ঢাকা     সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে ৭২ প্রাথমিকে

মো.শামীম কাদির || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:২৯, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে ৭২ প্রাথমিকে

জয়পুরহাট সংবাদদাতা : জয়পুরহাটের ৩৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

প্রখর রোদ আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কিংবা ছাদ খসে পড়ার ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অর্থাভাবে সংস্কারও করতে পারছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  রয়েছে শ্রেণিকক্ষের সংকট। ফলে নিরুপায় হয়েই ঝুঁকি নিয়ে ওসব ভবনে চলছে ক্লাস। আবার ঝুঁকির কারণে হ্রাস পেয়েছে অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো তালিকা করে সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭২টি। যার মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে কোনও কোনও বিদ্যালয় ভবনের পলেস্তারা খসে মরিচা পড়া রড বের হয়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।

সরেজমিনে এ জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার হোপপীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত ভবনের এক পাশে অফিস ঘর। আরেক পাশেই চলছে শিশুদের পাঠদান। অথচ ভবনটির অবস্থা এতটায় নাজুক যে, পলেস্তার খসে রড বের হয়ে গেছে। ভবনটির দরজা, জানালা ভাঙা।

ঝুঁকির কথা বলতেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এটিকে অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। তবে কক্ষ সংকটের কারণে পরিত্যক্ত ভবনের একটিতে প্রাক-প্রাথমিকের পাঠদান এবং অন্যটিতে অফিস করা হয়েছে। আর টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে অন্য শ্রেণির পাঠদান চলছে।’

জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি, মাটির স্যাঁতস্যাঁতে মেঝে, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাঠদান চলছে জয়পুরহাট পৌর সদরের চক গোপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭১ জন হলেও শিক্ষকদের দাবি বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।

এই স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম  বলেন, ‘বৃষ্টির সময় টিন চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। মাটির মেঝেতে পানি পড়ে কাদা হয়ে যায়। ফলে পড়াতে পারেন না শিক্ষকরা। প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষটি টিনের হওয়ায় গরমের সময় সেখানে টেকা দায় হয়ে যায়। তাই শিশুদের বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায় না বিদ্যালয়ে।’

আক্কেলপুরের দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এ বিদ্যালয়ে টিন সেডের একটি পাকা ও জরাজীর্ণ মাটির একটি ভবনে চলছে পাঠদান। মাটির ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেয়াল ফেঁটে গেছে। কোনও কোনও জায়গায় গর্ত হয়ে গেছে। দরজা জানালার অবস্থাও খুব খারাপ। বর্ষার সময় টিন দিয়ে পানি পড়ে। আবার ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে পড়ানো বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান জানায়, বৃষ্টি হলে তাদের আর ক্লাস হয় না। বিদ্যালয়ের সবগুলো কক্ষেই পানি পড়ে। আকাশে মেঘ দেখলেই বাবা-মা স্কুলে আসতে দিতে চান না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহেনা বেগম বলেন, ‘অনেক পুরনো এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন হবে হবে করে হচ্ছে না। বেশ কিছুদিন আগে নতুন ভবনের জন্য মাটি পরীক্ষাও করা হয়েছে। কিন্তু ভবন না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাটির ঘরে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছি।’

জয়পুরহাট সদর উপজেলার হালট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’টি ভবনের একটি ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যটিতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তিনটি কক্ষে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৪০ জন।

এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাদিরা মুশফিকা বানু বলেন, ‘স্কুল দেখতে সুন্দর না হলে শিশুরা আসতে চায় না। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রঙ করা হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে নতুন ভবন। কিন্তু ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থী বই নিয়ে ক্লাসে থাকতে পারে না। বই খাতা ভিজে যায়।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাখি তোকদার বলেন, ‘সুষ্ঠু পরিবেশ না হলে শিক্ষার মান বজায় রাখা যায় না। কিন্তু ভবনের ভগ্নদশার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। এখন ঝড়-বৃষ্টির সময়। তাই প্রতিটি মূহুর্ত আমরা শিশুদের নিয়ে ভয়ে থাকি।’

এ প্রসঙ্গে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, ‘স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের সহযোগিতায় জেলার ৭২টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবস্থা ভেদে সংস্কার বা নতুন করে ভবন নির্মাণের সুপারিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি খুব দ্রুত ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

 

রাইজিংবিডি/ জয়পুরহাট /১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/মো.শামীম কাদির/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়