নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির এক সংগঠকসহ দুই জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার পিস ইয়াবা জব্দ হয়।
রবিবার (৯ মার্চ) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন।
আটককৃতরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সংগঠক জিদান হোসেন (২৮) ও তার সহযোগী ইকবাল হোসেন (২৬)।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, মো. জিদান হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে খানপুরস্থ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের স্টাফদের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করছিলেন। পাশাপাশি তিনি হাসপাতালের ভেতরে ইয়াবা সেবনসহ বিক্রিও করতেন। এ বিষয়ে কয়েকজন সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান। সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে হাসপাতালের ভেতর থেকে মো. জিদান হোসেন ও ইকবাল হোসেনকে আটক করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক নিরব রায়হান বলেন, “মো. জিদান হোসেন জেলা কমিটির সংগঠক ছিলেন। তাকে আটকের বিষয়টি আমরাও জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আমরাও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।”
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. এম এ বাশার বলেন, “যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে নিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে একজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক বলে জানতে পেরেছি।”
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, “মো. জিদান আগে রং মিস্ত্রির ইন্টেরিয়রের কাজ করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তার পিঠে ছররা গুলি লাগে। এরপর জিদান সমন্বয়ক বনে যান। তিনি নিজে ইয়াবা সেবন ও বিক্রি করতেন। পাশাপাশি খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে দালালিও করতেন।”
তিনি আরো বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী জিদান ও ইকবালকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে চার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”