ঢাকা, শনিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আপসেট’ ঘটাতে চায় বাংলাদেশ

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১২ ৬:২২:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১২ ৬:২২:২২ পিএম

টনটন থেকে ইয়াসিন হাসান : হাবিবুল বাশারের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথম গ্রুপপর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে উঠেছিল। ২০০৭ বিশ্বকাপ ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের টার্নিং পয়েন্ট। একালের সব ক্রিকেটারই বিশ্বাস করেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে আমরা বুঝতে পারি যে, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আজকের যে আত্মবিশ্বাস সেটার জন্ম হয়েছিল ওই ম্যাচ দিয়ে।’

হাবিবুল বাশার ছিলেন সেই দলের অধিনায়ক। মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিকরা ছিলেন সহযোদ্ধা। মাশরাফিরা এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাবিবুল বাশার এখন জাতীয় দলের নির্বাচক। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে একেকটি জয়, গ্রুপপর্ব পেরিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার মর্ম বোঝেন হাবিবুল। তাইতো খুব আনন্দ নিয়ে বলেন, ‘বিশ্বকাপ যেই ফরম্যাটেই হোক, পরের ধাপে যাওয়ার আনন্দ আলাদা। সেবার এক জয়ে আমরা সুপার এইটে উঠেছিলাম।’

কিন্তু এবারের ফরম্যাট সম্পূর্ণ আলাদা। ২০ বছর পর ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ফিরেছে। আইসিসি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ৯২’র ফরম্যাটে। অংশগ্রহণকারী ১০ দল খেলছে একে অপরের সঙ্গে। সেখান থেকে চার দল যাবে সেমিফাইনালে। তাই একটি ম্যাচ জিতলেই পরের রাউন্ডের টিকিট পেয়ে যাবে এমনটা এবার হচ্ছে না। সেমিতে যেতে জিততে হবে অন্তত পাঁচ ম্যাচ।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুরুটা ভালো করার পর নিউজিল্যান্ডকেও প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসা হয়নি। মাত্র ২৪৪ রানের পুঁজি নিয়ে নিউজিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে জয়ের চিন্তা করা বিলাসিতা। তবুও বোলাররা লড়াই করেছিল শেষ পর্যন্ত।



হাবিবুলের মতে, বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছিল ব্যাটিংয়ে, ‘আমরা আসলে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচটির আফসোস করছি। ওটা হলে আমরা এখন টপে থাকতাম। খুব কাছে গিয়েও আমরা পারিনি। তবে ওরকম ম্যাচে ২৪০ (২৪৪) করে আসলে জয়ের চিন্তা করা বোকামি! আরেকটি বিষয় আমাদের সেদিনের ব্যাটিংয়ের লক্ষ্য ছিল ৩৩০-৩৫০। কিন্তু উইকেট ওকরকম ছিল না। আমরা যদি ২৭০-এর মতো করে চিন্তা করতাম তাহলে দেখতেন খুব সহজেই হয়ে যেত।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তেমন চিন্তিত নন জাতীয় দলের নির্বাচক, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা স্রেফ উড়ে গেছি। এরকম যে শুধু আমাদেরই হয়েছে কিংবা আমাদেরই হবে, তা মোটেও নয়। এরকম কয়েকটা ম্যাচ এবারের বিশ্বকাপে হবে। তবে ইতিবাচক দিকও আছে। শুরুতেই আমাদের বাজে ওরকম একটি দিন কেটে গেছে। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’

গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। সেবার আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল মাশরাফির দল। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের মতো বড় দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ পায় শেষ আটের টিকিট। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি এবং নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে জয়। বাংলাদেশ যায় সেমিফাইনালে।



বিশ্বমঞ্চে বড় দলকে হারানোর ক্ষমতা, সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস সবই আছে। এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যেতে হলে শেষ পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশকে জিততে হবে চারটি। টনটনে আগামী সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের পর বাংলাদেশ খেলবে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।

হাবিবুল বিশ্বাস করেন প্রত্যাশিত জয়ের পাশাপাশি বড় দলকে হারিয়ে ‘আপসেট’ ঘটাতে পারে বাংলাদেশ, ‘এখন সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া তো আসলে উপায় নেই। সেমিফাইনালের দৌড়ে আমরা এখনো টিকে আছি। আমাদের জিততে হলে বড় দলকে হারাতে হবে। আগে কী চিন্তা করেছি, সেটা ভুলে যেতে হবে। সামনে বড় দল যারাই আছে তাদেরকে হারাতে হবে। এটাই লক্ষ্য। এতটুকুর নিশ্চয়তা দিতে পারি সেমিফাইনালের লড়াইয়ে অনেক অঘটন ঘটবে। এটা যে কেউ ঘটাতে পারে। আমরাও পারি।’

হাবিবুলের বিশ্বাসে বিশ্বাসী পুরো দল। ২০০৭ বিশ্বকাপে যে অঘটন তার দল ঘটিয়েছিল, সেই একই অঘটন এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে ঘটাতে চায় মাশরাফির দল।



রাইজিংবিডি/টনটন/১২ জুন ২০১৯/ইয়াসিন/পরাগ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন