ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

লর্ডসের ফাইনাল নিয়ে স্টিভ ওয়াহ্’র কলাম...

ইয়াসিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৪ ৮:৩১:৫১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৫ ৩:৫৭:৫৬ এএম

লন্ডন থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক: পাক্কা ২০ বছর আগে ক্রিকেটের তীর্থস্থান লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন স্টিভ ওয়াহ্। পাকিস্তানকে উড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল বিশ্বকাপের ট্রফি। লর্ডসে আবার ফিরেছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেদিনের নায়ক ফিরে গেলেন দুই দশক আগে। পুরোন স্মৃতি রমন্থন করেছেন লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে।

আজকের ফাইনাল নিয়েও খুলে দিয়েছেন কথার ঝাঁপি,লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অনুভূতি এখনও আমি ভুলতে পারিনি। ২০ বছর হয়ে গেল কিন্তু মনে হচ্ছে এইতো গতকাল বিশ্বকাপ জিতেছি! বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের জন্য এমসিজি এবং এসসিজি সবথেকে আকর্ষণীয় ভেন্যু। কিন্তু আমরা সবাই জানি লর্ডসের মাহাত্ম, ঈশ্বর্য। এমনিতেই তো এটাকে হোম অব ক্রিকেট বলা হয় না।

রোববার দুই দলের ক্রিকেটারদের জন্য সবথেকে রোমাঞ্চকর একটি দিন। হয়তো এ দিনটিকে তারা সারাজীবন মনে রাখবে। বিশেষ করে যারা জিতবে তারা অজীবন নিজেদের অর্জনে গর্ব করবে। কিন্তু এ উপলক্ষ্যকে রাঙিয়ে রাখতে তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে হবে, উৎসবে মেতে থাকলে হবে না।

নিউজ্যিলান্ড হয়তো কিছুটা এগিয়ে থাকবে। চার বছর আগে তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল।

২৭ বছর পর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে। তাদের কোনো ক্রিকেটারের এতো বড় মঞ্চে খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাই যত তাড়াতাড়ি তারা ফাইনালের মঞ্চে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে তত তাদের সুবিধা হবে।

শিরোপা জিততে এবং জীবনের সবথেকে বড় ম্যাচটি খেলতে নেমে আপনাকে শুধু আপনার রুটিন মাফিক কাজটা করে যেতে হবে। তাহলেই হবে...

অভিজ্ঞতার কথা যদি চিন্তা করি, তাহলে হয়তো স্বাগতিক ইংল্যান্ড পিছিয়ে থাকবে। তবে এটা উড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে একটা কথা চিন্তা করে, তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা। তারা জানে লর্ডসে খেলছে এবং এটা তাদের মাথায় ঘুরবে। সেই সুবিধা তারা নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারে হয়তো শিরোপাও জিততে পারে।

ফেবারিট কে? হবে তা নিয়ে আমি কথা বলতে রাজী নই। তবে মাঠে যে শান্ত থাকবে এবং নিজের কাজটা বাগিয়ে নিতে পারবে তাদের হাতে শিরোপা উঠবে। তবে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড যেভাবে অস্ট্রেলিয়াকে হ্যান্ডেল করেছে হয়তো তাদের নিয়েই এখন বেশি কথা হচ্ছে। যদি ইংল্যান্ড ওখানেই পড়ে থাকে তাহলে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে যাবে।

 

আন্ডারডগ হিসেবে নিউজিল্যান্ড ভয়ংকর। ম্যানচেস্টারে ভারতের বিপক্ষে যা করে দেখিয়েছে তা ছিল অসাধারণ। ফাইনালে পুনরায় তারা এই কাজটি করতে মুখিয়ে থাকবে।

তবে দশদিন আগে নিউজিল্যান্ড কিন্তু ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পায়নি। তবে এখন সেটা জানালার বাইরে চলে গেছে।

বলে রাখা ভালো, অস্ট্রেলিয়া লর্ডসে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছিল এবং এজবাস্টনে ইংল্যান্ড সেই প্রতিশোধ নিয়েছে ভালোভাবে। অস্ট্রেলিয়ার এমন আত্মসমর্পণ সচরাচর দেখা যায় না। ইংল্যান্ড ১০ এ ১০ পারফরম্যান্স করেছিল। তারা যদি রোববার একই পারফরম্যান্স দিতে পারে ব্ল্যাকক্ল্যাপরা দাঁড়াতে পারবে না!

জেসন রয় এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোযাড় এবং অসাধারণ ফর্মে আছে এবং ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের নেতৃত্বে থাকবে সে। আমি মুখিয়ে থাকবে বেন স্ট্রোকসের পারফরম্যান্স দেখার জন্য।

ইংল্যান্ড যদি নিউজিল্যান্ডকে হারাতে চায় তাহলে তাদের অধিনায়ককে আটকাতে হবে। কেন উইলিয়ামসন তাদের দলের স্তম্ভ। তাদের সেরা ব্যাটসম্যান। কতোটা পরিপক্ক ব্যাটসম্যান সে সেটা এবার বিশ্বকাপে করে দেখিয়েছে। ইংল্যান্ড যদি শুরুতেই তাকে আটকে দিতে পারে তাহলে বাজিকররা ইংল্যান্ডের পক্ষে বাজি ধরতে পারে।

সবশেষ একটা কথাই বলবো, ক্রিকেটের তীর্থে হচ্ছে ফাইনাল। এখানে ক্রিকেটের জন্য ভালোবাসা ছড়াবে। দুই দল মাঠে নামবে শিরোপা জিততে। কিন্তু দিন শেষে জিতবে ক্রিকেট।

 

রাইজিংবিডি/লন্ডন/১৪ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/শামীম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন