ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

তারাই ভবিষ্যতের ‘বাংলাদেশ’

দিল্লি থেকে ইয়াসিন হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৪ ৭:১৯:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৪ ১০:১১:৩৩ পিএম

আফিফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও নাঈম শেখের মধ্যে দারুণ মিল। প্রত্যেকেই জাতীয় দলে নিজেদের আগমন রাঙিয়েছেন দারুণ পারফরম্যান্সে। যেমনটা রাঙিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।

তিন সিনিয়র ক্রিকেটার শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। এই ত্রয়ী বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছিলেন আর্শীবাদ হয়ে। এখন তাদের কাঁধেই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্যান্ড বলতেই বোঝায় ‘পঞ্চপাণ্ডব’কে- মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিম ও মাহমুদউল্লাহ। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রূপকার এই পঞ্চপাণ্ডব।

চোট জর্জরিত ক্যারিয়ারে মাশরাফি কখনো দলে থেকেছেন, কখনো থাকেননি। অভিষেকের আগে ও পরে মাশরাফি নিজেকে মেলে ধরেছেন দারুণভাবে। যতটা সময় মাশরাফি মাঠে থেকেছেন কলার উচুঁ করে খেলে গেছেন। দলকে দিয়েছেন সেরা সাফল্য।

মাহমুদউল্লাহরও শুরুটা খারাপ ছিল না। কিন্তু ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মাহমুদউল্লাহকে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ‘আউট অব দ্য বক্স’ পারফরম্যান্স করে মাহমুদউল্লাহ নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন জাতীয় দলের অপরিহার্য ক্রিকেটার হিসেবে।

সেখানে মুশফিক, তামিম ও সাকিব শুরু থেকেই ছিলেন দলের নিয়মিত ক্রিকেটার। পারফরম্যান্সের কারণে তাদের দলের বাইরে যাওয়ার ঘটনা নেই বললেই চলে। অনেক ত্যাগ তীতিক্ষা আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই ত্রয়ী এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্র্যান্ড। তাদের পথের পথিক আজকের আফিফ, আমিনুল ও নাঈম। তরুণ ত্রয়ী নিজেদের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে। নামের পাশে প্রতিভাবান ট্যাগ লেগেছিল ওই সময়ে।

অনেক অলিগলি, অনেক পথ পেরিয়ে তারা এখন জাতীয় দলে। প্রত্যেকেই নিজের আগমণে মুগ্ধ করেছে সবাইকে। তাইতো তাদের বলা হচ্ছে ভবিষ্যত ‘বাংলাদেশ।’ হয়তো কঠিন সময় এখনো কাটাননি তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আমেজ এখনো টের পাননি। কিন্তু যে মেধা, প্রজ্ঞা, কৌশল আর অফুরন্ত ইচ্ছা শক্তি নিয়ে তারা জাতীয় দলে এসেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

‘তরুণরা অসাধারণ শুরু করেছে। সুযোগ কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছে। নাঈম, বিপ্লব, আফিফ সবাই খুব ভালো চেষ্টা করেছে। ওদের ভেতরে যে বড় ক্রিকেটার হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেটা দেখিয়েছে। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার হিসেবে আমরা জানি, আমরা কোন পথে যাচ্ছি। আমরা ইনশাআল্লাহ ভালো পথে যাচ্ছি। এই ধারাবাহিকতা আমরা যেন ধরে রাখতে পারি সামনেও’- বলেছেন মুশফিকুর রহিম।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ নিজেদের নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। যেকোনো দলকে যেকোনো সময় যেকোনো কন্ডিশনে হারাতে পারে বাংলাদেশ। পঞ্চপাণ্ডব দলকে বিশ্বাস করাতে শুরু করে, ছাড় না দিয়ে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলেই প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার এ সংস্কৃতি মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা ছড়িয়ে দিচ্ছেন তরুণদের মাঝেও।

‘আমরা আন্ডারডগ হিসেবে এখানে এসেছি। আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট এবং প্রধান কোচকে অনেক ধন্যবাদ কারণ শেষ তিন সপ্তাহে যেরকম পরিস্থিতি চলছিল এবং যেরকম পরিস্থিতি গিয়েছে, সেখান থেকে আমাদের টিমকে একটা জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছে। তরুণদের স্বাধীনতা দেওয়া এবং আত্মবিশ্বাস দেওয়া যে, ২ ওভার বল করে ২০-২৫ রান দাও বা এক বলে আউট হও, তবুও তুমি এই দলের  গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তোমরা শুধু অংশগ্রহণ করার জন্য না তোমরাও ম্যাচ উইনিং প্লেয়ার। এই মেসেজটা সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করি নতুনদের। আমরা এই সংস্কৃতিটা তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমি এখন যে জায়গায় আছি। ওদের যে সম্ভাবনা ওরা ৮ বছর বা ১০ বছরে এই জায়গাটা অতিক্রম করতে পারবে।'

দলে সাকিব, তামিম নেই। সফলতম অধিনায়ক  মাশরাফিও নেই। মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ আছেন। তাদের ছায়ায় চলছে দল। মুশফিক মনে করেন, একটা সময় তাদের ছাড়াও দল চলবে। সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে। গড়বে নতুন ইতিহাস। ছাড়িয়ে যাবে তাদের অর্জনও।

‘সাকিব আমাদের জন্য অনেক বড় ক্রিকেটার। তাকে আমরা সব সময়ই মিস করি। তামিমও আমাদের দলের জন্য অনেক বড় একটা অংশ। অনেক ম্যাচ তারা এক হাতে জিতিয়েছে। দুজনই। তাদের আমরা অনেক মিস করেছি। এটাও বড় একটা সাইন যে বাংলাদেশ দল তাদের ছাড়া জিততে পারে। ভবিষ্যতে আমি থাকি বা না থাকি, হয়তো রিয়াদ ভাইও থাকবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি বাংলাদেশ দল তখন পারফর্ম করে যাবে’ - এমনটাই বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের লিটল মাস্টার।


দিল্লি/ইয়াসিন/পরাগ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন