ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৭ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনাকালে আলবেয়ার কামুর ‘প্লেগ’র পুনরুত্থান

অলাত এহ্সান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৭ ১০:৩৮:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-২৪ ১:১৩:৩৯ পিএম
আলবেয়ার কামু

‘‘ডাক্তার তখনও জানালা দিয়ে বাইরের তাকিয়ে আছেন, জানালার ওপাশে সুন্দর বসন্তের আকাশ, আর এ-পাশে ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই একটা শব্দ ‘প্লেগ’।’’

কাকতালীয় ব্যাপার হচ্ছে- বসন্তেই শুরু। তবে সবার মাথায়, ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো শব্দটা ‘করোনা’। যন্ত্রবিশ্বের নির্ঘোষ থামিয়ে দেয়া এই শব্দ, কোথাও মৃত্যুর মতো শীতল, কোথাও বন্দীত্বের যন্ত্রণাময়। এই স্বেচ্ছা গৃহবন্দী সময়ে যে কয়েকটি বইয়ের পুনরুজ্জীবন ঘটেছে তার মধ্যে নিঃসন্দেহে আলবেয়ার কামুর ‘প্লেগ’ অন্যতম। বিশেষ করে তার গাঢ় বর্ণনা আর চরিত্রের মনস্তত্ত্বের জন্য। উপরের উদ্ধৃতি সেখান থেকেই নেয়া, আর আমাদের আলোচনা ওই উপন্যাস ঘিরেই।

পুনরুজ্জীবনের তালিকায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ‘লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা’, স্টিফেন কিং-এর ‘দ্য স্ট্যান্ড’, হোসে সারামাগো’র ‘এসে অন ব্লাইন্ডনেস’-এর নাম বেশ শোনা যাচ্ছে। বইগুলো পঁচিশ থেকে পয়তাল্লিশ বছর আগে প্রকাশ হয়েছে, তখনই এগুলো জনপ্রিয় ছিল। এই সময়ে বইগুলোর বিক্রি বেড়ে যাওয়ার কারণ অন্য। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে পারছে বইগুলো। সে হিসেবে আরেকটি বই সামনে আসতে পারতো, ম্যাক্সিকান লেখক মারিয়ো বেইয়াতিন-এর উপন্যাসিকা ‘বিউটি সেলুন’। ১৯৯৯ সালে বইটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত অন্যতম বইয়ের খ্যাতি পায়। কিংবা স্মরণ করা যেতে পারে ১৬৩০ সালের মিলান শহরের প্লেগ নিয়ে ইতালিয়ান লেখক আলেসান্দ্রো মানজোনি’র বাস্তবধর্মী উপন্যাস ‘দ্য বেট্রথেড’ কিংবা ১৬৬৫ সালে লন্ডন শহরে হানা দেয়া বুবনিক প্লেগের স্মৃতি নিয়ে লেখা ডেনিয়েল ডিফো’র ‘আ জার্নাল অফ দ্য প্লেগ ইয়ার’।

সম্প্রতি তুরস্কের নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক ওরহান পামুক জানাচ্ছেন ১৯০১ সালের প্লেগ নিয়ে ‘নাইটস অফ প্লেগ’ নামে ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখছেন। বইয়ের এই ধরনের প্রস্তাব পাঠকের কাছ থেকে বাড়তে পারে। তাই আর দীর্ঘ করছি না। বরং পাঠক বিভিন্ন সময় তার অবস্থা বোঝার কৌশল হিসেবে এই ধরনের সাদৃশ্য খুঁজে থাকেন। পত্রিকার সাহিত্য পাতাগুলো বিস্তার তালিকা সামনে নিয়ে আসে, ওয়েবসাইটে বিগত সিনেমার সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে বিস্তর ভিডিও ক্লিপ তৈরি হয়। এর একটি ক্ষতিকর দিকও আছে- পরিস্থিতির আর কোন কোন দিক থাকতে পারে, তা আড়ালে পড়ে যায়। যেমন আলবেয়ার কামুর ‘দ্য প্লেগ’ পড়ে বোঝা যাবে না অবরুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য নগর বিভাগের অবদান ঠিক কতটা। অস্বীকারের সুযোগ নেই, কামু উপন্যাসের সময়ের চেয়ে আমরা অনেক বেশি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সময়ে বাস করছি। সে বিষয়ে আমাদের পরে আসতে হবে।

ফরাসিতে আলবেয়ার কামু’র ‘লা পাসতে’ প্রকাশ হয় ১৯৪৭ সালে। এর অল্প দিনের মধ্যেই ইংরেজিসহ ৯টি ভাষায় অনুবাদ হয়ে বইটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। লেখকের জন্য নিয়ে আসে অনন্য খ্যাতি। আজকের দিনে বইটির পুনরুত্থান আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে কতগুলো প্রশ্ন- এই পুনরুত্থান কি শুধুই বইয়ে বর্ণিত প্লেগ আক্রান্ত সময়ের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ? নাকি সে সময় দার্শনিক-তাত্ত্বিকরা বইয়ে প্লেগকে যে প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, তার জন্য? আমরা দাঁড়িয়ে আছি ঠিক এই দুই প্রশ্নের মাঝখানে। ইতোমধ্যে কামু বর্ণিত সময় থেকে প্রায় সাড়ে সাত দশক পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রযুক্তির বিস্তর বদল হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কামু বর্ণিত অবস্থার সঙ্গে হুবহু মিল খোঁজা কষ্টসাধ্য হবে, বরং উপন্যাসটা আরো যে প্রস্তাবগুলো সামনে আনে তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। আমরা তা-ই করতে চাই।

শুরুতে আলবেয়ার কামু ভেবেছিলেন উপন্যাসের নাম করবেন ‘দ্য প্রিজনারস’। শেষ পর্যন্ত ‘প্লেগ’ নামেই প্রকাশ হয়। প্রিজনারস রাখার চিন্তার আভাস হয়তো পাওয়া যাবে প্লেগে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া ওরান শহরের অবস্থার মধ্যে। দেয়াল ঘেরা ওরান নগরীতে প্লেগের বিস্তার ঠেকাতে ছোট্ট গেটও বন্ধ করে দেয় নগর প্রশাসন। অবস্থাটা আজকের দিনে কাঁটাতারে ঘেরা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার মতো। বিশেষ করে ইউরোপ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার একাধিক সীমান্ত সংযুক্ত রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা দিয়ে বোঝা যাবে। আরো ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে হলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা লকডাউনের কথা চিন্তা করা যেতে পারে। অনেকে সামরিক জরুরি অবস্থার কথা ভাবতে পারেন। এখানেই প্রশ্ন, আত্মরক্ষার জন্য দেয়াল তোলা কতটা বাস্তবসম্মত ব্যাপার? তা কি আত্মরক্ষার চেষ্টা, নাকি রাষ্ট্রের চেষ্টার ত্রুটি আর অপরিকল্পনাকে ঢাকার একটা কৌশল, যা প্রতিপক্ষ ও বিভিন্ন মতাবলম্বীদেরও নির্যাতনের সুযোগ এনে দেয়? এ বিষয়ে একটা প্রবন্ধের দিকে পাঠকের নজর টানতে চাই।

ইংরেজি দৈনিক ‘The Atlantic’ পত্রিকায় গত ২৩ মার্চ একটা লেখা প্রকাশ হয় ‘When Disease Comes, Rulers Grab More Power.’ শিরোনামে। কিন্তু পরে এর শিরোনাম দেখা যায়, ‘The people in See an Oppurtunity.’ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আগোরা ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো ‘আনে এপেলেবাউন’র লেখক। লেখার প্রথম শিরোনামেই ধরা পড়ে মূল বক্তব্য। এর নজির হিসেবে ইসরাইলের কথা তোলা যায়। ইসরাইলে সর্বশেষ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে পরাজিত প্রার্থী, বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে করোনা পরিস্থিতি এনে দিয়েছে বিশেষ সুযোগ। এক ধরনে ‘জরুরি অবস্থা’ জারি করেছেন সেখানে। এর আড়ালে নাকি ‘নিজস্ব কাঠগড়ায়’ ভিন্ন মতাবলম্বী ও প্রতিপক্ষকে নির্যাতন করছেন তিনি। একই অবস্থা কলাম্বিয়ায়, সেখানেও নির্যাতিত হচ্ছেন ভিন্ন মতাবলম্বীরা। অবস্থা মোকাবিলায় হাঙ্গেরির সংসদ প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর ওরবান’কে দিয়ে স্বৈরাচারী ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা বাদ দিয়ে অনন্যোপায়ের মতো তার প্রতি আস্থা রাখছেন সে দেশের মানুষ। পার্শ্ববর্তী ভারতের বর্তমান শাসক দলের অবস্থা প্রায় একই। সমালোচনা, একের পর এক আন্দোলন আর নির্বাচনের আসন হারিয়ে তিন মাস আগেও ঘরের ভেতর হেঁচকি উঠে গিয়েছিল তাদের। কিন্তু এখন তার প্রতিই আস্থা রাখতে হচ্ছে সবাইকে। আমাদের দেশের অবস্থাও খুব ভিন্ন নয়। আরবি দৈনিক ‘Ha’aretz’ এর ইংরেজি সংস্করণ একে উল্লেখ করছে ‘corona-coup’ বলে। উপন্যাসে যার ইঙ্গিত আছে অবরুদ্ধ ওরান শহরে দু’টি গুলির শব্দে। তারুর ভাষায়, ‘হয় একটা কুকুর নয় কেউ পালাতে চেষ্টা করছেন’। নাগরিক অধিকার ও সেবা বন্ধ করেও পাড় পেয়ে যাচ্ছে সরকার স্রেফ ‘জরুরি অবস্থা’র দোহাইয়ে, এ নিয়ে কথা বলাও যাবে না।

‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাসের প্রচ্ছদ

আসলে, শাসক যখন অধিক ক্ষমতাশালী হয়ে যায়, তার আচরণ দাঁড়ায় স্বৈরাচারের নামান্তর। কামুর ‘লা পাসতে’ প্রকাশের পর  দার্শনিক-তাত্ত্বিকরা প্লেগকে উপন্যাসে স্বৈরাচারের রূপক বলে উল্লেখ করেন। এ দলে জাঁ পল সার্ত্র, সিমন দ্য বেভয়ার ছাড়াও রঁলা বার্তের মতো তাত্ত্বিক আছেন। কামু বরাবরই অস্বীকার করেছেন রোগকে (প্লেগ) স্বৈরাচারের রূপক তৈরি করার। বরং সংবেদনশীল লেখক, এবং অবশ্যই দার্শনিক হিসেবে তিনি কয়েকটি বিষয় মোকাবিলা করতে চেয়েছেন।

‘দ্য প্লেগ’ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা লেখেন রঁলা বার্ত। আলবেয়ার কামু একমত হতে পারেননি, তবে পুরোপুরি অস্বীকার করতেও পারেননি। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের ১১ জানুয়ারি রঁলা বার্তকে একটি চিঠি লেখেন। My dear Barthes, অভিধায় শুরু করা চিঠিতে আলাপ ছাড়াও যে চারটি পয়েন্ট উল্লেখ করেন, এর প্রথমটিতেই তিনি বলেন: ‘‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাসটি নানাভাবে পড়াটা আমার পছন্দ, তা সত্ত্বেও এর বিষয়বস্তুতে যেমন রয়েছে নারীদের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়দের লড়াই। ইউরোপের সব দেশেই এই শত্রুকে সকলে চিনেছে সেই প্রমাণ তো রয়েছে, তবে তা উল্লেখ করা হয়নি। ‘দ্যা প্লেগ’ এর বড় জায়গাজুড়ে এই ঘটনা লেখা হয়েছে, এটা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড সংকলন’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে, তাই এই অবস্থায় আমি ভিন্ন অবস্থায় রেখে বিচার করেছি। এই প্রতিরোধের কালানুক্রমিক ঘটনার চেয়ে বিচার করেছি। এই প্রতিশোধের কালানুক্রমিক ঘটনার চেয়ে বেশি এ ভাবে বলা হয়েছে। এটা নিশ্চয় কম বলা হয়নি।’’

শতবর্ষের দুর্যোগ হিসেবে মহামারির ফিরে আসার ব্যাপারটা এখন অনেকটা চর্চার বিষয়। ইতিহাসে শুধু প্লেগই ফিরে এসেছে চারবার। ১৩২০ সালে দ্য ব্ল্যাক ডেথ অব বুবোনিক প্লেগ-এ ইউরোপের জনসংখ্যার কমপক্ষে ৩০ ভাগ মারা যায়। দ্বিতীয় প্লেগ প্রলয় ১৪২০ সালে দ্য এওইডেমিক অব ব্ল্যাক ডেথ প্লেগ-এ ইউরোপে প্রায় পৌনে এক মিলিয়ন লোক মারা যান, বিশ্বে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ মানুষ তাতে মারা যান বলে ধরা হয়। কামুর মৃত্যুপূর্ব দেশ ফ্রান্সের মার্শেই নগরীতেই ৫০ হাজার মানুষ মারা যায় ১৭২০ সালের দ্য গ্রেট প্লেগ অব মার্শেই-এ। পুরো ফ্রান্সে এর পরিমাণ ১০ লাখ, বিশ্বে যা ২০ কোটি বলে গণনা করা হয়। মাঝে ১৫২০ সালেও হানা দিয়েছিল বিউবোনিক প্লেগ। এছাড়া হাম, কলেরা, গুটিবসন্ত, ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা হানা দিয়েছে বিভিন্ন সময়। কামু তার ইউরোপের প্লেগের মহামারিগুলো সম্যকভাবে জেনেছিলেন। তিনি নিজেও ভুগেছেন যক্ষ্মার মতো কঠিন রোগে। কামুর উপন্যাসগুলোতে নানাভাবেই এসেছে তার ছায়া। ফলে তাত্ত্বিকদের নানা ব্যাখ্যার পাশেও কামুর যক্ষ্মার রোগে ছায়া হয়তো পড়েছে প্লেগের ভেতর। ওদিকে মহামারিতে এত মৃত্যু গোটা ইউরোপকে বারবারই অস্তিত্বের মুখে ফেলে দিয়েছে, তৈরি হয়েছে অস্তিত্ববাদী নানা প্রশ্ন। যে কারণে ‘কিসের স্বার্থে আমাকে একজন মানুষ হতে হবে’ প্রশ্ন ডা. ব্যারনার রিয়্যঁ’র।

‘দ্য প্লেগ’-এ রাষ্ট্রের সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি চোখ এড়ায় না। মহামারির প্রকৃত অবস্থার কতটা গণমাধ্যমে প্রকাশ হবে তা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ। ‘আরো কিছু বলার আগে রিয়্যঁ জানতে চাইলেন সাংবাদিকটির সত্য কথা বলার সাহস আছে কি না।’ সংবাদিকটি নিন্দা করতে পারার অসমার্থ প্রকাশ করলেও উপন্যাসের কথক ডা. ব্যারনার রিয়্যঁ বলেন, ‘আমি চাই সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্য। অতএব আমি আপনাদের কোনোরূপ সাহায্য করতে অসমর্থ।’ এই সংকট কি এখন নেই? বরং বলা যায়, আরো ভয়াবহভাবে আছে। যে কারণে বিশ্বের সাধারণ মানুষ করোনার প্রকৃত অবস্থা, মৃত্যুর ঠিক সংখ্যা জানতে পারছেন না। কিন্তু হঠাৎ করেই ওই নিত্যরোগগুলো মহামারি নিয়ে এলো কি করে- তার কোনো উত্তর নেই। তাছাড়া ‘মিথ্যে খবর’ ‘গুজব’ নিয়ন্ত্রণের নামে গোপন তৎপরতা তো আছেই। যে কারণে চীনের উহান প্রদেশের ডাক্তার লী ইয়েনলিং প্রথম করোনা ভাইরাসে খবর দিয়ে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মুখে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ওই ডাক্তার নিজে মরে প্রমাণ করেছেন আসলে তিনি মরেন নাই। দুর্যোগের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশে এত গড়িমসি কেন? এর উত্তর আছে শসকের ক্ষমতার চর্চার মধ্যে। ইউরোপে ঈশ্বরের নামে যে শাসন, রেঁনাসাসের মধ্য দিয়ে তার খানিকটা বদল হয়েছে। কিন্তু ঈশ্বরের জায়গা দখল করে নিচ্ছে বর্তমান শাসকরা- যেন তারা দৈব নির্ধারিত ও অপরিবর্তনীয়। মধ্যযুগে আরবেও এর চর্চা দেখা গেছে। শাসক যখন সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চান, তখন প্রাকৃতিক দুর্যোগও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া বলে মনে করেন। ফলে তা প্রকাশ হয়ে পরে নিজেদের অভব্যতা ও অব্যবস্থপনার প্রকাশ।

আজকের দিনে প্রশ্ন উঠছে, করোনা কি আদৌ প্রকৃতিক দুর্যোগ, নাকি ল্যাবে তৈরি জীবাণু অস্ত্র? ঠিক এক শতক আগে, ১৯১৬-২০ সালে ইউরোপে ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ খ্যাত এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিস্তার সেই আশঙ্কা আরো বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বে তখন প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ মারা যান। পরমাণু বিস্তারের বিশ্বে করোনার ল্যাব টেস্ট নিয়ে নানাভাবেই সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এই অনুসন্ধানকে ছাপিয়ে গেছে করোনার আবির্ভাব নিয়ে ভিসুয়্যাল জগতের তর্ক। শেষপর্যন্ত তা ঠেকছে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্কে। ইউটিউব, ব্লগ, ফেইসবুকে ঘুরছে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর মতোই এদেশে কতক ইসলামী বক্তাদের ওয়াজ। উপন্যাসের ফাদার পানেলুর এখানে একটা মিল পাওয়া যাবে। শুরুতে তিনি ডা. রিয়্যঁর কাছ থেকে প্লেগ মহামারি আকার ধারণ করেছে বা করতে পারার খবরে খুশিই হয়েছিলেন ‘ঈশ্বরের স্বক্রীয়তায়’। তার বক্তব্য, প্লেগ সম্পূর্ণ ঈশ্বরের দেয়া শাস্তি, যা মানুষের পাপের ফলেই এসেছে। তবে তা ঈশ্বরের মার্জিতেই শেষ হবে। মানুষের প্রতিরোধ চেষ্টা নস্যি। বরং বিশ্বাসীদের উচিত খোদার সেই মর্জি হাসিলের পথ করে দেয়া, বিজ্ঞানের চিকিৎসা পদ্ধতি বর্জন করা। একদিকে সরকার বলছে গণসংক্রমণের আশঙ্কার কথা। অন্যদিকে তারা বলেছেন উপাসনালয়ে গণজমায়েত হয়ে খোদার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়া। যে কারণে ভারতে চিকিৎসকদের ঢিল ছুড়তেও দেখা গেছে কতিপয়কে। মসজিদে নামাজ পড়তে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এ দেশের কোথাও কোথাও মিছিল হয়েছে। এতে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তা বিবেচক মানুষ মাত্রই ভাবতে পারেন।

‘দ্য প্লেগ’-এ আমরা দেখি ফাদার পানেলু শেষ পর্যন্ত যুক্ত হচ্ছেন স্বেচ্ছাশ্রমে। বাংলাদেশেও তেমনটা ঘটলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে এই যুক্ত হওয়া কতটা মহামারির বিস্তার রোধের দায়বোধ আর কতটা মৃত্যুপথযাত্রীদের সেবা করে পূণ্য লাভ, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। যদিও মৃত্যু পানেলুকেও ছাড় দেয়নি। এর একটা জবাব পাওয়া যাবে উপন্যাসের কথকের বয়ানে, ‘জগতে যত মন্দ আছে তা প্রধানত অজ্ঞানতার ফল এবং সুবুদ্ধিও, যদি আলোকপ্রাপ্ত না হয়, মন্দবুদ্ধির মতোই ক্ষতির কারণে হতে পারে। আসলে মানুষেরা মন্দের থেকে ভালোই বেশি এবং সেটা সমস্যা নয়। আসল সমস্যা হলো মানুষ কমবেশি অজ্ঞান এবং এই অজ্ঞানতাতেই আমরা পাপ ও পূণ্য নির্ণয় করি। নিকৃষ্টতম পাপ হলো সেই অজ্ঞানতা যে ভাবে সে সর্বজ্ঞ এবং অপর এক মানুষকে হত্যা করার অধিকার তাকে দেয়। খুনির আত্মা অন্ধ- যতক্ষণ সে পরিষ্কার আলোকে সব না দেখছে ততক্ষণ সত্যিকারের দয়ালুতা বা সত্য প্রেমের জন্ম সম্ভব নয়।’ তাহলে সত্যের পথ কী?

সত্যের পথের একটা দিশা আছে ডা. ব্যরনার রিয়্যঁর কথায়। জঁ তারু তাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি (ডা. রিয়্যঁ) তো ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, তবে আপনি কেন এত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন?’ শ্রমিকের সন্তান ছিলেন রিয়্যঁ। পরে অনেক কষ্ট করে ডাক্তার হয়েছেন। তার বদলটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। এখনো মৃত্যুর মুখে মানুষের কান্না সহ্য করতে পারেননি। রিয়্যঁ বলেন, ‘যদি এক সর্বশক্তিমান ঈশ্বরে উনি বিশ্বাস করতেন, তাহলে উনি রোগীদের চিকিৎসা করে নিরাময় করবার সকল চেষ্টা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিতেন। কিন্তু জগতে কেউই, এমনকি পানেলুও, যিনি মনে করেন তিনি সেই রকম ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, তিনিও সব চেষ্টা ত্যাগ করতে পারবেন না। আর এখানেই, রিয়্যঁর মতে, সত্যের পথ। সৃজনের প্রকটিত রূপের বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম।’

শিল্পীর তুলিতে আঁকা মহামারি প্লেগ

ইউরোপ-মার্কিন আমেরিকান দেশগুলোর সবকিছুর দায় রাষ্ট্রের ওপর ন্যাস্ত। শহুরে চাকচিক্যের ভেতর ভেঙে পড়েছে সামাজিক জীবন। পুঁজির প্রতাবে সবই পণ্য, এমনিক শিক্ষা-জনস্বাস্থ্যের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও। এদিক দিয়ে আফ্রিকা-এশিয়ার চিত্র ভিন্ন। পুঁজির প্রবল প্রতাপ থাকলেও জনস্বাস্থ্য-গণশিক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক হয়ে যায়নি। সামাজিক দায়বদ্ধতা এখনো উবে যায়নি। দুর্যোগে মানুষের সমন্বিত উদ্যোগগুলো চোখে পড়ে। কিন্তু এতে রাষ্ট্রের দায় মুক্তি দেয়া কিছু নেই, বরং ব্যর্থতাই প্রকাশ পায়। আরব অধ্যুষিত আলজেরিয়ার ওরান শহরেও স্বেচ্ছাশ্রমের সেবা সংস্থা তৈরি হয়। এর উৎসাহ পাওয়া যাবে রিয়্যঁ কথায়, ‘যেহেতু মৃত্যুই পৃথিবীকে পরিচালিত করে, অতএব এটা বোধহয় ঈশ্বরের ইচ্ছে যে, কেউ যেন তাঁকে বিশ্বাস না ক’রে সর্বশক্তি দিয়ে মৃত্যুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যেখানে তিনি নীরবে বসে আছেন সেই স্বর্গের দিকে তাকাবার কোনো প্রয়োজন নেই।’

যে মুহূর্তে এই লেখা সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে, ততোদিনে বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ তো গেল সরকারি হিসেব। নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব ব্যবস্থায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যাও জানা যে সম্ভব নয়, তা আগেই বলেছি। তবু কি মূল্য এই সংখ্যার! গণতন্ত্র বলতে যেসব দেশে নিছক ভোট দান বোঝানো হয়, বাকস্বাধীনতার প্রায়সও যখন ভূলুণ্ঠিত হয়, সেখানে এই মৃত্যু কোনো মূল্যই হয়তো বহন করবে না। অথচ দায়হীন সেই রাষ্ট্রেও একটা ‘ব্যক্তিগত মৃত্যু’ নিয়ে থমকে যায় একটা জীবন, একটা মৃত্যু নিয়েও রাষ্ট্রে কত লুকোচুরি। কথক রিয়্যঁর ‘মাথার মধ্যে সংখ্যাগুলি ঘুরতে থাকে- ইতিহাসে জানা ত্রিশটি প্লেগ মহামারিতে দশ কোটির মতো লোক মারা গিয়েছে। কী মানে এই সংখ্যার- দশ কোটি? যখন আমরা যুক্ত শুরু করি, মৃত্যু কাকে বলে আমরা আভাস পাই। আর যেহেতু, কেবল মৃতদেহটিকে দেখতে পাওয়া ছাড়া এক মৃত ব্যক্তির আর কোনো অস্তিত্ব নেই, ইতিহাসজুড়ে ছড়ানো এই দশ কোটি মরা শুধু এক কাল্পনিক ধুম্রজাল ছাড়া আর কিছুই নয়।’

শেষের আগে কথা বলা যাক, উপন্যাসের ক্ষুদ্র কিন্তু ইঙ্গিতবাহী চরিত্র মঁ কোতারকে নিয়ে। প্লেগ আসার শুরুর দিনগুলোতে শহরতলীর র্যু ফেদার্ব-এর একটি ছোট্ট বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। প্রতিবেশী পৌরকর্মী জোসেব গ্রাঁ’র চেষ্টায় সে যাত্রা রক্ষা পান। প্রচন্ড মানসিক চাপ থেকেই তিনি এ চেষ্টা করেছিলেন বলে ডাক্তারের ধারণা। প্লেগের সময়জুড়ে সমুদ্রবন্দর এলাকা ও অবরুদ্ধ ওরান শহরের দুই নাম্বারি কারবার করে বিস্তার অর্থ করেন তিনি। কিন্তু শেষে, প্লেগ থেকে মুক্তির পর ওরান শহর যখন আতোশবাজির উৎসব করছে, তখন র্যু ফেদার্ব-এর ছোট্টবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ, যেখানে কোতারকে দেখা যায় উন্মাদের মতো জানালা দিয়ে মেশিনগানে গুলি ছুড়ছে। কেন এই অবস্থা? আলবেয়ার কামু পরিষ্কার না বললেও এর মধ্যেই আছে দুর্যোগের অর্থনীতি। স্মরণ করা যেতে পারে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ মুহূর্তে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন প্রায় দেড় কোটি শ্রমিক বেকার, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে তারও কয়েকগুন মানুষ, তখনো বন্দরের ডকে মজুদ লাখ লাখ টন খাবার থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে অনাহারিদের খাবার দেয়নি ব্যবসায়ীরা। বরং আমাজন নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে আপেল, জব, গম, চাল। কালো বাজারি তো আছেই। এর একটা চিত্রকল্প পাওয়া যাবে মঁ কোতারের ভেতর। পুঁজির প্রবণতাই এমন, যখন তা অবিকশিত থাকবে তখন মানসিক চাপে আত্মহত্যা করতে পারে। কিন্তু যখন বিস্তর পুঁজি সঞ্চিত হবে তখন সে উন্মাদ হয়ে যায়; তখন মেশিনগান চালিয়ে হত্যা করতে বাধে না তার। তখন রাষ্ট্রের (উপন্যাসে পুলিশ) প্রয়োজন হয় তাকে নিষ্ক্রান্তের জন্য। তাও করতে হয় বিস্তর চাতুরি ও প্রাণহানীর (উপন্যাসে গুলিতে কুকুরের মৃত্যু) মধ্য দিয়ে।

ইতোমধ্যে লকডাউনে খাদ্যের জন্য আহাজারির পদশব্দ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে চাল চোরদের সংখ্যাও কম নয় সমাজে। এতেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেশে সম্পদের বৈষম্য। বিশ্বের অবস্থাও এই। অর্থনীতিতে নেমে এসেছে বড় রকমের ধস, খাদ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে দেশে দেশে। অনেক চিন্তক মনে করছেন, করোনার ভেতর দিয়ে বিশ্বে ক্ষমতার ভর কেন্দ্র বদলে যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীতে এত বড় বদল হয়তো দেখা যায়নি। এটা কি উচ্চাকাক্সিক্ষ চিন্তা? তবুও কি মানুষের চিন্তার বদল হবে? অহিংসা ও ঐক্যে আসতে পারবে বিভক্ত হয়ে পড়া বিশ্বের মানুষের মন? খুব বেশি আশান্বিত হওয়ার না থাকলেও, সেটা আগামীর জন্য তোলা থাক। গুটিয়ে আনা যাক এই লেখা।

আমরা যখন আলজেরিয়ার ছোট্ট শহর ওরানে ‘প্লেগ’ নিয়ে কথা বলছি, তখন ওই শহরের তৎকালীন ঔপনিবেশিক ফ্রান্সে চলছে করোনোর মহামারি। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও তাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই সেখানে তৈরি হচ্ছে প্রকাশ্য গণকবর। উপন্যাসেও লাশ নিয়ে সংকট দেখা যায়, সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে শেষ পর্যন্ত নেয়া হয় পোড়ানোর সিদ্ধান্ত। বর্তমান বিশ্ব এই ধরনের সংকটের দিকে যাচ্ছে। করোনায় মৃত্যু ঠেকাতে পারবে না ভেবে আগে থেকেই ইউক্রেনে খোঁড়া হয়েছে হাজার হাজার কবর। ইকুয়েডরে ঘরে ঘরে, রাস্তায় পড়ে থাকছে লাশ। গন্ধ ছড়াচ্ছে। কিন্তু কেউ ধরার সাহসটুকু পাচ্ছেন না। অথচ কিছু আগেই গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে মার্কিনের ইন্ধনে সে দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে উৎখাত করো হয়েছে। মৃত্যুর ধারা যদি অব্যহত থাকে তাহলে লাশের ভবিষ্যৎ কী? এই একটা ঐতিহাসিক চেহারা পাওয়া যাবে ডা. রিয়্যঁর বয়ানে। ‘ডাক্তার রিয়্যঁ খাঁড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন লুক্রেসিয়াস বর্ণিত সেই চিতাগুলোর কথা- এথেন্সের লোকেরা প্লেগ রোগীদের পোড়াবার জন্য সমুদ্রতীরে যেগুলি জ্বালাত। রাতে মৃতদেহগুলিকে আনা হতো, যথেষ্ট জায়গা না থাকার জন্য জীবিতরা মশাল নিয়ে মারামারি করবে তবু দেহগুলিকে সাগরতীরে ফেলে যাবে না। ডাক্তার কল্পনায় দেখতে পান- অন্ধকার শান্ত সমুদ্রের তীরে সেই লাল চিতাগুলি, বিবাদমান মশালগুলি থেকে ঠিকরে বেরোনো স্ফুলিঙ্গ, ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া অপেক্ষমান আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে। হ্যাঁ, এরকমটা হওয়া অসম্ভব নয়...।’ আমরাও সে দিকে ধাবিত হচ্ছি না তো!

ঔপন্যাসিক আলবেয়ার কামু আমাদের আগেই মনে করিয়ে দেন, ‘উল্লসিত জনগণ জানে না- এবং এ কথা বই-এ আছে- প্লেগ রোগের জীবাণু কখনো মরে না বা বিলুপ্ত হয় না। কয়েক দশক পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে পারে... তারপর একদিন মানুষকে শিক্ষা দেবার জন্য, তার সর্বনাশ করবার জন্য- সে আবার ইঁদুরগুলিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে এক সুখী শহরের রাস্তায় মরবার জন্য পাঠায়।’

তথ্যসূত্র:

১. প্লেগ, আলবেয়র কামু, ফরাসি থেকে অনুবাদ পবিত্র সেনগুপ্ত, প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০১২, এবং মুশায়েরা, কলকাতা।

২. The Myth of Sisyphus, Albert Camus, Trans. Justin O’brien, Penguin Classics 2013, UK.

৩. 3. Selected Essays & Notebooks Camus, Albert Camus, Edit & Trans. Philip Thody, Penguin Books 1979, UK.

৪. When Disease Comes, Rulers Grab More Power, Anne Applebaum, The Atlantic, 23 March ’20, 6:45 am

লেখক: গল্পকার, প্রাবন্ধিক

 

ঢাকা/তারা