মতপার্থক্যের কারণে গায়ে হাত তোলা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না, ভিন্নমত সহ্য করতে না পারা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ। বিরোধী দলের কাজই তো সরকারের সমালোচনা করা, সেটি গ্রহণ করবার মানসিকতা সরকারের থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
রবিবার (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ঈদযাত্রা, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিচারহীনতা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘‘এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর আহ্বানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী রামিসার বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানানোর ঘটনায় দল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, দেশব্যাপী ক্ষোভ ও প্রতিবাদ কেন প্রশমিত হচ্ছে না? কারণ রাষ্ট্রে বিচারহীনতার যে কাঠামোগত সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তাতে সাধারণ মানুষ আর কোনো প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।’’
‘‘ধর্ষণ, হত্যা, মাদক ও চাঁদাবাজি এসব অপরাধ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্র যদি এই অপরাধচক্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিকে আমলে না নেয়, তাহলে নতুন নতুন রামিসার জন্ম হতে থাকবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হলে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে, যার উদ্বেগজনক নজির ইতোমধ্যে খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘ঈদ সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও কোটি কোটি মানুষ ঈদযাত্রায় বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু কার্যকর ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর শত শত মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন হাজার হাজার। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও কেন একটি নিরাপদ ও মানবিক যাতায়াত ব্যবস্থা রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি এ প্রশ্ন জনগণের।’’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এবি পার্টি মনে করে, মতপার্থক্য ও রাজনৈতিক দ্বিমত কখনোই হামলা, রক্তাক্ত আক্রমণ কিংবা গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধের পর্যায়ে যেতে পারে না। এ ধরনের সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতিই অতীতে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। একইসঙ্গে এ সময় সকল পক্ষের প্রতি রাজনৈতিক সমালোচনার ভাষাতেও সংযম, ভদ্রতা ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
কোরবানির পশুর হাট, জবাই প্রক্রিয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতি বছর কোরবানির মৌসুমে পুরো শহর কার্যত অস্থায়ী পশুর হাট ও দুর্গন্ধময় বর্জ্যভূমিতে পরিণত হয়। পরিকল্পনাহীন পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার অভাবে পরিবেশ দূষণ, জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। ইসলামের পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার চেতনাকে ধারণ করে আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কোরবানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলোর প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায় দলটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারী, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু প্রমুখ।