আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহার সাত দিনের সরকারি ছুটি। ফলে আজ অফিস শেষ করে সন্ধ্যায় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বৃষ্টিতে ভিজে অনেক যাত্রী এ সময় স্টেশনে এসেছেন।
রবিবার (২৪ মে) বিকাল থেকে সন্ধ্যা কমলাপুর স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্টেশনে আসা যাত্রীদের মধ্যে অনেকে অফিস শেষ করেই সরাসরি স্টেশনে চলে এসেছেন। কেউ আগে পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ছুটি পেয়ে আজ নিজে রওনা দিচ্ছেন। বৃষ্টি হলেও ট্রেন ধরতে পারায় অনেকের মাঝেই দেখা গেছে স্বস্তি।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী মো. আবির মাহমুদ বলেন, “টিকেট পেতে কষ্ট হয়েছিল। অফিস শেষে সরাসরি কমলাপুরে এসেছি। বৃষ্টি হচ্ছিল, ভিজে গেছি, কিন্তু ট্রেন ধরতে পেরেছি এটাই বড় স্বস্তি।’’
চট্টগ্রামের ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী মিয়া আমিরুল বলেন, “স্কুল ছুটি হওয়ায় আগেই পরিবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আজ অফিস ছুটি পেয়ে নিজে যাচ্ছি। বৃষ্টির মধ্যেও বাড়ি ফেরার আনন্দটা আলাদা।”
রংপুরগামী যাত্রী ইমদাদুল হক বলেন, “সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত থাকলেও ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছি। মা-বাবার কাছে যাচ্ছি এটা ভাবতে ভালো লাগছে।’’
বৃষ্টির মধ্যেও স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বরত রেলওয়ে কর্মীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। যাত্রীদের নিরাপদে ট্রেনে ওঠানামা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রেলের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। এই ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চলবে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলবে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’। এ দুটি ট্রেন ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন চলাচল করবে। এছাড়া ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিন দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে। এসব ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার ঈদগাহর উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার কবীর উদ্দিন বলেন, “ঈদযাত্রা ঘিরে পুরো স্টেশন এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিনা টিকিটে ভ্রমণ ও ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হয়েছে। আশাকরি এবারও মানুষের রেল যাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।’’