ঢাকা, বুধবার, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৪ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

এক বছরে কতটা সফল রোডস?

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৩ ১১:০৫:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৫ ১০:০২:৩১ পিএম
এক বছরে কতটা সফল রোডস?
Voice Control HD Smart LED

টনটন থেকে ইয়াসিন হাসান : চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দায়িত্ব ছাড়ার পর ছয় মাস কোনো প্রধান কোচ ছাড়াই চলেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। গত বছরের জুনে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান স্টিভ রোডসকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিবি। দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ গ্যারি কারস্টেন ছিলেন কোচ নিয়োগের পরামর্শক।

বাংলাদেশে যোগদানের আগে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাব ওস্টারশায়ারের কোচ ছিলেন রোডস। এর বাইরে কোনো আন্তর্জাতিক দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা তার ছিল না। মূলত ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে ইংলিশ কোচকে উড়িয়ে এনেছিল বিসিবি। তাতে এক বছরে কতটুকু সফল রোডস?

পরিসংখ্যানের বিচারে রোডসের সাফল্যের হার ৭৫ শতাংশ। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫ ওয়ানডের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১৫টিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছে টেস্ট সিরিজও। জিতেছে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজ। পারফরম্যান্স মূল্যায়নে রোডস লেটার মার্কস পেয়েছেন ভালোভাবেই।

তবে তার সাফল্যের বড় অংশ জুড়েই আছে বাংলাদেশের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার। মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করায় সফল হয়েছে বাংলাদেশ। রোডস পেয়েছেন কৃতিত্ব। তরুণ খেলোয়াড়দের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ থেকে সমৃদ্ধ করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন রোডস।



২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর সৌম্য সরকার নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন অনেকবার। নিজের গণ্ডির ভেতর থেকে রোডস সৌম্যকে যেভাবে সমর্থন করেছেন, তা ছিল চমকপ্রদ। দায়িত্ব নিতে শেখানো, নিজের সামর্থ্য বোঝানো এবং স্ট্রেং বিল্ডআপে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপশি মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে দলে ঢোকানো এবং নিয়মিত খেলার মধ্যে রাখা ছিল আরেকটি ভালো সিদ্ধান্ত।

‘কোচ হিসেবে আমার পরিকল্পনা ছিল ছেলেদের দায়িত্ব বন্টন করা, তাদেরকে অনফিল্ডের পরিস্থিতি বোঝানো। এতে যেন তারা মাঠে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং খেলোয়াড় হিসেবে তাদের জ্ঞান আরো সমৃদ্ধ করতে পারে। এটা হয়তো একটু ভিন্ন উপায়ে করেছি। আসলে যেভাবে চলছে সেটাই আমি চেয়েছিলাম। তরুণ ক্রিকেটাররা যেভাবে পারফর্ম করছে সেটা দেখে ভালো লাগছে। এজন্য সবাই বলছে আমাদের স্কোয়াডটা ভালো’- বলেছেন রোডস।

শিষ্যদের আলাদা আলাদা করেও মূল্যায়ন করেছেন রোডস, ‘সৌম্য পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পেয়েছে। এখন দুই পায়ে ভর করে দৌড়াচ্ছে। লিটন দুর্দান্ত ফর্মে আছে, যদিও সে খেলছে না। সাব্বিরের নিউজিল্যান্ডের সেঞ্চুরি তো মনেই থাকার কথা। মিরাজ শেষ দুই বছর ধরেই বোলিংয়ে ধারাবাহিক। মুস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দিন কঠিন লড়াইয়ের পর থিতু হয়েছে। ’

রোডসের মতে, তরুণ ক্রিকেটারদের ফর্মে ফেরা এবং তাদের ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কোয়াডকে করেছে শক্তিশালী। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যে যাত্রা করেছে, তাতে খুশি কম বেশি সবাই। পরবর্তী সফর ভালো কাটানোই এখন মূল লক্ষ্য।

রোডস যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন বাংলাদেশ দল চলছিল ব্যাকগিয়ারে। আত্মবিশ্বাসে ছিল ঘাটতি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ হারের পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হেরেছিল। খুইয়েছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ। ভারতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও বিসর্জন দেয়।

খুব বেশিদিন সময় লাগেনি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর ঘরের মাঠে ওদের বিপক্ষে টেস্টও জেতে বাংলাদেশ। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। ওঠা-নামা থাকলেও বাংলাদেশ এখন শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।



কোচ হিসেবে রোডস রিওয়ার্ড পয়েন্ট পাবেন দুটি কারণে। প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে উপস্থিত থেকে অনুসরণ করা এবং দ্বিতীয়ত, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব। কোন ক্রিকেটারের সঙ্গে কীভাবে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, কার কোথায় সমস্যা, সেটা কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটা খুব ভালো পারেন রোডস।

শিষ্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা ছিল তার অগ্রাধিকার তালিকায় প্রথম। সেই কাজটা খুব ভালোভাবেই পেরেছেন ইংলিশ কোচ। কড়া হেড মাস্টার হননি, সেটাতেই আনন্দ খুঁজে পান সবাই। বিদেশি কোচদের ঘরোয়া ক্রিকেট সম্পর্কে আগ্রহ থাকে সামান্য। অথচ রোডস ছুটির সময়ে পড়ে ছিলেন বাংলাদেশে।

বিপিএল, ডিপিএল, বিসিএল ও এনসিএলের খেলা মাঠ ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অর্থাৎ পাইপলাইন কেমন, তা পরখ করতে বয়সভিত্তিক দলের খেলা দেখতে গিয়েছিলেন কক্সবাজারে। শুধু জাতীয় দল নয়, বাংলাদেশ ‘এ’ দল, হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত থেকেছেন ৫৫ বছর বয়সি কোচ।

চলমান বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে ইংলিশ কোচকে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অনট্র্যাকেই আছে দল। বাকিটা পথ ভালোভাবে পাড়ি দিতে পারলে বাংলাদেশের সাফল্যের পাতায় বড় অংশ জুড়েই থাকবেন রোডস।

 

 

রাইজিংবিডি/টনটন/১৩ জুন ২০১৯/ইয়াসিন/পরাগ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge