ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

১৮ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৪ ৯:২০:৩৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৪-১৪ ১২:২৬:০৯ পিএম

মামুন খান : ১৮ বছরেও শেষ হয়নি রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচারকাজ।

১৮ বছর আগে পয়লা বৈশাখে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় দশজন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হলেও সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে বিস্ফোরক আইনের অপর মামলাটি। দফায় দফায় সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও সাক্ষী হাজির করতে পারছে না পুলিশ। এতে ঝুলে আছে মামলাটির বিচারকাজ।

বিচারাধীন বিস্ফোরক আইনের মামলা সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘সাক্ষীদের অবহেলায় মূলত এ মামলার বিচার কাজ এগোচ্ছে না। সাক্ষীদের প্রতি আদালত থেকে সমন ও ওয়ারেন্ট পাঠানো হচ্ছে। তবুও তাদের আদালতে হাজির করতে পারছে না পুলিশ।’

এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আবদুল্লাহ ভূঞা বলেন, ‘চার্জশিট হওয়ার পর বিস্ফোরক আইনের মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ এবং হত্যা মামলাটি তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২টি মামলা যেহেতু একই ঘটনার তাই তাদের ট্রাইব্যুনাল ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলা ২টি একই সঙ্গে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি পাঠান। কিন্তু রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে ৪ বছর কোনো নির্দেশনা না আসায় বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার স্থগিত ছিল। তবে হত্যা মামলায় রায় হয়ে যাওয়ায় তারা বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার শুর করেছেন। কিন্তু সাক্ষী না আসায় বিচারে ধীরগতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ত্বরান্বিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আদালত প্রতিনিয়তই সাক্ষীদের প্রতি সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে চলেছেন। কিন্তু পুলিশ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে পারছে না । সাক্ষীদের জানানো হচ্ছে কিন্তু তারা আসছে না।’ সাক্ষী হাজিরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকা কারও জন্যই কাম্য নয়। সাক্ষী হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পুলিশ তা না করে দায়িত্বে অবহেলা করছে।’

রমনায় বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে ২টি অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে রায় হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে বিচারাধীন ওই মামলার বিচারে কোনো অগ্রগতি নেই।

২০০৯ সালে মামলাটিতে ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য হলেও মাঝে প্রায় ৪ বছর মামলাটির বিচার স্থগিত ছিল। হত্যা মামলার রায়ের পর ২০১৪ সালে মামলাটির বিচার পুনরায় শুরু হলে এখন চার্জশিটভূক্ত ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৫ এপ্রিল মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। মামলাটিতে সর্বশেষ গত বছরের ১৭ জুন মো. আলাউদ্দিন খান নামে এক ব্যক্তি সাক্ষ্য দেন। এরপর আর কোনো সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি।

ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় মামলাটিতে তিন সাক্ষীর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এরা হলেন- মিরপুর-২ এর বড়বাগের ১০/এ পপুলার হাউজিং এর মশিউর রহমানের ছেলে ২ নং সাক্ষী মাহমুদ। হাজারীবাগের ৩৪/বি  এর মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে ১৮ নং সাক্ষী মো. শাহাদৎ হোসেন এবং ১৯ নং সাক্ষী মিরপুর-২ এর বড়বাগের ১০/এ পপুলার হাউজিং এর ইমদাদুল হকের ছেলে সোহেল।

২০০১ সালের পয়লা বৈশাখের ভোরে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের স্থলে দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে একটি এবং এর পরপরই আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই সাত ব্যক্তি প্রাণ হারান এবং ২০-২৫ জন আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরো তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। এতে ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

দুটি মামলার মধ্যে প্রায় ১৩ বছর পর হত্যা মামলার রায় হয় ২০১৪ সালের ২৩ জুন। রায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আব্দুল মান্নান, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলালউদ্দিন, মো. তাজউদ্দিন, আলহাজ মাওলানা হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আব্দুল হাই।

হামলায় যারা নিহত হন তারা হলেন-চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার দুবলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩৫), বরগুনা জেলার বামনা থানার বাইজোরা গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে এনায়েত হোসেনের ছেলে জসিম (২৩), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার বিরামকান্দি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এমরান (৩২), পটুয়াখালির সদর থানার ছোট বিমাই গ্রামের মৃত অনবী ভূষণ সরকারের ছেলে শ্যামলী পরিবহনের অসীম চন্দ্র সরকার (২৫), পটুয়াখালি জেলার বাউফল থানার কাজীপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম গাজীর ছেলে মামুন (২৫), একই গ্রামের সামছুল হক কাজীর ছেলে রিয়াজ (২৫), একই এলাকার আবুল হাশেম গাজীর মেয়ে শিল্পী (২০), নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার রথি রুহিত রামপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ইসমাইল হোসেন স্বপন (২৭), ঢাকার দোহার থানার চরনটসোলা গ্রামের মৃত আয়নাল খাঁর ছেলে আফসার (৩৫) ও অপর এক জন অজ্ঞাত পুরুষ।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ এপ্রিল ২০১৯/মামুন খান/ইভা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন