ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

গোসলের ভালো ও খারাপ সময়

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৬-০৮-০১ ৯:১০:০১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৮-০৬ ১২:২১:৪৩ পিএম

প্রতীকী ছবি

আফরিনা ফেরদৌস : প্রতিদিন আমরা কত ধুলাবালি পার করি। সেজন্য নিজের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার একটা ব্যাপার থেকে যায়। এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিশেষভাবে সম্পাদন হয় গোসলের মাধ্যমে। 

 

নিয়মিত গোসল শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্যতা ধরে রাখার জন্যও প্রতিদিন গোসল করা দরকার। মানুষসহ বিশ্বের অনেক প্রাণীই গোসলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

 

গোসল তো প্রতিদিনই করছেন কিন্তু জানেন কী গোসলের সঠিক সময় কোনটি? কখন গোসল করা শরীরের জন্য ভালো আর কখন খারাপ। সময়ের ভিত্তিতে গোসলের বেশ কিছু ভালো দিক রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক।

 

সকালে গোসলের সুফল

 

* সতেজতা অনুভব: আমরা সাধারণত সকালের গোসলটাকে বেশি প্রাধান্য দেই। ঘুম থেকে উঠে গোসল করলে ঘুম ঘুম ভাব চলে যায়। শরীর ও মনে সতেজতা অনুভব হয়। সারাদিনের কাজের জন্য একটি উদ্যম তৈরি হয়।

 

* রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়: সকালের গোসল শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। অর্থাৎ সকালের গোসলের মাধ্যমে শরীরে রক্ত চলাচলের গতি বাড়ে এবং তাতে কাজ করার শক্তি উৎপন্ন হয়।

 

* মাংসপেশির জড়তা কমায়: হালকা গরম পানি দিয়ে সকালে গোসল করলে মাংসপেশির জড়তা কমে যায়। রাতে অনেকক্ষণ ঘুমানোর পর সকালে উঠে কোনো কিছু করতে গেলে অনেক সময় মাংসপেশির ভেতরে ব্যথা অনুভব হয়। সকালের গোসল দিতে পারে এই মাংসপেশির ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে। তবে কোনো দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে গোসলের কোনো ভূমিকা নেই।

 

* তৈলাক্ত ত্বকের সমাধান: যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জন্য সকালটা খুব একটা ভালো হয় না কারণ সকালে মুখে তেল তেলে ভাব সব থেকে বেশি থাকে। তাই সকালের গোসল আপনার মুখের তৈলাক্ত ভাব কমাতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য নির্দিষ্ট সাবান বা ফেসওয়াস বা ফেসপ্যাক ব্যবহার করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

 

সন্ধ্যায় গোসলের সুফল

 

* উচ্চ রক্তচাপ কমানো: সন্ধ্যা বেলার গোসল আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। সারাদিনের ক্লান্তি ভরা কাজের পর সন্ধ্যার গোসল আবারো শরীরকে সতেজ করে তোলে। এতে মেজাজ খিটখিটে হওয়া থেকে রোধ হয়।

 

* তাড়াতাড়ি ঘুম: সন্ধ্যার গোসল শরীরে এক ধরনের প্রশান্তি প্রদান করে যার ফলে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে। এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের জন্যও সন্ধ্যার গোসল বেশ কার্যকর।

 

* ধুলা ময়লা পরিষ্কার: সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন আমরা বাড়ি ফিরি তখন আমাদের শরীর ধুলাবালি ময়লা পরিপূর্ণ থাকে। গোসল সেই সব কিছু থেকে আমাদের রক্ষা করে। এছাড়া বাইরে থেকে ফিরে গোসল করলে মুখে ব্রনের পরিমাণও কমে যায়, কারণ ব্রণ হয় ময়লা থেকে কিন্তু গোসলের মাধ্যমে শরীরের সব ময়লা বের হয়ে যায়।

 

যে সময়গুলোতে গোসল বর্জন করবেন

 

খাওয়ার পর
খাওয়ার পর পরই অর্থাৎ ভরা পেটে গোসল করা ঠিক নয়। এতে খাবার হজমে সমস্যা দেখা দেয়।

 

বাইরে থেকে ফিরে
বাইরে থেকে বাসায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে গোসল করা ঠিক নয়। কারণ আপনি তখন ক্লান্ত থাকেন। অতিরিক্ত ক্লান্ত অবস্থায় গোসল করলে শরীর আরো ক্লান্ত লাগে। কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিয়ে তারপর গোসল করুন।

 

রান্নার পর
রান্না করতে গেলে আমরা ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যায়। তাই রান্না করার পর পরই গোসল করা ঠিক নয়। অর্থাৎ ঘামানো অবস্থায় গোসল করা ঠিক নয়। এতে শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্য বজায় থাকে না।

 

ব্যায়ামের পর
ব্যায়ামের পর শরীর ঘেমে যায়। আর সে কারণে ব্যায়ামের পর পরই গোসল করবেন না। এতে করে শরীর আরো দুর্বল লাগবে।

 

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ আগস্ট ২০১৬/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন