দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগের দিন বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি স্বপন রায়কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।
সোমবার (২০ মে) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষতির এক পত্রে এই আদেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২১ মে) এই উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শেখ ওয়াহিদুজ্জামান। গতকাল রোববার তিনি নির্বাচন কমিশনে এই অভিযোগ করেন। ওয়াহিদুজ্জামান ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আশরাফুল আলম এবং বাগেরহাট জেলা ডিবির ওসি স্বপন রায়কে খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতেও নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তাকেও।
লিখিত অভিযোগে শেখ ওয়াহিদুজ্জামান উল্লেখ করেন, শনিবার (১৮ মে) গভীর রাতে ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আশরাফুল আলম ও জেলা ডিবির ওসি স্বপন রায় তার তিন কর্মীর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিপক্ষ প্রার্থী ‘আনারস’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে অথবা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এতে কর্মীদের পরিবারের সদস্য এবং নিজ নিজ এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নিরপেক্ষ ভোট প্রদানে প্রভাব পড়েছে বলে জানান অভিযোগকারী।
চিঠি পাওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, ওই দুই ওসিকে প্রত্যাহার করে রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।