সারা বাংলা

সিলেটে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এআই নজরদারির পরিকল্পনা: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট নগরে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ছিনতাই-চাঁদাবাজির বিস্তার এবং প্রকাশ্যে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ফেস রিকগনিশন (চেহারা শনাক্তকরণ) সক্ষম এআইচালিত ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রবিবার (২৪ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। সম্প্রতি নগরে ছিনতাইকারীর হামলায় র‌্যাব সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাসহ নানা অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। 

জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনি যেটা বললেন, এটাতে তো দ্বিমত করার কিছু নেই। যে ঘটনা আমাদের চোখের সামনে ঘটছে, সেটা তো স্বীকার করতেই হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কত দ্রুত আমরা এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারি।’’ 

তিনি জানান, সিলেট নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যা ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহভাজন বা অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারবে। একটি ক্যামেরায় কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হলে, অন্য ক্যামেরাগুলোও সেই তথ্য পাবে এবং ব্যক্তিকে ট্র্যাক করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, ‘‘এক্স ক্যামেরা পয়েন্টে একজন অপরাধী শনাক্ত হলে, ওয়াই ক্যামেরা পয়েন্টেও তাকে শনাক্ত করা যাবে। এ ধরনের এআই ড্রিভেন মনিটরিং সিস্টেম আমরা সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি।’’

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কথাবার্তা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যদিও বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ করতে চাননি তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য আগেভাগে বলা ঠিক হবে না। তবে যথাযথ পদক্ষেপ খুব দ্রুত নেওয়া হবে। এর সুফল মানুষ প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাবে।’’ 

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে দিনে-দুপুরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও সহিংস অপরাধের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে নগরে ধাওয়া খেয়ে পালানো এক ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে র‌্যাব সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চান, একের পর এক খুন ও সহিংস ঘটনার পরও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে কি-না কিংবা কোনো গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কি-না।

জবাবে তিনি বলেন, সমাজের পরিস্থিতি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে গণমাধ্যমও অবগত। তবে আইনশৃঙ্খলার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘‘জনমনে আস্থা না থাকলে অনেক কিছু ব্যাহত হয়।’’ 

তিনি দাবি করেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিশ্রুতির ঘাটতি নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আপনি চাইলেই পরের দিন কাউকে শাস্তি দিয়ে দিতে পারবেন না। ডিএনএ টেস্টসহ বিভিন্ন বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব সম্পন্ন করেই বিচার নিশ্চিত করতে হয়।’’ 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।