ঢাকা, শুক্রবার, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আবার কবে টনটনে ফিরবে ওয়ানডে ক্রিকেট?

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৭ ৫:১৯:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৭ ৯:১৮:৩৭ পিএম

টনটন থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ এলেই যেন খুঁজে বের করা হয় টনটনের কুপার অ্যাসোসিয়েটস গ্রাউন্ডের চাবি!

এখানে এখনো টেস্ট ম্যাচ হয়নি।  ওয়ানডে হয়েছে মাত্র ৫টি।  টি-টোয়েন্টি একটি।  বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আগের যে পাঁচটি ওয়ানডে হয়েছে প্রতিটিই বিশ্বকাপের ম্যাচ। এর বাইরে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে হয়নি।  সবথেকে বড় কথা স্বাগতিক ইংল্যান্ড এ মাঠে ওয়ানডে খেলেছে একটি। সেটাও ১৯৮৩ বিশ্বকাপের ম্যাচে।  ওই বিশ্বকাপে পর ৯৯’তে দুটি ম্যাচ হয়েছিল টনটনে।



পাক্কা বিশ বছর পর ইংল্যান্ডে আবার ফিরেছে বিশ্বকাপ। টনটনও পেয়েছে ম্যাচ।  ইংল্যান্ডের মোট ১১ ভেন্যুতে এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচ আয়োজন করেছে আইসিসি।  ব্রিস্টল, ডারহাম ও টনটন পেয়েছেন সর্বনিম্ন ৩টি করে ম্যাচ।  আয়োজক হিসেবে প্রতিটি ভেন্যু আলাদা হাইপ তৈরি করে।  টনটনও তার বাইরে নয়।  তবে এখন পর্যন্ত যে চারটি শহরে যাওয়া হয়েছে টনটনে বিশ্বকাপের উন্মাদনা সবথেকে বেশি। 



আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচের আগে স্থানীয় ট্যাবলয়েট টন নিউজ প্রচ্ছদেই বিশ্বকাপের খবর প্রকাশ করেছিল।  প্রাক্তন ইংলিশ ওপেনার মার্কোস ট্রেসকথিকের ছবি দিয়ে তারা শিরোনাম করেছিল এভাবে,‘দ্য ওয়েট ইজ ওভার’।  টনটন শহরটা ইংল্যান্ডের অন্য শহরগুলোর মতো নয়। খুবই ছোট শহর।  পুরোটা গাড়ি দিয়ে ঘুরলে ত্রিশ মিনিটই যথেষ্ট! ছোট শহর।  জনসংখ্যা কল্পনাতীত।  পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। গাড়ি-ঘোড়া কম।  বাড়ি-ঘরও কম।



অনেক কমের ভেতরে এখানে রয়েছে ক্রিকেটের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।  বিশ্বকাপকে ঘিরে রয়েছে উন্মাদনা।  বিশ্বকাপের বড় বড় শহর যেমন লন্ডন, কার্ডিফ কিংবা ম্যানচেস্টারে যা চোখে পড়েনি এখানে তা দেখা গিয়েছে।  সিটি সেন্টারের মাঝে বিশাল বিল্ডিংয়ের মাঝে সবুজের কার্পেটের ওপর বসানো একটি বল, সাথে তিনটি স্ট্যাম্প।  পার্ক স্ট্রিটের সামনে একটি বাড়িতে টাঙানো স্কোরবোর্ড।  টনটনে যে পাঁচ দল খেলবে পাঁচ দলের জাতীয় দলের পতাকাও ছিল ঠিক পাশে। এছাড়া সিটি সেন্ট্রারের পুরোটা জায়গা জুড়েই ছিল বিশ্বকাপের ব্যানার ফেস্টুন।



টনটনের স্থানীয় পত্রিকা যখন বিশ্বকাপকে ঘিরে উন্মাদনার তৈরি করছে তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তা এড়িয়ে গেছে ভালোভাবেই।  ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকা গতকাল ৪৬ পাতার ক্রীড়া ম্যাগাজিন বের করেছিল।  প্রচ্ছদে সমারসেটের খবর।  বিশ্বকাপের খবর ৩০ পাতার পর।  দুই পাতা জুড়ে টনটনের প্রথম দুই ম্যাচের ছবি অবশ্য ছেপেছিল তারা।



টনটনে পা দিয়ে জানা গিয়েছিল, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই তাদের গ্যালারি হাউসফুল হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যেহেতু তাদের বিশ্বকাপ শেষ হচ্ছে তাই এ ম্যাচেও গ্যালারি থাকবে হাউসফুল।  মাত্র ৮ হাজার ধারণ ক্ষমতা টনটন মাঠের।  দিনের শুরুতে বাংলাদেশের সমর্থকদের আনাগোনা ছিল বেশি।  বেলা বাড়ার সাথে সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমর্থক এবং স্থানীয়দের দেখা গেল।

মিডিয়া বক্সে ঢুকতেই কথা হলো ওদের সেচ্ছাসেবক ক্লারির সঙ্গে।  বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে উন্মাদনা তাদের মধ্যে ছিল আজ সেই উন্মাদনা নেই।  বিশ্বকাপকে তারা স্বাগত জানিয়েছিল অনাড়ম্বর আয়োজনে।  আজ বিদায় দিতে হচ্ছে।  ‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়'। এই অমোঘ সত্যের কাছে হার মানে সকল উন্মাদনা, আবেগ, অনুভূতি।



রাইজিংবিডি/টনটন/১৭ জুন ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন