ঢাকা, সোমবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২১ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মাশরাফির ভেতর আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলাম : অ্যান্ডি রবার্টস

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৮ ১২:১৮:৩২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৮ ১০:১৯:৩৯ এএম

টনটন থেকে ইয়াসিন হাসান : পার্ক স্ট্রিটের কর্নার হাউজ হোটেলের পানশালায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল খুঁজে পেলেন না। রুমে ফিরে বিছানায় পেলেন। ফিরে এলেন লবিতে। ‘বলো তোমারা কী জানতে চাও’- যেভাবে বলছিলেন মনে হচ্ছিল স্যার অ্যান্ডি রবার্টস ফিরে গিয়েছিলেন সেই সত্তরের দশকে। ভয়ানক কোনো বাউন্সারে শুরুতেই প্রতিপক্ষ শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছেন!

বয়সের ভারে কিছুটা নুহ্য হয়েছেন। কিন্তু প্রায় সত্তরেও তেজ একটুও কমেনি। ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা কিংবা ক্রিকেট থেকে সরে যেতে পারেননি, ‘আমি কখনোই ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলাম না। এখনো তরুণ পেসারদের সাহায্য করি। তবে একটা সমস্যা আছে, এখন আমার মতো বুড়োর কথা কেউ শুনতে চায় না।’ তার কথা এখন হয়তো কেউ শুনতে চায় না। কিন্তু দুই দশক আগে তরুণ কৌশিক শুনেছিলেন। শুনেছিলেন বলেই কৌশিক আজ এ পর্যায়ে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি হওয়ার আগে কৌশিক নামেই পরিচিত ছিলেন। রবার্টসের মুখেও একই নাম, ‘আমি তো দীর্ঘদিন ধরেই ওর ভক্ত। ওকে তো আমি কৌশিক নামেই চিনি।’ ক্রিকেট ছাড়ার পর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের কোচ ছিলেন। ওই দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশ দলের অস্থায়ী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি। আক্রমণাত্মক, গতিময় বোলিং দিয়ে রবার্টসের নজর কেড়েছিলেন মাশরাফি। এরপর সরাসরি ‘এ’ দলে মাশরাফি। মাশরাফির কাছে অ্যান্ডি রবার্টস হচ্ছেন বোলিং গুরু।

মাশরাফিকে প্রথম দেখায় কেমন লেগেছিল? জানতে চাইলে কথার ঝাঁপি খুলে দেন রবার্টস,‘ওর বয়স যখন ১৬ কিংবা ১৭, তখন থেকেই ও বোলিংয়ে আগ্রহী ছিল। বাংলাদেশে তখন ফাস্ট বোলার ছিল না। ও ছিল তরুণ, অনভিজ্ঞ। কিন্তু সব সময় শিখতে মুখিয়ে থাকত। যা বলতাম তাই করত। ’

পরবর্তীতে যেটা বললেন সেটা হয়তো মাশরাফির জীবনের সেরা কমপ্লিমেন্ট, ‘আমি ওর মধ্যে এমন কিছু পাই যেটা খেলোয়াড়ী জীবনে আমার মধ্যে ছিল। বিশেষ করে যখন আমি তরুণ ছিলাম। সারাক্ষণ বোলিং করতাম এবং কখনোই ছেড়ে কথা বলতাম না।’



মাশরাফির শুরুর সময়ের প্রত্যেকেরই দাবি, মাশরাফি ছিলেন দ্রুতগতির। সময়ের থেকে একধাপ এগিয়ে। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় ও চোটের ছোবলে মাশরাফি হারিয়েছেন নিজেকে। দুই পায়ে সাতটি অস্ত্রোপচার। স্বাভাবিক জীবন যেখানে আটকে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে মাশরাফি দিব্যি খেলে যাচ্ছেন। রবার্টসের প্রথম দেখার দ্বিগুণ বয়সে এখন মাশরাফি।

শিষ্য এখনো খেলে যাচ্ছেন, সেটা দেখেই বিস্ময় কিংবদন্তির, ‘সত্যিই আমি অবাক। ও এখনো কঠোর পরিশ্রম করছে। ওর হাঁটুর অস্ত্রোপচার হয়েছে কয়েকবার, প্রত্যেকেরই তো জানার কথা। শরীরের ওপর দিয়ে একের পর এক ধকল গেছে। ওফ! সত্যিই এটা কষ্টদায়ক...’- শেষ করতে পারেননি রবার্টস।

শিষ্যর বর্তমান বোলিং নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। রবার্টস মনে করেন, এরকম সমালোচনা বোকামি, ‘তারকাদের কাছে ভক্তদের একটা প্রত্যাশা থাকে। যখন সেটা পূর্ণ হয় না তখন সমালোচনা করে। ওকে নিয়ে এখন যে সমালোচনা হচ্ছে সেটা হওয়া অনুচিত। তার লম্বা ক্যারিয়ার। আমার মতে, ও বাংলাদেশের সেরা বুদ্ধিদীপ্ত ও ভালো ক্রিকেটার।’

শিষ্যর সাংসদ হওয়ার খবরটা বেশ ভালোই জানেন রবার্টস। ক্রিকেট মাঠের পর রাজনীতির মাঠে মাশরাফির এগিয়ে যাওয়াকে ভালো চোখেই দেখছেন এ ক্যারিবীয়, ‘কৌশিক অনেকটা করেছে বাংলাদেশে জন্য। বাংলাদেশ দলের সে নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক। এটা ভালো দিক যে ও ভিন্ন পথে পা বাড়িয়েছে।’  বিশ্বকাপের আগে মাশরাফির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে রবার্টসের। লন্ডনে দুজনের দেখা হওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে হয়নি।

অ্যান্টিগায় জেলে পরিবারের সন্তান ছিলেন অ্যান্ডি রবার্টস। ভাই-বোন সব মিলিয়ে ১৪ জন। ১৬ বছর পর্যন্ত ক্রিকেট খেলতে পারেননি। পরের গল্পটা তো মোটামুটি সবারই জানা। মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার, কলিন ক্রফট ও অ্যান্ডি রবার্টস; এ পেস চতুষ্টয় নাড়িয়ে দিতেন যেকোনো ব্যাটিং অর্ডার। ২০২ টেস্ট ও ৮৭ ওয়ানডে উইকেট তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে। পেয়েছেন স্যার উপাধি। কতশত অর্জনের ভিড়ে মাশরাফিকে মনে রাখা, ফোন করে অনুপ্রাণিত করা তো এক অনন্য নিদর্শন। তাইতো শেষ বাক্যে বললেন, ‘অল দ্য বেস্ট মাশরাফি। এটাই এখন তাকে বলার আছে।’

 

 

রাইজিংবিডি/টনটন/১৮ জুন ২০১৯/ইয়াসিন/পরাগ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন