মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আলু পরিবহন কাজের কর্তৃত্ব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। তবে, এতে কেউ আহত হননি।
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা দিকে পর্যন্ত উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ গ্রামের ভাটি চকে ঘটনাটি ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে রমজানের গ্রুপের সঙ্গে হোগলাকান্দির লালু-সৈকত গ্রুপের বিরোধ ছিল। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন রমজান এলাকার বাইরে ছিলেন।সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে শুরু করেন।
আলু উত্তোলন মৌসুমে ট্রাক্টরে আলু পরিবহন কাজের কর্তৃত্ব নিয়ে সম্প্রতি দ্বন্দ্বে জড়ায় উভয় পক্ষ। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হোগলাকান্দি গ্রাম সংলগ্ন ভাটি চকে কৃষকের জমি থেকে বস্তাভর্তি লালু-সৈকত গ্রুপের লোকজন তাদের ট্রাক্টরে লোড করছিলেন। এ কাজে বাধা দেন রমজান ও তার গ্রুপের লোকজন। এসময় আতঙ্ক তৈরি করতে প্রথমে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে রাত ১২টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আলী বলেন, “ওই চকে আলু পরিবহনের কাজে অন্য কোনো লোক আসতে পারে না। শুধুমাত্র একটি পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে এই কাজটি করছে। স্বাভাবিকের চাইতে অন্তত বস্তাপ্রতি ১৫ টাকা বেশি দিয়ে আমাদের আলু পরিবহনের কাজটি করতে হয়। একাজে অনেক লাভ হয় বিধায় আলু পরিবহনের কর্তৃত্ব নিয়ে গতকাল রাতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এখন আপাতত আলু পরিবহনের কাজ বন্ধ। দ্রুত অবস্থার উন্নতি না ঘটলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
স্থানীয় কৃষক মোকাররম হোসেন বলেন, “উভয় পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে আলু পরিবহনের কাজ আপাতত বন্ধ। ভয়ে কেউ ট্রাক্টর নিয়ে আলু পরিবহনের কাজ করতে আসছে না। আমাদের উত্তোলিত আলু জমিতে পড়ে আছে।”
এ বিষয়ে জানতে রমজান এবং লালুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “আজ সকালে আমি খবরটি পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কৃষক যাতে নির্বিঘ্নে তাদের উত্তোলিত আলু পরিবহন করতে পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।”