ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পেসারদের পাশে অধিনায়ক

কলকাতা থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৪ ৯:২৮:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৫ ৮:১৩:৩৮ এএম

‘ওরা তিনজনই তো ভালো, বিধ্বংসী’- ভারতের তিন পেসারকে নিয়ে বলছিলেন মুমিনুল হক। নিজ দলের পেসারদের নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বললেন, ‘আমাদের পেসাররা মোটামুটি ভালো করেছে।’

প্রতিপক্ষের পেসারদের জন্য প্রশংসার ফুলঝুরি ছুটলেও সতীর্থদের জন্য মুমিনুলের মুখ ফুটল না। পরিসংখ্যান মুমিনুলকে এমনটা করতে বাধ্য করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না!

দুই টেস্টে ভারতের তিন পেসার উইকেট নিয়েছেন ৩৩টি। বাংলাদেশের তিন পেসার পেয়েছেন ১৩টি। দুই টেস্টে একবারও ভারতকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামাতে পারেনি বাংলাদেশ।  একবারও পারেনি অলআউট করতে। দুই দেশের পেসারদের সামর্থ্যের পার্থক্য  স্পষ্ট। অবশ্য এ পারফরম্যান্সের জন্য পেসারদের দায় কতটুকু?

দীর্ঘদিন পর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলতে নামেন পেসাররা। নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পান সামান্যই। ফলে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ কম। আবার দেশের মাটিতে পেসাররা খেলার সুযোগ পান না। ভারত সফরের আগে বাংলাদেশ খেলেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ওই টেস্টে কোনো পেসার ছাড়া নেমেছিল বাংলাদেশ। যেসব ম্যাচে পেসারসহ নেমেছিল বাংলাদেশ, সেখানে পেসাররা বোলিং করেছে মোটে কয়েক ওভার। 

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পেসার ছাড়া নেমে বেশ সমালোচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গণমাধ্যমে পেসারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে তাদেরকে ‘ধুয়ে দেন’ তখনকার অধিনায়ক সাকিব, ‘আমাদের পেসারদের ইকোনমি ৪.৪১। ওরা যদি পুরো ৯০ ওভার বোলিং করে, তাহলে এক দিনেই রান দেবে ৪০০! প্রথম দিনেই তাহলে আমরা টেস্টের বাইরে। বোলার যদি আমাদের কাজেই না আসে, তাকে নিয়ে লাভটা কী?’

তবে ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টে পেসারদের পারফরম্যান্স দেখার পর নতুন অধিনায়ক মুমিনুলের উপলদ্ধি, ‘বিদেশে তো ওরা সুযোগ পাচ্ছে। দেশেও যদি সুযোগ দেওয়া হয়, আমার মনে হয় ওরা ধীরে ধীরে উন্নতি করবে। যত বেশি খেলার সুযোগ পাবে, বাইরে খেলতে গেলে তত বেশি সুবিধা পাবে।’

এজন্য দেশের মাটিতে স্পিন নির্ভরতা কমাতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘অবশ্যই আমাদের স্পিন নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।’

মুমিনুলের দাবি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের উইকেট পরিবর্তন হচ্ছে। স্পোর্টিং উইকেট প্রস্তুত করছেন আয়োজকরা। পাশাপাশি দলগুলো মানসিকতা পাল্টাচ্ছে পেসারদের নিয়ে। মুমিনুল অভয় দিয়ে বললেন, ‘ধৈর্য ধরতে হবে ওদের সাফল্যের জন্য। গত দুই বছর ধরে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেটে বেশ পরিবর্তন হচ্ছে। স্পোর্টিং উইকেট হচ্ছে। প্রত্যেকটা দল তিন-চারটা করে পেসার খেলাচ্ছে। আস্তে আস্তে আমাদের পেস বোলার বের হয়ে আসছে। যদি পেস বোলিং ইউনিটের উন্নতি হয় তাহলে টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি হবে। ’

নিজেদের ‘দুর্দিনে’ সাবেক অধিনায়ক সাকিবকে না পেলেও পেসাররা এবার পাশে পেলেন মুমিনুল হককে। তীর্থের কাকের মতো সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না তাদের। মুমিনুল পাশেই আছেন রাহী, আল-আমিন, ইবাদতদের।


কলকাতা/ইয়াসিন/পরাগ

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও