বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়া ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ঢাকায় এখন পেট্রোল পাম্পগুলোর আশেপাশের সড়কে কয়েক কিলোমিটার লাইন দেখা যাচ্ছে। জ্বালানির জন্য এই দীর্ঘ লাইনে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে তেমনি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকার নীলক্ষেত, শাহবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পাম্প গুলোতে ঘুরে দেখা যায়, শত শত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি দীর্ঘ সারি।
রাজধানীর শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনে কথা হয় রাইড শেয়ারিং চালক মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, "গতকাল পাম্পের লাইনে থেকেই আমার মোটরসাইকেল তেল শেষ হয়ে গিয়েছিলো। তখন মোটরসাইকেল লক করে পাম্পে রেখে গিয়েছিলাম। দিন পেরিয়ে রাত হলো, তাও তেল পাইনি, আজ খুব ভোরে এসেছি। আজ অনেক কষ্ট করে তেল পেলাম। এভাবে রাইড শেয়ার করা সম্ভব না। ভাবছি মোটরসাইকেল বিক্রি করে অন্য কোনো কাজ খোঁজ করব। এভাবে চললে না খেয়ে থাকতে হবে।”
নীলক্ষেত মোড়ের পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনের থেকে আরেক মোটরসাইকেল চালক লতিফুর রহমান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “মোটরসাইকেলের তেল নেওয়া এখন যুদ্ধের সমান। জ্বালানির লাইনের এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে কেউ বলতে পারে না।”
তেজগাঁও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন হিমু কবির। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। এখনো লাইনের সামনে যেতে পারিনি। সামনে যেতে যেতে তেল পাব কি না সেই চিন্তায় আছি। এত সময় অপেক্ষা করার পর যদি তেল না পাই তাহলে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে। গতকাল রাতেও দীর্ঘ লাইন দেখেছি। এভাবে চলা সম্ভব না।”
জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক এম এ মান্নান মজুমদার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ফুয়েল পাশের কিউআর কোডের মাধ্যমে জ্বালানি দিচ্ছি। কিন্তু মানুষ ভিড় সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের পাম্পে তেল সরবরাহ ঠিক আছে, তবে মানুষ তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নিতে চায়, এরজন্য বেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়।”
এদিকে, জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে গত রবিবার থেকে রাজধানীর ৭টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ‘ফুয়েল পাম’ চালু করেছে সরকার।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তথ্য মতে, প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল দেওয়ার ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া, একই ব্যক্তি বারবার তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। এই অনিয়ম ও অপচয় রোধে ‘ফুয়েল পাস’ সরাসরি বিআরটিএর কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যার ফলে প্রতিটি যানবাহনের তেলের হিসাব স্বচ্ছ থাকবে। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা গ্রাহকের কিউআর কোড স্ক্যান করার পর তার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের পরিমাণ দেখতে পাবেন। ডিজিটাল এন্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পরই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তেজগাঁওয়ে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে, আসাদগেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে, আসাদগেটে তালুকদার ফিলিং স্টেশনে, মহাখালীতে গুলশান সার্ভিস স্টেশনে, শাহবাগে মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার ও কল্যাণপুরে খালেক সার্ভিস স্টেশনে কিউআর কোডভিত্তিক ফুয়েল পাসে তেল পাওয়া যাবে।