল্যান্ড একটি।  ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড ৯টি করে, জিম্বাবুয়ে খেলেছে ৮টি।  অন্য দুই দলের মতো অবশ্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাফল্য নেই।  ৭ পরাজয়ের বিপরীতে জয় ২টি।
 


তবে এখন যে মঞ্চে বাংলাদেশ মাঠে নামতে যাচ্ছে সেখানে অতীতের পরিসংখ্যান বড় কোনো ইঙ্গিত বহন করে না।  নিজেদের দিনে পারফরম্যান্স আপ টু মার্ক ও প্রসেসগুলো ঠিক থাকলে জয় পেতে পারে যেকোনো দলই।  বিশ্বকাপে দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিতেছে।  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একচেটিয়ে জয় পায় কেন উইলিয়ামসনের দল।  বাংলাদেশ দৃঢ় লড়াই করে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে।  তাইতো নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন কোচ স্টিভ রোডস।

‘আমরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ম্যাচে হারিয়েছি। আমরা জিততে চাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও। যদিও কাজটি সহজ নয় তবুও আমি আশাবাদী আমরা জিতব।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ১০টিতে।  র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়।  দুই দলের একাধিক ক্রিকেটারের পছন্দ দুই দল।  এ দলের বিপক্ষে সাকিবের রেকর্ড বেশ ঈশ্বনীয়।  তাদের মূল পরিকল্পনা সাকিবকে ঘিরে। বিশেষ করে স্পিন।  সাকিবের বল ঠিকমতো সামলাতে এসেক্স ক্লাব থেকে আজাজ পাটেল নামের বাঁহাতি স্পিনারকে অনুশীলনে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

তবে আজকের ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন পেসাররা।  ওভালের উইকেটে ঘাস থাকায় পেসাররা ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে বোল্ট, গ্র্যান্ডহোম, ফার্গুসনদের গতি, বাউন্স ও সুইং হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
 


‘তারা বোলিং উইকেট বেশ ভালো ও শক্তিশালী। বোল্ট নতুন বলে ভালো বোলিং করে থাকে।  তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভালো সময় কাটাতে হবে।  অন্যথায় বিপদ হবে।  পাশাপাশি পুরো ইনিংসেই ভালোমানের উইকেট তুলে নেওয়ার মতো বোলার আছে। তাই তাদের বিপক্ষে খেলতে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে তুঙ্গে।  তারা সব মিলিয়ে ভালো দল।’ – বলেছেন রোডস।

নিউজিল্যান্ড শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা একাদশ নিয়ে মাঠে নামবে। বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন করলেও করতে পারে। স্পিন অলরাউন্ডার মিরাজের পরিবর্তে সুযোগ আসতে পারে সাব্বিরের। সেক্ষেত্রে মোসাদ্দেক ও সাকিব থাকবেন বিশেষায়িত স্পিনার। মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন পেস বিভাগ সামলাবেন।

২০১১ বিশ্বকাপ বাদে চারটি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ।  ৪ ম্যাচের ৪টিতেই হার টাইগারদের।  ১৯৯৯ সালে কিউইদের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি দল। ২০০৩ বিশ্বকাপে একই ফল। ২০০৭ বিশ্বকাপে মাশরাফি, সাকিব, তামিম ও মুশফিকরা মিলে লড়াই করলেও পেরে উঠেনি। ২০১৫ বিশ্বকাপে তাদের মাটিতেই তাদেরকে হারানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেটাও হয়নি। এবার পুরোনো বদলা নেওয়ার পালা।

ঈদ আনন্দ দ্বিগুন হওয়ার অপেক্ষা।




রাইজিংবিডি/লন্ডন/৫ জুন ২০১৯/ইয়াসিন