জাতীয়

মহাখালী বাস টার্মিনালে মিশ্র চিত্র, কোনো রুটে যাত্রী সংকট, কোথাও চাপ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে এবারের ঈদযাত্রায় রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। কোনো রুটে যাত্রী না থাকায় বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে, আবার কিছু রুটে যাত্রীচাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (২৪ মে) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের ‘বিনিময়’ বাসের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানান, যাত্রী কম থাকায় বাস ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ঈদের সময় সাধারণত এই রুটে অনেক চাপ থাকে। কিন্তু আজ যাত্রী কম। বাস পূর্ণ না হওয়ায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’’

একই চিত্র দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কসবা রুটের ‘কাজী পরিবহন’-এ। প্রতিষ্ঠানটির সুপারভাইজার আমিন মিয়া বলেন, ‘‘যাত্রী সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়েও গাড়ি ছাড়তে পারছি না। যাত্রী হলেই ছাড়বো।’’

কিশোরগঞ্জগামী ‘অনন্যা ক্লাসিক’ পরিবহনেও দেখা গেছে একই অবস্থা। কাউন্টারের সামনে যাত্রী অপেক্ষা করলেও পর্যাপ্ত যাত্রী না হওয়ায় বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছিল।

অন্যদিকে কিছু রুটে ছিল উল্টো চিত্র। ময়মনসিংহ রুটের ‘ইউনাইটেড এসি’ পরিবহনে ছিল তীব্র যাত্রীচাপ। প্রতিষ্ঠানটির সুপারভাইজার সজিব জানান, এই কোম্পানির ২০টি গাড়ির মধ্যে বর্তমানে ১৮টি চলাচল করছে। রাস্তায় তীব্র যানজট থাকায় গাড়িগুলো সময়মতো স্ট্যান্ডে ফিরতে পারছে না। ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।

যদিও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে একই পরিবহনের নন এসি বাসের। এখানে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম। ময়মনসিংহগামী যাত্রী আকাইদ হোসাইন বলেন, ‘‘প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। বাসে যাত্রী পূর্ণ হলেই ছাড়বে বলে জানিয়েছে। ঈদের আগে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য সবাই ভোগান্তিতে পড়ছেন।

‘রাজিব’ পরিবহনের সুপারভাইজার সেলিম হোসেন হীরন বলেন, ‘‘যাত্রী সংকটের কারণে কিছু গাড়ি আটকে আছে। আবার কিছু সময় হঠাৎ চাপ বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে গাড়ি ছাড়তে হচ্ছে।’’

এ সময় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানান। ময়মনসিংহগামী যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘‘বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। কখন গাড়ি ছাড়বে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।’’ 

‘‘ঈদের আগে ছোট বাচ্চা নিয়ে টার্মিনালে অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর। পরিবহন কর্তৃপক্ষের আরও ভালো ব্যবস্থাপনা দরকার,’’ ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জগামী বাসযাত্রী শারমিন আক্তার। একই অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইলগামী কলেজ শিক্ষার্থী ইমন হোসেন। যাত্রী কম হলেও বাস দ্রুত ছাড়ার ব্যবস্থা করা উচিত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আমরা কেন যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করব? প্রশ্ন তার। 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এবার যাত্রীরা ধাপে ধাপে ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে একসঙ্গে সব রুটে চাপ তৈরি হয়নি। এছাড়া সড়কে যানজট এবং গাড়ির ধীরগতির কারণেও টার্মিনালে সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে।

তারা বলছেন, তীব্র গরমে নন এসি বাসের তুলনায় এসি বাসের চাহিদা বেশি। অনেকেই এসি বাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। 

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামীকাল সরকারি ছুটি শুরু হলে বাসে যাত্রীর চাপ বাড়বে।