ঢাকা, রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

চাই যুদ্ধের মানসিকতা : মুমিনুল

কলকাতা থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৪ ৬:৪৮:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৪ ৯:৪৩:৫২ পিএম
ছবি: বিসিসিআই

মাঠে নামার আগে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে হৃদস্পন্দন। চুপসে যায় লড়াইয়ের মানসিকতা। ভেঙে যায় মনোবল। বুকভরা সাহসের পরিবর্তে মাঠে নামতে হয় ভাঙা মন নিয়ে।

ওই লড়াইয়ে টেকা যায় না। মাথা নামিয়ে রাখতে হয়। যুদ্ধের ময়দানে প্রত্যেকে যেন পরাজিত সৈনিক। ক্রিকেটের নন্দনকানন বাংলাদেশের জন্য বধ্যভূমি! ইডেন টেস্টের একেকটি মুহূর্ত যেন একেকটি বিভীষিকাময় অধ্যায়। কেউ পারে না। না বোলার, না ব্যাটসম্যান। তাতে সব হারায় বাংলাদেশ। এমন লড়াইয়ের পর একটাই প্রশ্ন, কেন পারছে না বাংলাদেশ?

অধিনায়ক মুমিনুল হক সাফ জানালেন, মাঠে নেমে যুদ্ধ করার মানসিকতা না থাকলে ফল পাল্টাবে না বাংলাদেশের। নতুন অধিনায়কের একটাই কথা, ‘মানসিকতা পাল্টাও। ভালো ফল পাও।’ ইডেনে তিন দিনে টেস্ট হারের পর মুমিনুল কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে।

প্রশ্ন: আমরা কোথায় টেস্ট ম্যাচটি হারলাম?

মুমিনুল হক: দল হিসেবে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। ব্যাটিং ভালো হয়নি। বোলাররা মোটামুটি ভালো বোলিং করেছে। আমার মনে হয়, আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। সামনের বছর আমাদের অনেক খেলা আছে, আমরা যদি এই সব জায়গায় উন্নতি করতে পারি সেখানে ভালো করতে পারব।

প্রশ্ন: পুরো টেস্ট সিরিজেই বাংলাদেশকে এলোমেলো লাগল? সমস্যাটা কোথায়?

মুমিনুল হক: টেস্ট আমরা খুব নিয়মিত খেলি না। সামনের বছর আমাদের অনেকগুলো টেস্ট ম্যাচ আছে। প্রায় ১০টা টেস্ট আছে। আমরা যখন টানা টেস্ট ম্যাচ খেলব তখন এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব।

প্রশ্ন: গোলাপি বলে প্রথম খেললেন। সেই অভিজ্ঞতা কেমন হলো?

মুমিনুল হক: লাল বলের চেয়ে গোলাপি বলে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি। বিশেষ করে নতুন বলে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি। যখন শিশির পড়া শুরু হয়েছিল তখন কিন্তু খেলা সহজ হয়ে গিয়েছিল। আমরা যদি নতুন বলটা ঠিকঠাক সামলাতে পারতাম তাহলে আরও ভালো করতাম। গোলাপি নতুন বলে চ্যালেঞ্জ একটু বেশি, আমরা সেটা নিতে পারিনি। যে কারণে আমরা অনেক বেশি পিছিয়ে গেছি।

প্রশ্ন: এটাকে কি এখন অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন?

মুমিনুল হক: দেখুন পেশাদার ক্রিকেটারদের অজুহাত দেখানোর কোনো মানেই হয় না। আমি কোনো অজুহাত দেখাচ্ছি না। আমরা দল হিসেবে ভালো করতে পারিনি। এমনকি একটা জুটিও গড়তে পারিনি। কাল মুশফিক ভাই ও রিয়াদ ভাইয়ের মধ্যে একটা জুটি হয়েছিল। যদি আমরা ওই রকম অনেকগুলো কিংবা এর চেয়ে বড় কয়েকটি জুটি গড়তে পারতাম তাহলে ভালো হতো, আমরা ওদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারতাম। আমরা খুব বাজে ব্যাটিং করেছি।

প্রশ্ন: ব্যাটসম্যানরা কী শিক্ষা পেল এ টেস্ট থেকে?

মুমিনুল হক: এই সিরিজ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। এই বোলারদের বিপক্ষে কীভাবে খেলবেন, এই মানের বোলারদের সামলাতে পরবর্তীতে কীভাবে প্রস্তুতি নিবেন। দল হিসেবে আমার মনে হয়, সবাই ওই শিক্ষাটা নেবে। এই শিক্ষাটা পরের সিরিজে অনেক বেশি কাজে দিবে।

প্রশ্ন: টেকনিক্যালি কোনো সমস্যা চোখে লেগেছে?

মুমিনুল হক: আমার চোখে টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। টেকনিকের তো উন্নতির শেষ নেই। আমার মনে হয়, সবার উন্নতির চেষ্টা করতে হবে। আমাদের সবার টেকনিক্যাল ও টেকটিক্যাল উন্নতির চেষ্টা করতে হবে।

প্রশ্ন: একটু পেছনে ফিরতে চাই। বিসিবি সভাপতি বলেছেন, টস জিতে বোলিংয়ের পরিকল্পনা ছিল আপনাদের। কিন্তু টস জিতে কেন ব্যাটিং বেছে নিলেন?

মুমিনুল হক: দেখেন, আমি তো সামনা সামনি ছিলাম না। আপনাদের যেহেতু বলেছেন, সেই হিসেবে আমার মন্তব্য করা ঠিক না। আমার মনে হয় না, এই বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি। আমার মনে হয় না, আমি এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে পারব।

প্রশ্ন: সিদ্ধান্তটা কি সঠিক ছিল?

মুমিনুল হক: আমার মনে হয়, সিদ্ধান্ত খারাপ ছিল না। আমরা ব্যর্থ হয়েছি বলে সিদ্ধান্ত খারাপ ছিল, এটা বলা যাবে না। আজকে না হলেও কালকে তো দিবারাত্রির টেস্ট খেলতেই হতো। এক সময়ে না এক সময়ে খেলতে হতো, সেদিক থেকে চিন্তা করলে সিদ্ধান্ত খারাপ ছিল না। গোলাপি বলে খেলায় আমরা ব্যাপারটা শিখতে পেরেছি। ভারত দলও গোলাপি খেলেনি, আমরাও খেলিনি। আসার আগে আমরা হয়তো গোলাপি বলে আরেকটু প্রস্তুতি নিতে পারতাম।

প্রশ্ন: এখন থেকে গোলাপি বলে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা প্রয়োজন?

মুমিনুল হক: আমার মনে হয়, বোর্ড এই ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নেবে। এটা পুরোপুরি বোর্ডের ব্যাপার। আর আমি বোর্ডকে গোলাপি বলে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেব।

প্রশ্ন: প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অনাগ্রহ রয়েছে অনেকের

মুমিনুল হক: আমরা যথেষ্ট প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলি। ১০ থেকে ১৫টা ম্যাচ বছরে আমরা খেলি।

বড় দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকাতেই কি এমন ব্যর্থতা?

মুমিনুল হক: হ্যাঁ, এটাও একটা কারণ। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে যদি খেলি আমরা অনেক কিছু শিখতে পারব। কোন জায়গায় দুর্বলতা আছে, কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে।

ভারতীয় পেসারের নিয়ে কী বলবেন? এই টেস্টে ১৯ উইকেটই পেল ওরা

মুমিনুল হক: তিনজনই তো ভালো, বিধ্বংসী আমার মনে হয়। তিনজনের বিপক্ষেই ব্যাটিং করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনজনই খুব ভালো ছিল। ইশান্ত লম্বা হওয়ায় একটু বাড়তি বাউন্স পান। শামির সিম পজিশন ভালো, তিনজনই ভালো ছিল।

ওদের সামলানোর আগে ব্যাটসম্যানরা ভয় পেয়েছে কি না?

মুমিনুল হক: ভয় পাচ্ছে না কেউ। কারণ ভয় পেলে এই লেভেলে খেলা কঠিন। সবাই সবার মতো খেলছে, এটাই।

এরকম বাজেভাবে সিরিজ হারে মানসিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলে?

মুমিনুল হক: স্ট্রাগল কিন্তু মানুষকে পরিপূর্ণ করে। এরকম স্ট্রাগল আসবে, এখান থেকে হতাশ না হয়ে, আপনি কী শিখছেন এটা হলো গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদার খেলোয়াড়রা ওই চিন্তাই করে।

প্রশ্ন: তামিম-সাকিবকে মিস করেছেন?

মুমিনুল হক: সিরিজের প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে অবশ্যই মিস করেছে সবাই। তবে এই অজুহাত দেওয়াও ঠিক না। আমরা যারা ছিলাম তাদের সুযোগ ছিল। আমার ব্যক্তিগতভাবে সুযোগ ছিল অধিনায়ক হিসেবে। এই জায়গায় কাজে লাগাতে পারিনি।

প্রশ্ন: কী শিখলেন সফর থেকে?

মুমিনুল হক: শিক্ষা তো অনেক কিছুই আছে। কীভাবে পেস বলের চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়। সেশন বাই সেশন কীভাবে খেলা যায়। গোলাপি বলে শিক্ষা হয়েছে। নতুন বলে গোলাপি বল কঠিন, এটা কাজে দেবে।

প্রশ্ন: বড় দল হতে হলে কোন জায়গায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন করতে হবে আমাদের?

মুমিনুল হক: মানসিকভাবে পরিবর্তন হতে হবে সবারই। যুদ্ধ করার মন-মানসিকতা উন্নতি করতে হবে। আপনারা একটু অপেক্ষা করেন, ইনশাল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: দলে একাধিক তরুণ ক্রিকেটার আছে। তাদের প্রতি আপনার বার্তা?

মুমিনুল হক: যে শিক্ষাটা হয়েছে, এই সিরিজ থেকে যদি নিতে পারে তাহলে পরের সিরিজে দেখতে পারবেন। না পেলে মনে হবে শিক্ষাটা নিতে পারেনি।

প্রশ্ন: সবশেষ, টেস্টে কি গুরুত্ব কম দিচ্ছে বাংলাদেশ?

মুমিনুল হক: আমার তা মনে হয় না। গত দুই-তিন বছর খেলা বেড়েছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও অনেক গুরুত্ব। আমার মনে হয় গুরুত্ব ঠিকই আছে।

 

কলকাতা/ইয়াসিন/পরাগ