বৃষ্টির কথা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতের জন্য প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সামিয়ানা, প্যান্ডেল, তোরণ, অজুখানা, বিদ্যুৎ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে দিন-রাত খেটে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ ঈদের আগের দিনের মধ্যেই পুরোপুরি শেষ হবে। গত ১ মে থেকে প্যান্ডেল নির্মাণের মূল কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘পিআর এন্টারপ্রাইজ’।
বর্তমানে মাঠে ওয়াটারপ্রুফ ত্রিপল লাগানো, শামিয়ানা টাঙানো, লাইট-ফ্যান বসানো, অজুখানা সংস্কার, কন্ট্রোল রুম, ভিআইপি টয়লেট এবং প্রবেশ ও বহির্গমন গেট নির্মাণের কাজ চলছে। মাঠ ভরাট ও ঘাস কাটার কাজ আগেই শেষ হয়েছে। তোরণসহ বিভিন্ন স্থাপনার রঙের কাজ আগামী শুক্র ও শনিবারের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো মাঠের সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে রয়েছে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বৃষ্টি ও মশা নিধনে বিশেষ উদ্যোগ বর্ষা মৌসুমের বিষয়টি মাথায় রেখে মাঠে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু ও মশার উপদ্রব ঠেকাতে জামাতের ৭২ ঘণ্টা আগে পুরো ঈদগাহ এলাকায় বিশেষ ফগিং ও লার্ভিসাইডিং করা হবে। জামাত চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে ঢাকা ওয়াসা।
ট্রাফিক ও পার্কিং পরিকল্পনা ঈদের দিন সকালের যানজট এড়াতে মৎস্য ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড় ও শিক্ষা ভবন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যারিকেড বসানো হবে। ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের গাড়িগুলো নির্ধারিত গেট দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করবে এবং সেখানেই পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিআর এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. মোজাম্মেল জানিয়েছেন, বর্তমানে ১২০ জন শ্রমিক নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কাঠামোগত কাজ শেষ, এখন শুধু কাপড় লাগানো ও ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিংয়ের কাজ চলছে।
একনজরে জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতি ও ধারণক্ষমতা: মোট আয়তন: প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার (প্যান্ডেল ২৫ হাজার ৪০ বর্গমিটার)। মোট আসন: ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারী মুসল্লিদের সুবিধা: সাড়ে ৩ হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা কাতার ও পৃথক প্রবেশপথ। কাতার সংখ্যা: ১২১টি (সাধারণ পুরুষ ৬৫টি বড় কাতার, নারী ৫০টি ছোট কাতার; ভিআইপি পুরুষ ৫টি ও নারী ১টি কাতার)। প্রবেশ ও বহির্গমন: প্রবেশের জন্য ৪টি গেট (ভিআইপি ১টি, পুরুষ ২টি, নারী ১টি) এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি গেট রাখা হয়েছে। অজুখানা: একসঙ্গে ১৪০ জন মুসল্লি অজু করতে পারবেন।
ডিএসসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিভিআইপি ব্যবস্থাপনা এবং নারী-পুরুষের আলাদা সুবিধাসহ সব ধরনের আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবছরের মতো এবারও নির্বিঘ্নে ঈদের প্রধান জামাত সম্পন্ন করার সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।